ঢাকা ১১:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশজুড়ে ধর্ষণ-হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল রাবি: জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি রাকসুর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৫:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

নরসিংদীতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যাসহ দেশব্যাপী নারী ও শিশু নির্যাতনের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাস। এসব নৃশংসতার বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নেতৃবৃন্দ। শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে রাকসু নেতারা সাম্প্রতিক এসব অপরাধের দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। মিছিল চলাকালে আন্দোলনকারীরা অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর স্লোগান দেন এবং সামাজিক ইনসাফ প্রতিষ্ঠার দাবি তোলেন। তারা সাফ জানিয়ে দেন, বাংলার মাটিতে কোনো ধর্ষকের ঠাঁই হবে না।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ প্রশাসনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় যেভাবে হত্যা ও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অথচ প্রশাসন ও বিচার বিভাগ এসব ক্ষেত্রে রহস্যজনকভাবে নীরব থাকছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। নিজের দলের লোক ভেবে যদি বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করে অপরাধীদের সুরক্ষা দেওয়া হয়, তবে তা হবে স্বৈরাচারী আচরণের বহিঃপ্রকাশ। আমরা ইনসাফ কায়েমের পক্ষে আছি এবং যেকোনো অন্যায়ের শেষ দেখে ছাড়ব।

বিক্ষোভে সংহতি জানিয়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল সংসদের ভিপি কাউসার হাবিব বলেন, নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে নরসিংদী পর্যন্ত যে পৈশাচিকতা আমরা দেখছি, তা কোনো সভ্য সমাজের চিত্র হতে পারে না। বিশেষ করে বাবার সামনে থেকে সন্তানকে ছিনিয়ে নিয়ে গণধর্ষণ ও হত্যার মতো ঘটনা মানবতার বিরুদ্ধে চরম অপরাধ।

তিনি নবগঠিত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দীর্ঘ লড়াই ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে দ্রুত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নারীদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ জনতা আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামতে দ্বিধা করবে না। সংশ্লিষ্ট সবাইকে মনে রাখতে হবে, ছাত্রসমাজ যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে অতন্দ্র প্রহরীর মতো সজাগ রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্থগিত হলো বিটিসিএলের এমভিএনও সেবার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম

দেশজুড়ে ধর্ষণ-হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল রাবি: জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি রাকসুর

আপডেট সময় : ০৯:৪৫:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নরসিংদীতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যাসহ দেশব্যাপী নারী ও শিশু নির্যাতনের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাস। এসব নৃশংসতার বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নেতৃবৃন্দ। শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে রাকসু নেতারা সাম্প্রতিক এসব অপরাধের দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। মিছিল চলাকালে আন্দোলনকারীরা অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর স্লোগান দেন এবং সামাজিক ইনসাফ প্রতিষ্ঠার দাবি তোলেন। তারা সাফ জানিয়ে দেন, বাংলার মাটিতে কোনো ধর্ষকের ঠাঁই হবে না।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ প্রশাসনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় যেভাবে হত্যা ও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অথচ প্রশাসন ও বিচার বিভাগ এসব ক্ষেত্রে রহস্যজনকভাবে নীরব থাকছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। নিজের দলের লোক ভেবে যদি বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করে অপরাধীদের সুরক্ষা দেওয়া হয়, তবে তা হবে স্বৈরাচারী আচরণের বহিঃপ্রকাশ। আমরা ইনসাফ কায়েমের পক্ষে আছি এবং যেকোনো অন্যায়ের শেষ দেখে ছাড়ব।

বিক্ষোভে সংহতি জানিয়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল সংসদের ভিপি কাউসার হাবিব বলেন, নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে নরসিংদী পর্যন্ত যে পৈশাচিকতা আমরা দেখছি, তা কোনো সভ্য সমাজের চিত্র হতে পারে না। বিশেষ করে বাবার সামনে থেকে সন্তানকে ছিনিয়ে নিয়ে গণধর্ষণ ও হত্যার মতো ঘটনা মানবতার বিরুদ্ধে চরম অপরাধ।

তিনি নবগঠিত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দীর্ঘ লড়াই ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে দ্রুত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নারীদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ জনতা আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামতে দ্বিধা করবে না। সংশ্লিষ্ট সবাইকে মনে রাখতে হবে, ছাত্রসমাজ যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে অতন্দ্র প্রহরীর মতো সজাগ রয়েছে।