মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০১:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬

. ‘জিন বলল মা বেঁচে আছে’: জামালপুরে দাফনের ১২ ঘণ্টা পর কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন!

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় অলৌকিক ও অবিশ্বাস্য এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো জেলাজুড়ে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জিনের আছর ও অলৌকিক নির্দেশ দাবি করে দাফনের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর কবর খুঁড়ে হালিমা বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধা নারীর মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। শনিবার (১ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায় চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটে।

নিহত হালিমা বেগম নয়াপাড়া গ্রামের মৃত সোহরাব আকন্দের স্ত্রী ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালের দিকে হালিমা বেগম বার্ধক্যজনিত বা স্বাভাবিক কারণে মৃত্যুবরণ করলে দুপুরে ধর্মীয় রীতি মেনে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। তবে দাফন সম্পন্ন হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর থেকেই নিহতের ছেলে ও মেয়ের মধ্যে হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করা যায়। একপর্যায়ে স্বজনেরা দাবি করেন, তাঁদের ওপর জিনের আছর হয়েছে এবং জিনের পক্ষ থেকে অলৌকিক নির্দেশ এসেছে যে হালিমা বেগম এখনো বেঁচে আছেন এবং তাঁকে দ্রুত কবর থেকে তুলতে হবে।

এই অবৈজ্ঞানিক ও অদ্ভুত দাবির ওপর ভিত্তি করে শনিবার গভীর রাতে গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে কবর খুঁড়ে বৃদ্ধার মরদেহ বের করা হয়। প্রথমে তাঁকে স্থানীয় মেলান্দহ এলাকায় নেওয়া হলেও স্বজনদের সন্দেহ দূর না হওয়ায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে জামালপুর জেলা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে কর্মরত চিকিৎসকেরা তাৎক্ষণিকভাবে ইসিজিসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পাদন করেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করে জানান যে উক্ত নারী অনেক আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন।

চিকিৎসকদের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণের পর পরিবারের সদস্যরা বিষণ্ণ মনে মরদেহ পুনরায় নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যান। এই স্পর্শকাতর ও অবিশ্বাস্য ঘটনাটি নিয়ে গণমাধ্যম বা ক্যামেরার সামনে নিহতের পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসকদের কেউই কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে সম্মত হননি। তবে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকা জুড়ে তীব্র আলোচনা ও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরায় র‍্যাবের কথিত ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনালের বিচারক দল, মিলল নির্যাতন কক্ষের আলামত

. ‘জিন বলল মা বেঁচে আছে’: জামালপুরে দাফনের ১২ ঘণ্টা পর কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন!

আপডেট সময় : ১১:২৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় অলৌকিক ও অবিশ্বাস্য এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো জেলাজুড়ে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জিনের আছর ও অলৌকিক নির্দেশ দাবি করে দাফনের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর কবর খুঁড়ে হালিমা বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধা নারীর মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। শনিবার (১ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায় চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটে।

নিহত হালিমা বেগম নয়াপাড়া গ্রামের মৃত সোহরাব আকন্দের স্ত্রী ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালের দিকে হালিমা বেগম বার্ধক্যজনিত বা স্বাভাবিক কারণে মৃত্যুবরণ করলে দুপুরে ধর্মীয় রীতি মেনে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। তবে দাফন সম্পন্ন হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর থেকেই নিহতের ছেলে ও মেয়ের মধ্যে হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করা যায়। একপর্যায়ে স্বজনেরা দাবি করেন, তাঁদের ওপর জিনের আছর হয়েছে এবং জিনের পক্ষ থেকে অলৌকিক নির্দেশ এসেছে যে হালিমা বেগম এখনো বেঁচে আছেন এবং তাঁকে দ্রুত কবর থেকে তুলতে হবে।

এই অবৈজ্ঞানিক ও অদ্ভুত দাবির ওপর ভিত্তি করে শনিবার গভীর রাতে গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে কবর খুঁড়ে বৃদ্ধার মরদেহ বের করা হয়। প্রথমে তাঁকে স্থানীয় মেলান্দহ এলাকায় নেওয়া হলেও স্বজনদের সন্দেহ দূর না হওয়ায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে জামালপুর জেলা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে কর্মরত চিকিৎসকেরা তাৎক্ষণিকভাবে ইসিজিসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পাদন করেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করে জানান যে উক্ত নারী অনেক আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন।

চিকিৎসকদের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণের পর পরিবারের সদস্যরা বিষণ্ণ মনে মরদেহ পুনরায় নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যান। এই স্পর্শকাতর ও অবিশ্বাস্য ঘটনাটি নিয়ে গণমাধ্যম বা ক্যামেরার সামনে নিহতের পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসকদের কেউই কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে সম্মত হননি। তবে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকা জুড়ে তীব্র আলোচনা ও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে।