দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার সেচ সুবিধা নিশ্চিতকরণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেছে। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে বহু কৃষিজমি তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা ব্যবহার করতে পারে না, যা অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন থেকে কৃষকদের বঞ্চিত করে। এই দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে সরকার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট সদর উপজেলায় ‘জাঙ্গাইল সুরমা নদী থেকে বলাউরা জিলকার হাওর পর্যন্ত বংশীখাল খনন’ প্রকল্পের শুভ উদ্বোধনকালে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, জাঙ্গাইল থেকে বলাউরা পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ এই বংশীখাল খনন প্রকল্পের কাজ দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, এই খালটি খনন সম্পন্ন হলে প্রায় ছয় হাজার হেক্টর কৃষিজমি আধুনিক সেচ ব্যবস্থার আওতায় আসবে। এর ফলে কৃষকরা শুষ্ক মৌসুমেও নির্বিঘ্নে সেচ সুবিধা পাবেন, যা তাদের অতিরিক্ত ফসল ফলাতে উৎসাহিত করবে। কেবল তাই নয়, এতে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং জাতীয় খাদ্য উৎপাদনেও এটি এক উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ২১ দিনের মধ্যে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা এই সরকারের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতারই প্রতিফলন। তিনি উল্লেখ করেন, সারা দেশে বর্তমানে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মতো জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমও পুরোদমে চলছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর সাথে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সরওয়ার আলম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার খোশনূর রুবাইয়াত, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এই প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়ন সিলেট অঞ্চলের কৃষিক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























