মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৪:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬

আদিয়ালা কারাগারে অসুস্থ ইমরান খান, স্বাস্থ্যগত কারণে পেতে পারেন রাজনৈতিক মুক্তি

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর ৭৩ বছর বয়সী জনপ্রিয় রাজনৈতিক শীর্ষ নেতা ইমরান খান গত ২০২৩ সালে তথাকথিত দুর্নীতির একাধিক মামলায় গ্রেফতার হয়ে রাওয়ালপিন্ডির সুরক্ষিত আদিয়ালা কারাগারে তিন বছর ধরে কারাবন্দি জীবনযাপন করছেন। তবে মূলত দেশটির ক্ষমতাধর সামরিক বাহিনীর সাথে প্রকাশ্য রাজনৈতিক বিরোধে জড়িয়ে পড়ার কারণেই যে তাঁকে বছরের পর বছর জনসমক্ষ থেকে দূরে রাখা হয়েছে, তা সর্বজনবিদিত। সম্প্রতি তাঁর চোখের অস্ত্রোপচার এবং দীর্ঘ সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে স্বজনদের সাথে সম্পুর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার দরুন তাঁর পরিবারের সদস্য ও দলের শীর্ষ নেতারা শারীরিক অবস্থার চরম অবনতির আশঙ্কা প্রকাশ করে জরুরি মুক্তির তাগিদ দিয়েছেন।

ইমরান খানের দুই সন্তান সুলায়মান খান ও কাসিম খান যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য অবজারভারকে এক যৌথ বিবৃতিতে জানান যে, তাদের বাবাকে দীর্ঘদিন যাবত বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে একাকী রাখা হয়েছে এবং স্বাধীনভাবে আইনজীবীদের সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হচ্ছে না। একইভাবে তাঁর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা সাইয়েদ জুলফি বুখারিও মানবিক বিবেচনায় অবিলম্বে স্বাস্থ্যগত কারণে ইমরান খানকে মুক্তির কড়া দাবি তোলেন। রাজনৈতিক অচলবস্থা ও দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা নিরসনে একটি তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমেই এই মুক্তির সমঝোতার গোপন আলোচনা এগোচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

ইতিপূর্বে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০১৯ সালে ইমরান খানের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী নওয়াজ শরিফকেও অনুরূপভাবে কারাবন্দি অবস্থায় চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাওয়ার প্রশাসনিক অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, নওয়াজ শরিফের মতো ইমরান খানের ক্ষেত্রেও যদি কোনো সমঝোতার রাস্তা বের হয়, তবে তাতে দেশ ত্যাগ করে বিদেশে অবস্থান করা, দীর্ঘমেয়াদে রাজনীতি থেকে দূরে থাকা এবং সামরিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ নীরব থাকার মতো একাধিক কঠোর শর্ত অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

তবে ১৯৯২ সালে ক্রিকেট বিশ্বকাপজয়ী সাবেক তারকা অধিনায়ক ও আপসহীন মনোভাবাপন্ন ইমরান খান এসব শর্ত মেনে রাজনৈতিক সন্ন্যাস নেবেন কি না, তা নিয়ে চরম সংশয় প্রকাশ করেছেন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষী ও আইনজীবীরা। মানবাধিকার কর্মী ক্লাইভ স্ট্যাফোর্ড স্মিথ মন্তব্য করেন যে, ইমরান খান অত্যন্ত একগুঁয়ে মানুষ হলেও তাঁর জীবন রক্ষার্থে এই রাজনৈতিক সমঝোতা গ্রহণ করা উচিত। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মুক্তি এখন এক জটিল ও স্পর্শকাতর আন্তর্জাতিক সমীকরণে পরিণত হয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

মোটরযানে হুটার ও হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার নিয়ে কড়া সতর্কতা

আদিয়ালা কারাগারে অসুস্থ ইমরান খান, স্বাস্থ্যগত কারণে পেতে পারেন রাজনৈতিক মুক্তি

আপডেট সময় : ০৩:০৬:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর ৭৩ বছর বয়সী জনপ্রিয় রাজনৈতিক শীর্ষ নেতা ইমরান খান গত ২০২৩ সালে তথাকথিত দুর্নীতির একাধিক মামলায় গ্রেফতার হয়ে রাওয়ালপিন্ডির সুরক্ষিত আদিয়ালা কারাগারে তিন বছর ধরে কারাবন্দি জীবনযাপন করছেন। তবে মূলত দেশটির ক্ষমতাধর সামরিক বাহিনীর সাথে প্রকাশ্য রাজনৈতিক বিরোধে জড়িয়ে পড়ার কারণেই যে তাঁকে বছরের পর বছর জনসমক্ষ থেকে দূরে রাখা হয়েছে, তা সর্বজনবিদিত। সম্প্রতি তাঁর চোখের অস্ত্রোপচার এবং দীর্ঘ সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে স্বজনদের সাথে সম্পুর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার দরুন তাঁর পরিবারের সদস্য ও দলের শীর্ষ নেতারা শারীরিক অবস্থার চরম অবনতির আশঙ্কা প্রকাশ করে জরুরি মুক্তির তাগিদ দিয়েছেন।

ইমরান খানের দুই সন্তান সুলায়মান খান ও কাসিম খান যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য অবজারভারকে এক যৌথ বিবৃতিতে জানান যে, তাদের বাবাকে দীর্ঘদিন যাবত বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে একাকী রাখা হয়েছে এবং স্বাধীনভাবে আইনজীবীদের সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হচ্ছে না। একইভাবে তাঁর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা সাইয়েদ জুলফি বুখারিও মানবিক বিবেচনায় অবিলম্বে স্বাস্থ্যগত কারণে ইমরান খানকে মুক্তির কড়া দাবি তোলেন। রাজনৈতিক অচলবস্থা ও দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা নিরসনে একটি তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমেই এই মুক্তির সমঝোতার গোপন আলোচনা এগোচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

ইতিপূর্বে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০১৯ সালে ইমরান খানের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী নওয়াজ শরিফকেও অনুরূপভাবে কারাবন্দি অবস্থায় চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাওয়ার প্রশাসনিক অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, নওয়াজ শরিফের মতো ইমরান খানের ক্ষেত্রেও যদি কোনো সমঝোতার রাস্তা বের হয়, তবে তাতে দেশ ত্যাগ করে বিদেশে অবস্থান করা, দীর্ঘমেয়াদে রাজনীতি থেকে দূরে থাকা এবং সামরিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ নীরব থাকার মতো একাধিক কঠোর শর্ত অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

তবে ১৯৯২ সালে ক্রিকেট বিশ্বকাপজয়ী সাবেক তারকা অধিনায়ক ও আপসহীন মনোভাবাপন্ন ইমরান খান এসব শর্ত মেনে রাজনৈতিক সন্ন্যাস নেবেন কি না, তা নিয়ে চরম সংশয় প্রকাশ করেছেন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষী ও আইনজীবীরা। মানবাধিকার কর্মী ক্লাইভ স্ট্যাফোর্ড স্মিথ মন্তব্য করেন যে, ইমরান খান অত্যন্ত একগুঁয়ে মানুষ হলেও তাঁর জীবন রক্ষার্থে এই রাজনৈতিক সমঝোতা গ্রহণ করা উচিত। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মুক্তি এখন এক জটিল ও স্পর্শকাতর আন্তর্জাতিক সমীকরণে পরিণত হয়েছে।