চট্টগ্রাম বন্দরে রবিবার সকাল থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতি চলছে। নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ এবং আদালতের রায়ের প্রতিবাদে এই কর্মবিরতি ও ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীরা। এর ফলে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
কর্মবিরতিকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের সমাবেশ বা কর্মসূচি বন্ধ রাখতে নির্দেশনা জারি করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। রবিবার ভোর থেকেই সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো বন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। বন্দরের চার নম্বর গেটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থান দেখা গেছে, যেখানে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল, স্কপসহ বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন। শ্রমিকরা কাজে যোগ না দেওয়ায় সব ধরনের ট্রাক ও লরি প্রবেশ বন্ধ রয়েছে।
সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত বারেক বিল্ডিং মোড়, নিমতলা মোড়, ৩ নম্বর জেটি গেট, কাস্টমস মোড় ও সল্টগোলা ক্রসিংসহ বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরকে একটি ‘কেপিআই’ (Key Point Installation) হিসেবে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিদিন বিপুল পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলের কারণে এসব এলাকায় যানজটমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। বন্দর এলাকায় সভা-সমাবেশের ফলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়, যা জাতীয় অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৮-এর ২৯ ও ৩০ ধারার ক্ষমতাবলে অস্ত্র, লাঠি, বিস্ফোরক দ্রব্য বহন এবং সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬-এ অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রবিবার বন্দরে অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে। বন্দরের ভেতরে কোনো বিক্ষোভকারী যেন প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
এদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের নেতারা রবিবার বেলা সাড়ে এগারোটা থেকে নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় কালো পতাকা মিছিল করার কথা রয়েছে। শনিবার থেকে সংগঠনটি এই কর্মসূচি পালন করছে, যেখানে স্কপসহ বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের নেতারা যোগ দিয়েছেন।
বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সিএমপির বন্দর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, বন্দর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে এবং যেকোনো ধরণের কর্মসূচি বা জমায়েত নিষিদ্ধ।
কর্মবিরতির কারণে সৃষ্ট রাজস্ব ক্ষতি নিরূপণ এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। এছাড়াও, আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে চার কর্মচারীকে ঢাকার পানগাঁও আইসিটিতে বদলি করা হয়েছে। অফিস চলাকালে আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রিপোর্টারের নাম 




















