ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানের করতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের দপ্তরকে (OHCHR) আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সরকারের প্রতিশ্রুতি ও আইনি পদক্ষেপ প্রেস সচিব শফিকুল আলম তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করে লিখেছেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই মামলায় পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিতে অটল রয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘকে সম্ভাব্য সকল প্রকার সহযোগিতা প্রদান করা হবে।” সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব এই মামলার ফাইল এবং তদন্তের কারিগরি সহায়তার জন্য জাতিসংঘের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে। মূলত এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের শনাক্ত করতেই আন্তর্জাতিক এই সংস্থার সম্পৃক্ততা চাওয়া হচ্ছে।
যমুনার সামনে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান সরকারের এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এল, যখন শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্তের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’র সামনে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে সংগঠনটির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী যমুনার দিকে অগ্রসর হন। তাঁরা স্লোগান দিয়ে হাদি হত্যার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও শেষ পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ায় উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়।
হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে অত্যন্ত কাছ থেকে শরিফ ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ১৯ ডিসেম্বর তাঁর মরদেহ দেশে আনা হয় এবং ২০ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।
মামলার বর্তমান অবস্থা হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে হাদির মৃত্যুর পর এটি নিয়মিত হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল অপরাধীদের শনাক্ত করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিল ইনকিলাব মঞ্চ। এখন জাতিসংঘের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের রহস্য ও মদদদাতারা বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টারের নাম 

















