ঢাকা ০২:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে দেশ পাল্টে যাবে, আর অপশাসন ফিরবে না: প্রধান উপদেষ্টা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৯:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪৮ বার পড়া হয়েছে

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে বাংলাদেশের সামগ্রিক চালচিত্র পাল্টে যাবে এবং ভবিষ্যতে দেশে আর কোনোদিন অপশাসন ফিরে আসবে না। সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে সচিবালয়ে সিনিয়র সচিব ও সচিবদের সঙ্গে এক ‘গেট টুগেদার’ অনুষ্ঠানে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রধান উপদেষ্টা মনে করেন, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট দেশের বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোয় এক বৈপ্লবিক এবং ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসবে, যা দীর্ঘস্থায়ী গণতন্ত্রের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন তাঁর প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি জানান, সচিবালয়ের ওই অনুষ্ঠানে প্রায় ৭০ জন শীর্ষ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। ড. ইউনূস সেখানে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের কার্যক্রমের মূল্যায়ন করেন এবং দ্রুততম সময়ে প্রায় ১৩০টি অধ্যাদেশ জারি ও বাস্তবায়নে সচিবদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

অতীতের ‘ভুয়া’ নির্বাচন বনাম বর্তমানের প্রস্তুতি: প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে অতীতের নির্বাচনগুলোর তীব্র সমালোচনা করে বলেন, গত ১৫ বছরে যেসব নির্বাচন হয়েছে, সেগুলো প্রকৃত অর্থে নির্বাচন ছিল না বরং সেগুলো ছিল এক ধরনের ‘ভুয়া নির্বাচন’। শেখ হাসিনার আমলের সেই নির্বাচনগুলোর কোনো আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ছিল না এবং কোনো বিশ্বাসযোগ্য পর্যবেক্ষক দলও আসেনি। তবে এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইতিমধ্যে বিপুলসংখ্যক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসছেন, যা প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ওপর বহির্বিশ্বের আস্থা পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

প্রযুক্তি ও নিরাপত্তার ব্যাপক ব্যবহার: নির্বাচন প্রক্রিয়াকে অধিকতর স্বচ্ছ ও নাগরিকবান্ধব করতে এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা জানান:

  • নির্বাচন বন্ধু হটলাইন-৩৩৩: ভোটারদের তথ্য প্রদান ও অভিযোগ গ্রহণের জন্য এই বিশেষ হটলাইন চালু করা হয়েছে।
  • ভোটার অ্যাপ: ভোটাররা যেন সহজেই তাদের ভোটকেন্দ্র ও অন্যান্য তথ্য পান, সে জন্য একটি আধুনিক অ্যাপ চালু হয়েছে।
  • নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ: ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে আলাদা অ্যাপ ব্যবহৃত হচ্ছে।
  • বডি ওর্ন ও সিসিটিভি ক্যামেরা: প্রায় ২৫ হাজার ৭০০টি বডি ওর্ন ক্যামেরা এবং সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যা কারচুপি ও সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

প্রবাসী ও তরুণদের ভূমিকা: ড. ইউনূস বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা সরাসরি দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এটি তাঁদের ভূমিকার প্রতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মর্যাদার প্রতিফলন। পাশাপাশি তিনি দেশের তরুণ প্রজন্মকে ‘বিশাল সম্পদ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ভবিষ্যতে তাঁরাই দেশকে উত্তরোত্তর উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

অর্থনৈতিক সম্ভাবনা: দেশের অর্থনীতির বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি হতে যাচ্ছে, তার ফলে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে অন্যান্য দেশেও শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়া যাবে। এর ফলে বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে কারখানা স্থাপনে আগ্রহী হবেন, যা বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।

পরিশেষে ড. ইউনূস বলেন, নির্বাচনের আর মাত্র দুই দিন বাকি এবং দেশ প্রায় তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে। গণভোটে জনগণের রায় প্রতিফলিত হলে একটি বৈষম্যহীন ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণ সম্ভব হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনগরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ: ছুরিকাঘাতে হিফজ বিভাগের ছাত্র নিহত

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে দেশ পাল্টে যাবে, আর অপশাসন ফিরবে না: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ১০:২৯:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে বাংলাদেশের সামগ্রিক চালচিত্র পাল্টে যাবে এবং ভবিষ্যতে দেশে আর কোনোদিন অপশাসন ফিরে আসবে না। সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে সচিবালয়ে সিনিয়র সচিব ও সচিবদের সঙ্গে এক ‘গেট টুগেদার’ অনুষ্ঠানে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রধান উপদেষ্টা মনে করেন, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট দেশের বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোয় এক বৈপ্লবিক এবং ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসবে, যা দীর্ঘস্থায়ী গণতন্ত্রের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন তাঁর প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি জানান, সচিবালয়ের ওই অনুষ্ঠানে প্রায় ৭০ জন শীর্ষ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। ড. ইউনূস সেখানে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের কার্যক্রমের মূল্যায়ন করেন এবং দ্রুততম সময়ে প্রায় ১৩০টি অধ্যাদেশ জারি ও বাস্তবায়নে সচিবদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

অতীতের ‘ভুয়া’ নির্বাচন বনাম বর্তমানের প্রস্তুতি: প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে অতীতের নির্বাচনগুলোর তীব্র সমালোচনা করে বলেন, গত ১৫ বছরে যেসব নির্বাচন হয়েছে, সেগুলো প্রকৃত অর্থে নির্বাচন ছিল না বরং সেগুলো ছিল এক ধরনের ‘ভুয়া নির্বাচন’। শেখ হাসিনার আমলের সেই নির্বাচনগুলোর কোনো আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ছিল না এবং কোনো বিশ্বাসযোগ্য পর্যবেক্ষক দলও আসেনি। তবে এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইতিমধ্যে বিপুলসংখ্যক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসছেন, যা প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ওপর বহির্বিশ্বের আস্থা পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

প্রযুক্তি ও নিরাপত্তার ব্যাপক ব্যবহার: নির্বাচন প্রক্রিয়াকে অধিকতর স্বচ্ছ ও নাগরিকবান্ধব করতে এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা জানান:

  • নির্বাচন বন্ধু হটলাইন-৩৩৩: ভোটারদের তথ্য প্রদান ও অভিযোগ গ্রহণের জন্য এই বিশেষ হটলাইন চালু করা হয়েছে।
  • ভোটার অ্যাপ: ভোটাররা যেন সহজেই তাদের ভোটকেন্দ্র ও অন্যান্য তথ্য পান, সে জন্য একটি আধুনিক অ্যাপ চালু হয়েছে।
  • নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ: ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে আলাদা অ্যাপ ব্যবহৃত হচ্ছে।
  • বডি ওর্ন ও সিসিটিভি ক্যামেরা: প্রায় ২৫ হাজার ৭০০টি বডি ওর্ন ক্যামেরা এবং সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যা কারচুপি ও সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

প্রবাসী ও তরুণদের ভূমিকা: ড. ইউনূস বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা সরাসরি দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এটি তাঁদের ভূমিকার প্রতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মর্যাদার প্রতিফলন। পাশাপাশি তিনি দেশের তরুণ প্রজন্মকে ‘বিশাল সম্পদ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ভবিষ্যতে তাঁরাই দেশকে উত্তরোত্তর উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

অর্থনৈতিক সম্ভাবনা: দেশের অর্থনীতির বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি হতে যাচ্ছে, তার ফলে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে অন্যান্য দেশেও শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়া যাবে। এর ফলে বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে কারখানা স্থাপনে আগ্রহী হবেন, যা বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।

পরিশেষে ড. ইউনূস বলেন, নির্বাচনের আর মাত্র দুই দিন বাকি এবং দেশ প্রায় তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে। গণভোটে জনগণের রায় প্রতিফলিত হলে একটি বৈষম্যহীন ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণ সম্ভব হবে।