ঢাকা ০২:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাবার পথেই হাঁটছেন তারেক রহমান: জীবনযাপনে মিতব্যয়িতা ও প্রটোকলমুক্ত নতুন নেতৃত্বের যাত্রা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২১:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭৮ বার পড়া হয়েছে

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সেই সাদামাটা, সৎ ও পরিমিত জীবনযাপন আজও বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অনন্য উদাহরণ। ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও তিনি সাধারণ মানুষের মতো জীবন কাটাতেন, যা তাঁকে ‘ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। ৪২ বছর পর ঠিক বাবার সেই পথেই হাঁটছেন তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে তিনি এমন কিছু ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন, যা ইতিমধ্যে দেশের সব মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। কথায় বলে ‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’—অর্থাৎ সকালের পূর্বাভাস দেখে বোঝা যায় দিনটি কেমন যাবে। নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের শুরুটাও তেমনই এক নতুন এবং ইতিবাচক দিনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জিয়াউর রহমান যেমন রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকাকালীন বিলাসিতা থেকে দূরে থাকতেন, তারেক রহমানের মধ্যেও সেই একই প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠছে। ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার যে নীতি জিয়াউর রহমান অনুসরণ করতেন, তারেক রহমানও সেই পথ বেছে নিয়েছেন। প্রখ্যাত সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর লেখা বইয়ে তারেক রহমান নিজেই স্মৃতিচারণ করেছিলেন যে, ছোটবেলায় তাঁরা বাবার পুরনো কাপড় কেটে দর্জির মাধ্যমে ছোট করে পরতেন। ক্ষমতার মোহ বা জাঁকজমক তাঁদের স্পর্শ করতে পারেনি। বাবার সেই ‘আশার রাজনীতি’ এবং ‘উৎপাদনের রাজনীতি’র ধারাকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুনভাবে ফুটিয়ে তুলছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তারেক রহমানের সাদাসিধে চলাফেরা জনমনে গভীর রেখাপাত করেছে। সাধারণত সাদা শার্ট ও প্যান্ট পরে সচিবালয়ে অফিস করছেন তিনি। শুধু পোশাক নয়, প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও তিনি এনেছেন বৈপ্লবিক পরিবর্তন। রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের চিরাচরিত কঠোরতা পরিহার করে তিনি নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি ও চালক ব্যবহার করছেন, এমনকি গাড়ির জ্বালানিও কিনছেন নিজের খরচে। প্রধানমন্ত্রীর আগে যেখানে ১৩-১৪টি গাড়ির বহর থাকত, জনভোগান্তি কমাতে তিনি তা ৪টিতে নামিয়ে এনেছেন। এমনকি চলাচলের সময় রাস্তার দুই পাশে পুলিশের সারিবদ্ধ দাঁড়ানোর প্রথাও তিনি বাতিল করে দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে, নেতৃত্ব জনগণের ঊর্ধ্বে নয়, বরং জনগণের অংশ।

সচিবালয়ের কর্মসংস্কৃতি বদলাতেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়েছেন কঠোর অবস্থান। বৃহস্পতিবার অফিসের দ্বিতীয় দিনেই সকাল ৯টার পরপরই তিনি সচিবালয়ে উপস্থিত হন, যখন অনেক শীর্ষ আমলা বা কর্মচারী তখনো পথে। প্রধানমন্ত্রীর এমন আকস্মিক উপস্থিতিতে পুরো সচিবালয়ে কাজের গতি ফিরে এসেছে। অলস সময় কাটানোর পুরনো সংস্কৃতি ভেঙে এক ধরনের ইতিবাচক কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। শুধু তাই নয়, জোহরের নামাজের বিরতিতে নিজে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করে তিনি নৈতিক মূল্যবোধের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে ও দ্রুত দেশ গঠনে তিনি শনিবারেও অফিস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা কর্মজীবী ও সাধারণ মানুষের কাছে দারুণভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।

রাস্তায় জনসাধারণের সঙ্গে তাঁর আচরণও এক নতুন অভিজ্ঞতা দিচ্ছে ঢাকাবাসীকে। ১৮ ফেব্রুয়ারি জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ফেরার পথে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর রাজধানীর একটি ব্যস্ত মোড়ে সাধারণ যানবাহনের মতোই ট্রাফিক সিগন্যালে আটকে পড়ে। আগে যেখানে প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের সময় রাস্তা ফাঁকা করে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘক্ষণ ভোগান্তিতে রাখা হতো, সেখানে তারেক রহমান সাধারণ মানুষের মতোই সিগন্যাল মেনে চলছেন। গাড়ির কাচ নামিয়ে পথচারীদের শুভেচ্ছা জানানোর সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে ইতিবাচক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই পরিবর্তনগুলো শুধু ব্যক্তিগত আচরণ নয়, বরং এটি একটি প্রতীকী রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের বার্তা। বিশেষ করে বিএনপি থেকে নির্বাচিত এমপিদের ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি আমদানি না করা এবং প্লট সুবিধা না নেওয়ার সিদ্ধান্তটি ‘মদিনা সনদের’ ন্যায়পরায়ণতার আদর্শের প্রতিফলন বলে তাঁরা মনে করছেন। কৃচ্ছ্র সাধনের এই আহ্বান এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তারেক রহমান কার্যত তাঁর পিতার সেই ‘মাটির মানুষ’ হওয়ার পথেই সার্থকভাবে অগ্রসর হচ্ছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনগরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ: ছুরিকাঘাতে হিফজ বিভাগের ছাত্র নিহত

বাবার পথেই হাঁটছেন তারেক রহমান: জীবনযাপনে মিতব্যয়িতা ও প্রটোকলমুক্ত নতুন নেতৃত্বের যাত্রা

আপডেট সময় : ০৩:২১:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সেই সাদামাটা, সৎ ও পরিমিত জীবনযাপন আজও বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অনন্য উদাহরণ। ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও তিনি সাধারণ মানুষের মতো জীবন কাটাতেন, যা তাঁকে ‘ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। ৪২ বছর পর ঠিক বাবার সেই পথেই হাঁটছেন তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে তিনি এমন কিছু ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন, যা ইতিমধ্যে দেশের সব মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। কথায় বলে ‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’—অর্থাৎ সকালের পূর্বাভাস দেখে বোঝা যায় দিনটি কেমন যাবে। নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের শুরুটাও তেমনই এক নতুন এবং ইতিবাচক দিনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জিয়াউর রহমান যেমন রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকাকালীন বিলাসিতা থেকে দূরে থাকতেন, তারেক রহমানের মধ্যেও সেই একই প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠছে। ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার যে নীতি জিয়াউর রহমান অনুসরণ করতেন, তারেক রহমানও সেই পথ বেছে নিয়েছেন। প্রখ্যাত সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর লেখা বইয়ে তারেক রহমান নিজেই স্মৃতিচারণ করেছিলেন যে, ছোটবেলায় তাঁরা বাবার পুরনো কাপড় কেটে দর্জির মাধ্যমে ছোট করে পরতেন। ক্ষমতার মোহ বা জাঁকজমক তাঁদের স্পর্শ করতে পারেনি। বাবার সেই ‘আশার রাজনীতি’ এবং ‘উৎপাদনের রাজনীতি’র ধারাকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুনভাবে ফুটিয়ে তুলছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তারেক রহমানের সাদাসিধে চলাফেরা জনমনে গভীর রেখাপাত করেছে। সাধারণত সাদা শার্ট ও প্যান্ট পরে সচিবালয়ে অফিস করছেন তিনি। শুধু পোশাক নয়, প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও তিনি এনেছেন বৈপ্লবিক পরিবর্তন। রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের চিরাচরিত কঠোরতা পরিহার করে তিনি নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি ও চালক ব্যবহার করছেন, এমনকি গাড়ির জ্বালানিও কিনছেন নিজের খরচে। প্রধানমন্ত্রীর আগে যেখানে ১৩-১৪টি গাড়ির বহর থাকত, জনভোগান্তি কমাতে তিনি তা ৪টিতে নামিয়ে এনেছেন। এমনকি চলাচলের সময় রাস্তার দুই পাশে পুলিশের সারিবদ্ধ দাঁড়ানোর প্রথাও তিনি বাতিল করে দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে, নেতৃত্ব জনগণের ঊর্ধ্বে নয়, বরং জনগণের অংশ।

সচিবালয়ের কর্মসংস্কৃতি বদলাতেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়েছেন কঠোর অবস্থান। বৃহস্পতিবার অফিসের দ্বিতীয় দিনেই সকাল ৯টার পরপরই তিনি সচিবালয়ে উপস্থিত হন, যখন অনেক শীর্ষ আমলা বা কর্মচারী তখনো পথে। প্রধানমন্ত্রীর এমন আকস্মিক উপস্থিতিতে পুরো সচিবালয়ে কাজের গতি ফিরে এসেছে। অলস সময় কাটানোর পুরনো সংস্কৃতি ভেঙে এক ধরনের ইতিবাচক কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। শুধু তাই নয়, জোহরের নামাজের বিরতিতে নিজে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করে তিনি নৈতিক মূল্যবোধের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে ও দ্রুত দেশ গঠনে তিনি শনিবারেও অফিস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা কর্মজীবী ও সাধারণ মানুষের কাছে দারুণভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।

রাস্তায় জনসাধারণের সঙ্গে তাঁর আচরণও এক নতুন অভিজ্ঞতা দিচ্ছে ঢাকাবাসীকে। ১৮ ফেব্রুয়ারি জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ফেরার পথে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর রাজধানীর একটি ব্যস্ত মোড়ে সাধারণ যানবাহনের মতোই ট্রাফিক সিগন্যালে আটকে পড়ে। আগে যেখানে প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের সময় রাস্তা ফাঁকা করে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘক্ষণ ভোগান্তিতে রাখা হতো, সেখানে তারেক রহমান সাধারণ মানুষের মতোই সিগন্যাল মেনে চলছেন। গাড়ির কাচ নামিয়ে পথচারীদের শুভেচ্ছা জানানোর সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে ইতিবাচক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই পরিবর্তনগুলো শুধু ব্যক্তিগত আচরণ নয়, বরং এটি একটি প্রতীকী রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের বার্তা। বিশেষ করে বিএনপি থেকে নির্বাচিত এমপিদের ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি আমদানি না করা এবং প্লট সুবিধা না নেওয়ার সিদ্ধান্তটি ‘মদিনা সনদের’ ন্যায়পরায়ণতার আদর্শের প্রতিফলন বলে তাঁরা মনে করছেন। কৃচ্ছ্র সাধনের এই আহ্বান এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তারেক রহমান কার্যত তাঁর পিতার সেই ‘মাটির মানুষ’ হওয়ার পথেই সার্থকভাবে অগ্রসর হচ্ছেন।