শেরপুরের নকলা উপজেলায় বোরো চাষিরা সারের কৃত্রিম সংকট এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় ডিলাররা নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে বাফার গোডাউনে সার না পাঠিয়ে সরাসরি নিজেদের গুদামে মজুদ করছেন। এই অনিয়মের পেছনে বিসিআইসি ও বিএডিসি অনুমোদিত ডিলারদের সঙ্গে বাফার গোডাউনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে বলে জানা গেছে।
নকলা উপজেলায় মোট দশজন বিসিআইসি এবং সত্তরজন বিএডিসি অনুমোদিত সার ডিলার রয়েছেন। তথ্য অনুযায়ী, চলতি বোরো মৌসুমের শুরু থেকেই অনেক বিসিআইসি ডিলার বরাদ্দকৃত সার বাফার গোডাউনে জমা না দিয়ে নিজেদের গুদামে খালাস করছেন। এতে পরিবহন ও লোডিং-আনলোডিং খরচ বাঁচিয়ে কিছু অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে, যার একটি অংশ বাফার গোডাউনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পকেটে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, শেরপুরের বাসিন্দা বাফার গোডাউনের কর্মচারী মোরাদুজ্জামান এই অনিয়মের হোতা হিসেবে কাজ করছেন। তার মদতেই জেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জামালপুর জেলার আমদানিকৃত সারও এখানে মজুদ করা হচ্ছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গুদাম কর্তৃপক্ষ ও ডিলাররা ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে অতিরিক্ত দামে সার পাচার করছেন।
সম্প্রতি, গত রবিবার সকালে নকলায় দুজন ডিলারের নামে বরাদ্দকৃত সার বাফার গোডাউনে জমা না দিয়ে অবৈধভাবে নিজেদের গুদামে মজুদ করার সময় স্থানীয় জনতা ও গণমাধ্যমকর্মীরা তাদের আটক করেন। পরে স্থানীয় কৃষি দপ্তর ও পুলিশ প্রায় ৪৯ টন ইউরিয়া সার জব্দ করে ট্রাকসহ থানায় নিয়ে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, বিসিআইসি ও বিএডিসি অনুমোদিত ডিলাররা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন। উদাহরণস্বরূপ, ডিএপি সার সরকারি মূল্য ১০৫০ টাকা হলেও ১৪০০ টাকায়, টিএসপি ১৩৫০ টাকার স্থলে ১৮০০ টাকায়, এমওপি ১০০০ টাকার স্থলে ১১০০ টাকায় এবং ইউরিয়া ১৩৫০ টাকার স্থলে ১৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে ডিএপি সারের চাহিদা বেশি থাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। ফলে কৃষকরা দোকানে দোকানে ঘুরেও সার পাচ্ছেন না।
জালালপুর গ্রামের কৃষক আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, তিনি ডিএপি সার কিনতে গেলে ডিলাররা সেটি নেই বলে জানিয়ে দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, ডিএপি সারের কোনো সংকট নেই। তবে আমদানিকৃত সার পরিবহনে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে, যা বড় কোনো সংকট তৈরি করে না। অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রির অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 




















