ঢাকা ১১:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চাঁদপুরে পদ্মা-মেঘনায় মাছ ধরায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪০:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনাসহ দেশের ছয়টি নদী অঞ্চলে সব ধরনের মাছ ধরার ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।

দেশের ইলিশ সম্পদ রক্ষায় ২০০৬ সাল থেকে প্রতি বছর মার্চ ও এপ্রিল মাসে জাটকা বিচরণ এলাকায় এই বিশেষ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত বিস্তৃত ১০০ কিলোমিটার নদী এলাকায় জাল ফেলা, মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও কেনাবেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এর মধ্যে মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার এবং সেখান থেকে চরভৈরবী পর্যন্ত বাকি ৭০ কিলোমিটার এলাকা অন্তর্ভুক্ত।

নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে জেলেদের জীবনমান সচল রাখতে বিশেষ খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করেছে সরকার। মতলব উত্তর উপজেলার ৯ হাজার ১০০ নিবন্ধিত জেলেকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চার কিস্তিতে মোট ১৬০ কেজি করে চাল প্রদান করা হবে। এ সময় জেলেরা নদীতে না নেমে তাদের নৌকা ও জাল মেরামতের কাজে সময় অতিবাহিত করবেন।

আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কেউ মাছ ধরতে গিয়ে ধরা পড়লে তাকে সর্বনিম্ন এক থেকে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। এই কার্যক্রম সফল করতে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী সমন্বিতভাবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিসুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, “ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে কেবল প্রশাসনিক অভিযানই যথেষ্ট নয়। জাটকা রক্ষার এই সুফল দীর্ঘমেয়াদে পেতে হলে জেলেদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।”

স্থানীয় মৎস্য বিভাগ ও নৌ-পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জেলেদের সঙ্গে সচেতনতামূলক সভা করা হয়েছে এবং চাল বিতরণ কার্যক্রম দ্রুতই শুরু হবে। তবে আইন অমান্য করে কেউ জাটকা নিধনে নামলে তাদের বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মা-ইলিশ ও জাটকা রক্ষায় দুই মাসের এই অভয়াশ্রম কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ নজরদারি বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্থগিত হলো বিটিসিএলের এমভিএনও সেবার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম

চাঁদপুরে পদ্মা-মেঘনায় মাছ ধরায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু

আপডেট সময় : ০৯:৪০:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনাসহ দেশের ছয়টি নদী অঞ্চলে সব ধরনের মাছ ধরার ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।

দেশের ইলিশ সম্পদ রক্ষায় ২০০৬ সাল থেকে প্রতি বছর মার্চ ও এপ্রিল মাসে জাটকা বিচরণ এলাকায় এই বিশেষ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত বিস্তৃত ১০০ কিলোমিটার নদী এলাকায় জাল ফেলা, মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও কেনাবেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এর মধ্যে মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার এবং সেখান থেকে চরভৈরবী পর্যন্ত বাকি ৭০ কিলোমিটার এলাকা অন্তর্ভুক্ত।

নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে জেলেদের জীবনমান সচল রাখতে বিশেষ খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করেছে সরকার। মতলব উত্তর উপজেলার ৯ হাজার ১০০ নিবন্ধিত জেলেকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চার কিস্তিতে মোট ১৬০ কেজি করে চাল প্রদান করা হবে। এ সময় জেলেরা নদীতে না নেমে তাদের নৌকা ও জাল মেরামতের কাজে সময় অতিবাহিত করবেন।

আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কেউ মাছ ধরতে গিয়ে ধরা পড়লে তাকে সর্বনিম্ন এক থেকে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। এই কার্যক্রম সফল করতে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী সমন্বিতভাবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিসুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, “ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে কেবল প্রশাসনিক অভিযানই যথেষ্ট নয়। জাটকা রক্ষার এই সুফল দীর্ঘমেয়াদে পেতে হলে জেলেদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।”

স্থানীয় মৎস্য বিভাগ ও নৌ-পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জেলেদের সঙ্গে সচেতনতামূলক সভা করা হয়েছে এবং চাল বিতরণ কার্যক্রম দ্রুতই শুরু হবে। তবে আইন অমান্য করে কেউ জাটকা নিধনে নামলে তাদের বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মা-ইলিশ ও জাটকা রক্ষায় দুই মাসের এই অভয়াশ্রম কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ নজরদারি বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।