ঢাকা ০১:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬

ভিয়েতনামে অবৈধ বাংলাদেশিদের সরাসরি ইমিগ্রেশনে যোগাযোগের নির্দেশ, সতর্ক করল দূতাবাস

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ভিয়েতনামে বিভিন্ন উপায়ে গিয়ে অবৈধ বা প্রথা বহির্ভূতভাবে অবস্থান করা বাংলাদেশিদের নিজ দায়িত্বে ও বৈধ উপায়ে দেশে ফিরে আসার জন্য একটি বিশেষ সতর্কতামূলক ও দিকনির্দেশনামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে হ্যানয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। অনিয়মিতভাবে থাকা নাগরিকরা যাতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানি বা প্রতারণার শিকার না হন, সে লক্ষ্যে সরাসরি ভিয়েতনামের সরকারি খাতায় জরিমানা প্রদানপূর্বক নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের এই আহ্বান জানানো হয়েছে।

গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) হ্যানয়ের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে গণমাধ্যম ও প্রবাসী সামাজিক মাধ্যমে এই জরুরি বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ভিয়েতনামে অবৈধভাবে অবস্থানরত কোনো বাংলাদেশি যদি দেশে ফিরতে চান, তবে তাঁকে ভিয়েতনামের ইমিগ্রেশন বিভাগের নির্ধারিত নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। এ সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন অফিস একটি নির্দিষ্ট জরিমানার অঙ্ক উল্লেখ করে একটি অফিসিয়াল সরকারি চিঠি বা নোটিশ প্রদান করে। পরবর্তীতে ইমিগ্রেশনের প্রদত্ত নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ওই জরিমানার অর্থ সঠিকভাবে জমা করে ইমিগ্রেশন থেকে ইস্যুকৃত ‘এক্সিট পাস’ সংগ্রহ করতে হবে। এই এক্সিট পাস ও নিজ মূল পাসপোর্ট ব্যবহার করেই অভিবাসীরা নিরাপদে বাংলাদেশে ফিরে আসতে পারবেন।

দূতাবাস তাদের বিজ্ঞপ্তিতে সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছে সরাসরি যোগাযোগের ওপর। কোনো অবস্থাতেই অন্য কোনো বাংলাদেশি বা ভিয়েতনামী মধ্যস্বত্বভোগী, দালাল বা তৃতীয় কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে যোগাযোগ না করার জন্য কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন করে প্রতারিত হওয়া থেকে বাঁচতে ভুক্তভোগীদের নিজেদের সরাসরি নিকটস্থ পুলিশ স্টেশন অথবা ইমিগ্রেশন অফিসে রিপোর্ট করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা গেছে যে, একশ্রেণির অসাধু বাংলাদেশি ও স্থানীয় দালাল চক্র অবৈধ অভিবাসীদের দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার নাম করে এবং ক্ষেত্রবিশেষে বাংলাদেশ দূতাবাসের নাম ভাঙিয়ে বিপুল পরিমাণের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে প্রতারণা করে আসছে। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দূতাবাস জানিয়েছে, পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা না থাকলে প্রবাসীদের দেশে ফেরার সুবিধার্থে কেবল একটি ‘ট্রাভেল পারমিট’ ইস্যু করা ছাড়া এ সংক্রান্ত কোনো অর্থ লেনদেনের সাথে দূতাবাসের ন্যূনতম সম্পর্ক নেই। তাছাড়া অসচ্ছল অভিবাসীদের ক্ষেত্রে ১০ মার্কিন ডলারের সরকারি ফি-ও অধিকাংশ সময় মওকুফ করে দেয় দূতাবাস।

সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে, প্রয়োজনীয় যাবতীয় জরিমানার টাকা সরাসরি ভিয়েতনাম সরকারের নির্দিষ্ট কোষাগার বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়, যা কোনো ব্যক্তির হাতে দেওয়ার সুযোগ নেই। এ ধরনের প্রতারণা বা অসাধু চক্রের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ থাকলে তা সরাসরি দূতাবাসের অফিসিয়াল ই-মেইল ঠিকানায় (mission.hanoi@mofa.gov.bd) পাঠাতে বলা হয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশ সফর শিগগিরই: বিশেষ দূত

ভিয়েতনামে অবৈধ বাংলাদেশিদের সরাসরি ইমিগ্রেশনে যোগাযোগের নির্দেশ, সতর্ক করল দূতাবাস

আপডেট সময় : ১১:২১:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ভিয়েতনামে বিভিন্ন উপায়ে গিয়ে অবৈধ বা প্রথা বহির্ভূতভাবে অবস্থান করা বাংলাদেশিদের নিজ দায়িত্বে ও বৈধ উপায়ে দেশে ফিরে আসার জন্য একটি বিশেষ সতর্কতামূলক ও দিকনির্দেশনামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে হ্যানয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। অনিয়মিতভাবে থাকা নাগরিকরা যাতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানি বা প্রতারণার শিকার না হন, সে লক্ষ্যে সরাসরি ভিয়েতনামের সরকারি খাতায় জরিমানা প্রদানপূর্বক নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের এই আহ্বান জানানো হয়েছে।

গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) হ্যানয়ের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে গণমাধ্যম ও প্রবাসী সামাজিক মাধ্যমে এই জরুরি বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ভিয়েতনামে অবৈধভাবে অবস্থানরত কোনো বাংলাদেশি যদি দেশে ফিরতে চান, তবে তাঁকে ভিয়েতনামের ইমিগ্রেশন বিভাগের নির্ধারিত নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। এ সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন অফিস একটি নির্দিষ্ট জরিমানার অঙ্ক উল্লেখ করে একটি অফিসিয়াল সরকারি চিঠি বা নোটিশ প্রদান করে। পরবর্তীতে ইমিগ্রেশনের প্রদত্ত নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ওই জরিমানার অর্থ সঠিকভাবে জমা করে ইমিগ্রেশন থেকে ইস্যুকৃত ‘এক্সিট পাস’ সংগ্রহ করতে হবে। এই এক্সিট পাস ও নিজ মূল পাসপোর্ট ব্যবহার করেই অভিবাসীরা নিরাপদে বাংলাদেশে ফিরে আসতে পারবেন।

দূতাবাস তাদের বিজ্ঞপ্তিতে সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছে সরাসরি যোগাযোগের ওপর। কোনো অবস্থাতেই অন্য কোনো বাংলাদেশি বা ভিয়েতনামী মধ্যস্বত্বভোগী, দালাল বা তৃতীয় কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে যোগাযোগ না করার জন্য কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন করে প্রতারিত হওয়া থেকে বাঁচতে ভুক্তভোগীদের নিজেদের সরাসরি নিকটস্থ পুলিশ স্টেশন অথবা ইমিগ্রেশন অফিসে রিপোর্ট করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা গেছে যে, একশ্রেণির অসাধু বাংলাদেশি ও স্থানীয় দালাল চক্র অবৈধ অভিবাসীদের দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার নাম করে এবং ক্ষেত্রবিশেষে বাংলাদেশ দূতাবাসের নাম ভাঙিয়ে বিপুল পরিমাণের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে প্রতারণা করে আসছে। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দূতাবাস জানিয়েছে, পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা না থাকলে প্রবাসীদের দেশে ফেরার সুবিধার্থে কেবল একটি ‘ট্রাভেল পারমিট’ ইস্যু করা ছাড়া এ সংক্রান্ত কোনো অর্থ লেনদেনের সাথে দূতাবাসের ন্যূনতম সম্পর্ক নেই। তাছাড়া অসচ্ছল অভিবাসীদের ক্ষেত্রে ১০ মার্কিন ডলারের সরকারি ফি-ও অধিকাংশ সময় মওকুফ করে দেয় দূতাবাস।

সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে, প্রয়োজনীয় যাবতীয় জরিমানার টাকা সরাসরি ভিয়েতনাম সরকারের নির্দিষ্ট কোষাগার বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়, যা কোনো ব্যক্তির হাতে দেওয়ার সুযোগ নেই। এ ধরনের প্রতারণা বা অসাধু চক্রের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ থাকলে তা সরাসরি দূতাবাসের অফিসিয়াল ই-মেইল ঠিকানায় (mission.hanoi@mofa.gov.bd) পাঠাতে বলা হয়েছে।