রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ‘যমুনা’র সামনে বিশৃঙ্খলা ও পুলিশের ধাওয়ার ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য আব্দুল্লাহ আল জাবেরের ‘গুলিবিদ্ধ’ হওয়ার খবরটি সম্পূর্ণ গুজব বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, পুলিশের ধাওয়া খেয়ে রাস্তায় পড়ে গিয়ে তিনি পায়ে আঘাত পেয়েছেন। কোনো প্রকার গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেনি।
এছাড়াও ডাকসু নেত্রী ঝুমা কে লাঠিচার্জ করা হয়নি। তিনিও ভিড়ের মধ্যে অনেকের নিচে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন।
আজ (শুক্রবার) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন—এমন একটি তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে সাদিক কায়েমের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজসহ বিভিন্ন মাধ্যম থেকে দাবি করা হয় যে, জাবের পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছেন। তবে সরেজমিনে অনুসন্ধান এবং চিকিৎসকদের প্রাথমিক পরীক্ষার পর এই দাবিটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
ঘটনাস্থলে যা ঘটেছিল
প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের সূত্রে জানা যায়, যমুনা এলাকাটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর জোন হওয়ায় সেখানে ১৪৪ ধারা জারি থাকে। আজ একদল বিক্ষোভকারী যমুনার গেট টপকে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে এবং জটলা পাকিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ধাওয়া দেয়।
পুলিশের ধাওয়ার মুখে সরে যাওয়ার সময় ইনকিলাব মঞ্চের জাবের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যান। এতে তিনি পায়ে আঘাত পান। ঘটনাস্থলে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো গুলি বা ফায়ারিংয়ের ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছেন সেখানে উপস্থিত একাধিক সংবাদকর্মী।
চিকিৎসকদের বক্তব্য
আহত জাবেরকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। চিকিৎসকদের বরাতে জানা যায়, জাবেরের পায়ে কোনো আগ্নেয়াস্ত্রের বা গুলির আঘাত নেই। তার আঘাতটি মূলত পড়ে গিয়ে বা আছাড় খেয়ে সৃষ্ট জখম। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
গুজব ও বিভ্রান্তি
ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাবেরের আহত হওয়ার ছবি ব্যবহার করে ‘গুলিবিদ্ধ’ হওয়ার ভুয়া খবর ছড়াতে থাকে একটি মহল। বিশেষ করে সাদিক কায়েমের ভেরিফাইড পেজ থেকে এই দাবি প্রচার করার ফলে জনমনে বিভ্রান্তি ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, একটি সাধারণ দুর্ঘটনাকে ‘গুলিবিদ্ধ’ বলে প্রচার করা এবং ‘সরকার গুলি চালিয়েছে’—এমন ন্যারেটিভ তৈরি করা স্পষ্টত উসকানিমূলক। একটি স্থিতিশীল পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে এবং সাধারণ মানুষের আবেগকে পুঁজি করতেই এই ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলা হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা
যমুনার মতো সংরক্ষিত এলাকায় আইন অমান্য করে গেট টপকানোর চেষ্টাকে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ জানিয়েছে, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্থাপনার মর্যাদা রক্ষায় তারা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
গুজব প্রতিরোধে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া, যাচাই-বাছাই ছাড়া আবেগপ্রবণ হয়ে কোনো তথ্য শেয়ার না করা এবং মিথ্যা প্রচারণার বিপরীতে সত্য তথ্য তুলে ধরার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

















