মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬

তিস্তা নদীর বুক চিরে অবৈধ পাথর উত্তোলন, ৫ জন আটক, ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদীর গভীর থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের সময় বোমা মেশিনসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত ১০ জনের বিরুদ্ধে খনি ও খনিজ সম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) আইন-১৯৯২ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের গুঞ্জরখা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র তিস্তা নদীর অভ্যন্তরে গভীর গর্ত তৈরি করে বোমা মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে আসছিল। এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকার রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ি দেবে যাওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এছাড়া, বোমা মেশিনের বিকট শব্দে স্থানীয় বাসিন্দারা রাতে ঘুমাতে পারছেন না বলেও অভিযোগ ছিল।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি নীলফামারী জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরই প্রেক্ষিতে, ডিমলা থানা পুলিশ সোমবার দিবাগত গভীর রাতে ওই এলাকায় একটি সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের সময় হাতেনাতে পাঁচজনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, পূর্ব খড়িবাড়ি দিঘীর পাড় গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে তারিকুল ইসলাম (২৬), মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে আলিয়ার রহমান (৪৫), মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে তাইজুল ইসলাম (৪৫), মশিয়ার রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান (৩৫) এবং নুর ইসলামের ছেলে আব্দুল মান্নান (৩৫)।

তবে, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরও পাঁচজন সহযোগী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পালানোর সময় তারা পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত বোমা মেশিনগুলো ট্রলিতে করে নিয়ে যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এই ঘটনায়, ডিমলা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পঙ্কজ চন্দ্র বর্মণ বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজন এবং পলাতক পাঁচজনসহ মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে খনি ও খনিজ সম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) আইন-১৯৯২ এর ৫ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার নম্বর-১০, তারিখ ১০/০৩/২০২৬ ইং।

ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শওকত আলী বলেন, “তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমরা ইতিমধ্যে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য বিশেষ অভিযান শুরু করেছি এবং আশা করছি দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।” তিনি আরও জানান, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের বিচার দাবিতে নতুন উপাচার্যের দিকে তাকিয়ে শিক্ষার্থীরা

তিস্তা নদীর বুক চিরে অবৈধ পাথর উত্তোলন, ৫ জন আটক, ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় : ০৯:০৫:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদীর গভীর থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের সময় বোমা মেশিনসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত ১০ জনের বিরুদ্ধে খনি ও খনিজ সম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) আইন-১৯৯২ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের গুঞ্জরখা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র তিস্তা নদীর অভ্যন্তরে গভীর গর্ত তৈরি করে বোমা মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে আসছিল। এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকার রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ি দেবে যাওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এছাড়া, বোমা মেশিনের বিকট শব্দে স্থানীয় বাসিন্দারা রাতে ঘুমাতে পারছেন না বলেও অভিযোগ ছিল।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি নীলফামারী জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরই প্রেক্ষিতে, ডিমলা থানা পুলিশ সোমবার দিবাগত গভীর রাতে ওই এলাকায় একটি সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের সময় হাতেনাতে পাঁচজনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, পূর্ব খড়িবাড়ি দিঘীর পাড় গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে তারিকুল ইসলাম (২৬), মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে আলিয়ার রহমান (৪৫), মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে তাইজুল ইসলাম (৪৫), মশিয়ার রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান (৩৫) এবং নুর ইসলামের ছেলে আব্দুল মান্নান (৩৫)।

তবে, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরও পাঁচজন সহযোগী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পালানোর সময় তারা পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত বোমা মেশিনগুলো ট্রলিতে করে নিয়ে যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এই ঘটনায়, ডিমলা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পঙ্কজ চন্দ্র বর্মণ বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজন এবং পলাতক পাঁচজনসহ মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে খনি ও খনিজ সম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) আইন-১৯৯২ এর ৫ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার নম্বর-১০, তারিখ ১০/০৩/২০২৬ ইং।

ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শওকত আলী বলেন, “তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমরা ইতিমধ্যে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য বিশেষ অভিযান শুরু করেছি এবং আশা করছি দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।” তিনি আরও জানান, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।