গত এক বছরে ময়মনসিংহ জেলায় রেকর্ড ১১১টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে মব জাস্টিস এবং রাজনৈতিক নাশকতায় পুড়িয়ে মারার মতো নৃশংসতা জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন থানায় গত এক বছরে দায়ের হওয়া ১১১টি হত্যা মামলার পরিসংখ্যানে একটি উত্তপ্ত জনপদের চিত্র ফুটে উঠেছে। জেলা পুলিশের তথ্যমতে, এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৯টি মামলা হয়েছে কোতোয়ালি থানায় এবং ১১টি করে মামলা হয়েছে ত্রিশাল ও তারাকান্দা থানায়। এছাড়া ভালুকা, গৌরীপুর, নান্দাইল ও হালুয়াঘাটে ৮টি করে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। প্রতিটি খুনের রহস্য উদঘাটন এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে জেলা পুলিশ কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।
আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডসমূহ:
- শ্রমিক দিপু হত্যা (ভালুকা): ১৮ ডিসেম্বর রাতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পাইওনিয়ার নিটওয়্যারসের লিংকিং সেকশনের শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে কারখানা থেকে বের করে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মহাসড়কের পাশে গাছে তাঁর মরদেহ ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, কারখানার অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। এ ঘটনায় ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে নেতৃত্বদানকারী এক ইমাম ও মাদরাসা শিক্ষক রয়েছেন।
- বাসচালক জুলহাস হত্যা (ফুলবাড়ীয়া): ১১ নভেম্বর রাতে দাঁড়িয়ে থাকা ‘আলম এশিয়া’ পরিবহনের একটি বাসে দুর্বৃত্তরা আগুন দিলে ভেতরে ঘুমন্ত অবস্থায় চালক জুলহাস উদ্দিন দগ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় স্থানীয় এক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বিষয়টিকে ‘সুস্পষ্ট নাশকতা’ হিসেবে দেখছে পুলিশ।
- অন্যান্য অপরাধ: ত্রিশালে বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন এবং পাগলায় চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার মতো ঘটনায় মব ভায়োলেন্সের ভয়ংকর রূপ প্রকাশ পেয়েছে। পাগলার ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামিকে ইতোমধ্যে র্যাব গ্রেপ্তার করেছে।
ময়মনসিংহের বিভিন্ন থানায় মামলার সংখ্যা:
| থানার নাম | মামলার সংখ্যা | থানার নাম | মামলার সংখ্যা |
| কোতোয়ালি | ১৯টি | ত্রিশাল | ১১টি |
| তারাকান্দা | ১১টি | ভালুকা | ৮টি |
| নান্দাইল | ৮টি | গৌরীপুর | ৮টি |
| হালুয়াঘাট | ৮টি | মুক্তাগাছা | ৭টি |
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে চলছে। বেশিরভাগ মামলার রহস্য এরই মধ্যে উন্মোচিত হয়েছে এবং মূল আসামিদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তবে অপরাধের এমন উচ্চ হার নিয়ন্ত্রণে সামাজিক সচেতনতা ও পুলিশের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রিপোর্টারের নাম 























