ঢাকা ১২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬

প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভারতে হাদি হত্যার মূল শ্যুটার ফয়সাল ও আলমগীর গ্রেফতার, দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু

বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার সুস্পষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও মূল শ্যুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুলকে ভারতে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সহযোগী আলমগীর হোসেনকেও। রোববার (৮ মার্চ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) তাদের গ্রেফতার করে।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই এবং পশ্চিমবঙ্গের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ‘এই সময়’ এই চাঞ্চল্যকর আটকের খবর নিশ্চিত করেছে।

বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই ফয়সাল ও আলমগীর সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন। হাদি হত্যার পর দেশজুড়ে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় আসামিদের গ্রেফতারে তৎপর হয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এই গ্রেফতারকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছে।

নেপথ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা ও কূটনৈতিক চাপ
জানা যায়, সম্প্রতি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) নবনিযুক্ত মহাপরিচালক ভারত সফর করেন। ওই সফরে তিনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে হাদি হত্যা মামলার আসামিসহ আত্মগোপনে থাকা অন্যান্য সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে আটক করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য জোরালো চাপ প্রয়োগ করেন। এর প্রেক্ষিতেই ডিজিএফআইয়ের দেওয়া সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ অভিযান চালিয়ে এই দুই খুনের আসামিকে আজ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

এছাড়াও, দ্বিপাক্ষিক ওই আলোচনায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে নিশ্চয়তা দিয়েছে যে, ভারতে বসে যারা বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও শিগগিরই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে।

হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে জুমার নামাজ শেষে সাংগঠনিক প্রচারণা চালানোর সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্তের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরীফ ওসমান বিন হাদি। অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

হাদি হত্যাকাণ্ডের পর তদন্তে নেমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশ কয়েকজন সহযোগী ও আসামিকে গ্রেফতার করে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর ইতোমধ্যে ছয়জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বর্তমানে ভারতে গ্রেফতার হওয়া মূল শ্যুটার ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীরকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মোজতবা খামেনির প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট ও সামরিক বাহিনীর পূর্ণ আনুগত্য

প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভারতে হাদি হত্যার মূল শ্যুটার ফয়সাল ও আলমগীর গ্রেফতার, দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু

আপডেট সময় : ০৮:৩৫:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার সুস্পষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও মূল শ্যুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুলকে ভারতে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সহযোগী আলমগীর হোসেনকেও। রোববার (৮ মার্চ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) তাদের গ্রেফতার করে।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই এবং পশ্চিমবঙ্গের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ‘এই সময়’ এই চাঞ্চল্যকর আটকের খবর নিশ্চিত করেছে।

বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই ফয়সাল ও আলমগীর সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন। হাদি হত্যার পর দেশজুড়ে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় আসামিদের গ্রেফতারে তৎপর হয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এই গ্রেফতারকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছে।

নেপথ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা ও কূটনৈতিক চাপ
জানা যায়, সম্প্রতি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) নবনিযুক্ত মহাপরিচালক ভারত সফর করেন। ওই সফরে তিনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে হাদি হত্যা মামলার আসামিসহ আত্মগোপনে থাকা অন্যান্য সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে আটক করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য জোরালো চাপ প্রয়োগ করেন। এর প্রেক্ষিতেই ডিজিএফআইয়ের দেওয়া সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ অভিযান চালিয়ে এই দুই খুনের আসামিকে আজ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

এছাড়াও, দ্বিপাক্ষিক ওই আলোচনায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে নিশ্চয়তা দিয়েছে যে, ভারতে বসে যারা বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও শিগগিরই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে।

হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে জুমার নামাজ শেষে সাংগঠনিক প্রচারণা চালানোর সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্তের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরীফ ওসমান বিন হাদি। অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

হাদি হত্যাকাণ্ডের পর তদন্তে নেমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশ কয়েকজন সহযোগী ও আসামিকে গ্রেফতার করে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর ইতোমধ্যে ছয়জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বর্তমানে ভারতে গ্রেফতার হওয়া মূল শ্যুটার ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীরকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।