ঢাকা ০৮:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীকে দৌড়ে সালাম, সমালোচনার মুখে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদল সভাপতি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:২০:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দৌড়ে গিয়ে সালাম জানানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি বিস্তারিত স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে পৌঁছানোর আগেই তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী গাড়িবহর নিয়ে ফেরার পথে রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে দ্রুতগতিতে গাড়ির পেছনে দৌড়ে গিয়ে সালাম জানাতে দেখা যায়। এই দৃশ্যটি ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

এই সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার তার ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে রাকিবুল ইসলাম রাকিব জানান, গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টা তিনি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে বাংলা একাডেমি চত্বরে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর বাংলা একাডেমিতে প্রবেশের আগেই তিনি সালাম বিনিময় করেন এবং হাজার হাজার নেতাকর্মীর ভিড় ঠেলে তার গাড়িকে প্রবেশে সহায়তা করেন। তিনি নিজেই গাড়ি থেকে প্রধানমন্ত্রীকে নামান এবং প্রথম করমর্দন করে সার্বিক পরিস্থিতি সংক্ষেপে তুলে ধরেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীকে মঞ্চ পর্যন্ত পৌঁছে দেন।

ছাত্রদল সভাপতি আরও উল্লেখ করেন, বইমেলার উদ্বোধনের সময় ফিতা কাটার মুহূর্তে এবং প্রতিটি স্টল ঘুরে দেখার সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর পাশেই ছিলেন। ছাত্রদলের স্টলে আসার পর তিনি নিজেই প্রধানমন্ত্রীকে ছাত্রদলের ম্যাগাজিন তুলে দেন এবং অন্যান্য নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। সবশেষে সালাম ও করমর্দনের মাধ্যমে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।

রাকিবুল ইসলাম রাকিব তার স্ট্যাটাসে লেখেন, বাংলা একাডেমি থেকে বের হয়ে মূল গেটের বাইরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে অবস্থানের সময় সিএসএফের (প্রধানমন্ত্রী নিরাপত্তা বাহিনী) অনুরোধে তিনি প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির সামনে যান। বাংলা একাডেমি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত ছাত্রদলের সকল ইউনিটকে প্রধানমন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন এবং নেতাকর্মীদের গাড়ি থামিয়ে শুভেচ্ছা বা সালাম বিনিময় না করার জন্য অনুরোধ করেন। দোয়েল চত্বরে গাড়ির গতি অত্যন্ত দ্রুত থাকায় তিনি অন্যান্য নেতাকর্মীদের সঙ্গে মাত্র পাঁচ থেকে সাত সেকেন্ডের জন্য দৌড়ে সর্বশেষ সৌজন্যমূলক সালাম বিনিময় করেন। তিনি জানান, দীর্ঘক্ষণ প্রধানমন্ত্রীর পাশে থাকার পরও তিনি শেষবারের মতো সালাম বিনিময় করেন, যদিও এটি না করলেও পারতেন।

সাংবাদিকদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, পুরো দুই ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ইতিবাচক অংশগ্রহণের পরিবর্তে মাত্র ১০ সেকেন্ডের একটি ঘটনাকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর এমন অপসাংবাদিকতা সফল হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলা: ভারতের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

প্রধানমন্ত্রীকে দৌড়ে সালাম, সমালোচনার মুখে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদল সভাপতি

আপডেট সময় : ০৭:২০:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দৌড়ে গিয়ে সালাম জানানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি বিস্তারিত স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে পৌঁছানোর আগেই তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী গাড়িবহর নিয়ে ফেরার পথে রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে দ্রুতগতিতে গাড়ির পেছনে দৌড়ে গিয়ে সালাম জানাতে দেখা যায়। এই দৃশ্যটি ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

এই সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার তার ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে রাকিবুল ইসলাম রাকিব জানান, গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টা তিনি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে বাংলা একাডেমি চত্বরে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর বাংলা একাডেমিতে প্রবেশের আগেই তিনি সালাম বিনিময় করেন এবং হাজার হাজার নেতাকর্মীর ভিড় ঠেলে তার গাড়িকে প্রবেশে সহায়তা করেন। তিনি নিজেই গাড়ি থেকে প্রধানমন্ত্রীকে নামান এবং প্রথম করমর্দন করে সার্বিক পরিস্থিতি সংক্ষেপে তুলে ধরেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীকে মঞ্চ পর্যন্ত পৌঁছে দেন।

ছাত্রদল সভাপতি আরও উল্লেখ করেন, বইমেলার উদ্বোধনের সময় ফিতা কাটার মুহূর্তে এবং প্রতিটি স্টল ঘুরে দেখার সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর পাশেই ছিলেন। ছাত্রদলের স্টলে আসার পর তিনি নিজেই প্রধানমন্ত্রীকে ছাত্রদলের ম্যাগাজিন তুলে দেন এবং অন্যান্য নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। সবশেষে সালাম ও করমর্দনের মাধ্যমে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।

রাকিবুল ইসলাম রাকিব তার স্ট্যাটাসে লেখেন, বাংলা একাডেমি থেকে বের হয়ে মূল গেটের বাইরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে অবস্থানের সময় সিএসএফের (প্রধানমন্ত্রী নিরাপত্তা বাহিনী) অনুরোধে তিনি প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির সামনে যান। বাংলা একাডেমি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত ছাত্রদলের সকল ইউনিটকে প্রধানমন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন এবং নেতাকর্মীদের গাড়ি থামিয়ে শুভেচ্ছা বা সালাম বিনিময় না করার জন্য অনুরোধ করেন। দোয়েল চত্বরে গাড়ির গতি অত্যন্ত দ্রুত থাকায় তিনি অন্যান্য নেতাকর্মীদের সঙ্গে মাত্র পাঁচ থেকে সাত সেকেন্ডের জন্য দৌড়ে সর্বশেষ সৌজন্যমূলক সালাম বিনিময় করেন। তিনি জানান, দীর্ঘক্ষণ প্রধানমন্ত্রীর পাশে থাকার পরও তিনি শেষবারের মতো সালাম বিনিময় করেন, যদিও এটি না করলেও পারতেন।

সাংবাদিকদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, পুরো দুই ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ইতিবাচক অংশগ্রহণের পরিবর্তে মাত্র ১০ সেকেন্ডের একটি ঘটনাকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর এমন অপসাংবাদিকতা সফল হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।