ঢাকা ১০:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সংকট মোকাবিলায় মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান মামুনুল হকের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৩:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে মুসলিম উম্মাহর নানাবিধ সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সব বিভেদ ভুলে সুদৃঢ় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, মুসলিম সমাজের বর্তমান অস্থিরতা ও দুর্বলতার অন্যতম প্রধান কারণ হলো অনৈক্য। মহান আল্লাহর নির্দেশিত পথে ঐক্যবদ্ধ থাকাই উম্মাহর শক্তি ও সাফল্যের একমাত্র চাবিকাঠি।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বিয়াম অডিটোরিয়ামে ‘বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা সোসাইটি’ আয়োজিত বার্ষিক প্রতিনিধি সম্মেলন ও অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ইসলামি শিক্ষা ও উলামা ঐক্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মাওলানা মামুনুল হককে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এই স্বীকৃতির জন্য তিনি আয়োজক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মাওলানা মামুনুল হক তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, বিভিন্ন দল বা সংগঠনের মধ্যে আদর্শিক বা কৌশলগত মতপার্থক্য থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। তবে ইসলামের প্রচার, কোরআনিক শিক্ষার প্রসার এবং মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। একটি স্থিতিশীল সমাজ গঠনে সম্মিলিত প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেজর জেনারেল (অব.) মাহবুব উল আলম বলেন, একটি জাতির প্রকৃত শক্তি কেবল অর্থনৈতিক বা সামরিক সক্ষমতায় নয়, বরং তার নৈতিকতা ও আদর্শিক ভিত্তির ওপর নির্ভর করে। কুরআনের শিক্ষা মানুষকে দায়িত্বশীল ও সৎ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে, যা একটি সুশাসিত সমাজ গঠনের মূল উপাদান। তিনি ঘরে ঘরে কুরআনের আলো পৌঁছে দেওয়ার এই মহতী উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং পুরস্কারপ্রাপ্তদের এই সম্মাননাকে আমানত হিসেবে গ্রহণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে আরও নিবেদিত হওয়ার আহ্বান জানান।

সোসাইটির সভাপতি মাওলানা আবদুস শহীদ নাসিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মাহবুব আহমদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আব্দুল হাকিম আজিজ এবং অধ্যাপক ড. শামীমা তাসনিম। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন মাহফুজুর রহমান ও আরশাদ মঞ্জুর চৌধুরী।

উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি সমাজসেবা ও শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ‘বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা সোসাইটি অ্যাওয়ার্ড-২০২৪’ প্রদান করা হয়। মাওলানা মামুনুল হক ছাড়াও সম্মাননাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন— জুলাই বিপ্লব ২০২৪-এ বিশেষ অবদানের জন্য নাহিদ ইসলাম এমপি, শিক্ষা ও সমাজসেবায় অধ্যাপক মাহবুব আহমদ, মানবকল্যাণে অধ্যাপক আবু নাছের মোহাম্মদ আবদুজ জাহের এবং নারী শিক্ষায় অধ্যাপক ড. শামীমা তাসনিম।

এছাড়া মরণোত্তর সম্মাননা জানানো হয় আদর্শ প্রশাসক হিসেবে শাহ আবদুল হান্নান ও এ জেড এম শামসুল আলমকে, দ্বীন প্রচারে মুহাম্মাদ নূরুল ইসলাম এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এয়ার কমোডর ড. সৈয়দ জিলানী মাহবুবুর রহমানকে। অনুষ্ঠানে মেধাবী ৫০ জন শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষাবৃত্তি ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদসহ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাক-আফগান উত্তেজনা: আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইসহাক দারের ফোনালাপ

সংকট মোকাবিলায় মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান মামুনুল হকের

আপডেট সময় : ০৮:৩৩:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে মুসলিম উম্মাহর নানাবিধ সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সব বিভেদ ভুলে সুদৃঢ় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, মুসলিম সমাজের বর্তমান অস্থিরতা ও দুর্বলতার অন্যতম প্রধান কারণ হলো অনৈক্য। মহান আল্লাহর নির্দেশিত পথে ঐক্যবদ্ধ থাকাই উম্মাহর শক্তি ও সাফল্যের একমাত্র চাবিকাঠি।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বিয়াম অডিটোরিয়ামে ‘বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা সোসাইটি’ আয়োজিত বার্ষিক প্রতিনিধি সম্মেলন ও অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ইসলামি শিক্ষা ও উলামা ঐক্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মাওলানা মামুনুল হককে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এই স্বীকৃতির জন্য তিনি আয়োজক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মাওলানা মামুনুল হক তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, বিভিন্ন দল বা সংগঠনের মধ্যে আদর্শিক বা কৌশলগত মতপার্থক্য থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। তবে ইসলামের প্রচার, কোরআনিক শিক্ষার প্রসার এবং মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। একটি স্থিতিশীল সমাজ গঠনে সম্মিলিত প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেজর জেনারেল (অব.) মাহবুব উল আলম বলেন, একটি জাতির প্রকৃত শক্তি কেবল অর্থনৈতিক বা সামরিক সক্ষমতায় নয়, বরং তার নৈতিকতা ও আদর্শিক ভিত্তির ওপর নির্ভর করে। কুরআনের শিক্ষা মানুষকে দায়িত্বশীল ও সৎ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে, যা একটি সুশাসিত সমাজ গঠনের মূল উপাদান। তিনি ঘরে ঘরে কুরআনের আলো পৌঁছে দেওয়ার এই মহতী উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং পুরস্কারপ্রাপ্তদের এই সম্মাননাকে আমানত হিসেবে গ্রহণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে আরও নিবেদিত হওয়ার আহ্বান জানান।

সোসাইটির সভাপতি মাওলানা আবদুস শহীদ নাসিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মাহবুব আহমদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আব্দুল হাকিম আজিজ এবং অধ্যাপক ড. শামীমা তাসনিম। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন মাহফুজুর রহমান ও আরশাদ মঞ্জুর চৌধুরী।

উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি সমাজসেবা ও শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ‘বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা সোসাইটি অ্যাওয়ার্ড-২০২৪’ প্রদান করা হয়। মাওলানা মামুনুল হক ছাড়াও সম্মাননাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন— জুলাই বিপ্লব ২০২৪-এ বিশেষ অবদানের জন্য নাহিদ ইসলাম এমপি, শিক্ষা ও সমাজসেবায় অধ্যাপক মাহবুব আহমদ, মানবকল্যাণে অধ্যাপক আবু নাছের মোহাম্মদ আবদুজ জাহের এবং নারী শিক্ষায় অধ্যাপক ড. শামীমা তাসনিম।

এছাড়া মরণোত্তর সম্মাননা জানানো হয় আদর্শ প্রশাসক হিসেবে শাহ আবদুল হান্নান ও এ জেড এম শামসুল আলমকে, দ্বীন প্রচারে মুহাম্মাদ নূরুল ইসলাম এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এয়ার কমোডর ড. সৈয়দ জিলানী মাহবুবুর রহমানকে। অনুষ্ঠানে মেধাবী ৫০ জন শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষাবৃত্তি ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদসহ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।