মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬

কুবির বিজয়-২৪ হলে সিট বণ্টনে নতুন বিতর্ক: ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে গণরুম ফেরানোর অভিযোগ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বিজয়-২৪ হলে নির্ধারিত আবাসন নীতিমালা অমান্য করে নিয়মবহির্ভূতভাবে ২৪ জন শিক্ষার্থীকে সিট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। গত ২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে আবাসিক হলগুলো থেকে ‘গণরুম সংস্কৃতি’ বিলুপ্ত ঘোষণা করে মেধা, জ্যেষ্ঠতা, দূরত্ব ও আর্থিক স্বচ্ছলতার ওপর ভিত্তি করে নতুন নীতিমালা চালু করেছিল। তবে সম্প্রতি হলের দুটি নির্দিষ্ট কক্ষে ঢালাওভাবে শিক্ষার্থী তোলায় আবারও পুরনো গেস্টরুম ও গণরুম কালচার ফিরে আসার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের নেতারা।

হল প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বিজয়-২৪ হলের ১০১ ও ১০৮ নম্বর কক্ষে ১২ জন করে মোট ২৪ জন শিক্ষার্থীকে রাখা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ১০৮ নম্বর কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. আবুল বাশারের অনুসারী হিসেবে পরিচিত কর্মী তুহিব মাহমুদের মাধ্যমে ১২ জন এবং ১০১ নম্বর কক্ষে যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাসিম বিল্লাহ রিফাত পাটোয়ারীর মাধ্যমে আরও ১২ জন শিক্ষার্থীকে সিট দেওয়া হয়েছে। সরেজমিনে ওই কক্ষে ওঠা একাধিক নবীন শিক্ষার্থী স্বীকার করেছেন যে, তারা প্রশাসনিক ভাইভা বা তালিকার মাধ্যমে নয়, বরং রাজনৈতিক ‘বড় ভাইদের’ মাধ্যমে সিট পেয়েছেন। এমনকি তাদের অনেকে হল প্রভোস্টের নামও বলতে পারেননি।

অভিযোগের বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আবুল বাশার এবং কর্মী তুহিব মাহমুদ দাবি করেছেন যে, কোনো অবৈধ উপায়ে বা গণরুম বানাতে তারা শিক্ষার্থীদের তোলেননি; বরং আর্থিক সংকটে থাকা অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহায়তায় প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করে সিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে বিজয়-২৪ হলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন।

অন্যদিকে বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট মাহমুদুল হাসান খান ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বাশার ও রিফাত পাটোয়ারীর দুই গ্রুপ ১০১ ও ১০৮ নম্বর কক্ষে ১২ জন করে ২৪ জন শিক্ষার্থীকে তুলেছে। তারা হলে শিক্ষার্থী ওঠানোর আগে প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেয়নি। তবে পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে বিষয়টি সমন্বয় করা হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যায়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরিফুল করিম এবং শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ উভয়েই পুরো ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে নিয়ম মেনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে হলে শিক্ষার্থী ওঠানোর এই ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ এবং বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ বলে আখ্যা দিয়েছে বিরোধী ও অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলো। ইসলামী ছাত্রশিবির, জাতীয় ছাত্রশক্তি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ তুলেছেন যে, আবাসন সংকটকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে আবারও গণরুম ও দখলদারিত্বের রাজনীতি চালু করার চেষ্টা চলছে। তাঁরা অনতিবিলম্বে দলীয় প্রভাবমুক্ত হয়ে মেধার ভিত্তিতে বৈধ আবাসন প্রক্রিয়া সচল রাখার দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারের ভুল নীতি ও সিন্ডিকেটের কবলে আবাসন শিল্প: উদ্যোক্তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

কুবির বিজয়-২৪ হলে সিট বণ্টনে নতুন বিতর্ক: ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে গণরুম ফেরানোর অভিযোগ

আপডেট সময় : ১০:০১:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বিজয়-২৪ হলে নির্ধারিত আবাসন নীতিমালা অমান্য করে নিয়মবহির্ভূতভাবে ২৪ জন শিক্ষার্থীকে সিট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। গত ২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে আবাসিক হলগুলো থেকে ‘গণরুম সংস্কৃতি’ বিলুপ্ত ঘোষণা করে মেধা, জ্যেষ্ঠতা, দূরত্ব ও আর্থিক স্বচ্ছলতার ওপর ভিত্তি করে নতুন নীতিমালা চালু করেছিল। তবে সম্প্রতি হলের দুটি নির্দিষ্ট কক্ষে ঢালাওভাবে শিক্ষার্থী তোলায় আবারও পুরনো গেস্টরুম ও গণরুম কালচার ফিরে আসার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের নেতারা।

হল প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বিজয়-২৪ হলের ১০১ ও ১০৮ নম্বর কক্ষে ১২ জন করে মোট ২৪ জন শিক্ষার্থীকে রাখা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ১০৮ নম্বর কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. আবুল বাশারের অনুসারী হিসেবে পরিচিত কর্মী তুহিব মাহমুদের মাধ্যমে ১২ জন এবং ১০১ নম্বর কক্ষে যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাসিম বিল্লাহ রিফাত পাটোয়ারীর মাধ্যমে আরও ১২ জন শিক্ষার্থীকে সিট দেওয়া হয়েছে। সরেজমিনে ওই কক্ষে ওঠা একাধিক নবীন শিক্ষার্থী স্বীকার করেছেন যে, তারা প্রশাসনিক ভাইভা বা তালিকার মাধ্যমে নয়, বরং রাজনৈতিক ‘বড় ভাইদের’ মাধ্যমে সিট পেয়েছেন। এমনকি তাদের অনেকে হল প্রভোস্টের নামও বলতে পারেননি।

অভিযোগের বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আবুল বাশার এবং কর্মী তুহিব মাহমুদ দাবি করেছেন যে, কোনো অবৈধ উপায়ে বা গণরুম বানাতে তারা শিক্ষার্থীদের তোলেননি; বরং আর্থিক সংকটে থাকা অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহায়তায় প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করে সিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে বিজয়-২৪ হলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন।

অন্যদিকে বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট মাহমুদুল হাসান খান ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বাশার ও রিফাত পাটোয়ারীর দুই গ্রুপ ১০১ ও ১০৮ নম্বর কক্ষে ১২ জন করে ২৪ জন শিক্ষার্থীকে তুলেছে। তারা হলে শিক্ষার্থী ওঠানোর আগে প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেয়নি। তবে পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে বিষয়টি সমন্বয় করা হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যায়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরিফুল করিম এবং শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ উভয়েই পুরো ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে নিয়ম মেনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে হলে শিক্ষার্থী ওঠানোর এই ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ এবং বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ বলে আখ্যা দিয়েছে বিরোধী ও অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলো। ইসলামী ছাত্রশিবির, জাতীয় ছাত্রশক্তি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ তুলেছেন যে, আবাসন সংকটকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে আবারও গণরুম ও দখলদারিত্বের রাজনীতি চালু করার চেষ্টা চলছে। তাঁরা অনতিবিলম্বে দলীয় প্রভাবমুক্ত হয়ে মেধার ভিত্তিতে বৈধ আবাসন প্রক্রিয়া সচল রাখার দাবি জানিয়েছেন।