ঢাকা ১০:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

সততার শক্তি: ভুল স্বীকারের মধ্যেই নিহিত মানুষের প্রকৃত মর্যাদা ও কল্যাণ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫৩ বার পড়া হয়েছে

মানুষ স্বভাবগতভাবেই ভুল করে। জেনে বা না জেনে, ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় ভুল হওয়াটা মানুষের জীবনের একটি স্বাভাবিক অংশ। তবে সেই ভুলের ওপর জেদ করে অটল থাকা এবং ভুল স্বীকার করতে না পারাটা অহংকারের প্রকাশ, যা চূড়ান্ত ধ্বংস ডেকে আনে। এর বিপরীতে, নিজের ভুল অকপটে স্বীকার করে অনুতপ্ত হওয়া একটি মহৎ গুণ। এই গুণই মানুষকে নৈতিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যায়।

একজন ব্যক্তি যখন সাহসের সঙ্গে নিজের ভুল স্বীকার করে এবং আন্তরিকভাবে ক্ষমা চায়, তখন অন্যের মনে তার প্রতি সম্মান বহুগুণ বেড়ে যায়। যদিও একটি অকপট স্বীকারোক্তি সাময়িকভাবে কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, কিন্তু এর সুদূরপ্রসারী ফলাফল সব সময় ইতিবাচক হয়।

ভুল স্বীকারকারী ব্যক্তি সব সময় অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকেন। সাহাবি আবু দারদা (রা.)-এর বর্ণনায় রয়েছে, একবার আবু বকর (রা.) এবং ওমর (রা.)-এর মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি হলে আবু বকর (রা.) ওমর (রা.)-কে রাগিয়ে দেন। ওমর (রা.) তখন রাগান্বিত অবস্থায় চলে যান এবং আবু বকর (রা.) তাঁর কাছে ক্ষমা চাইতে চাইতে পিছু নেন। কিন্তু ওমর (রা.) তাঁকে ক্ষমা না করে বরং দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর আবু বকর (রা.) মহানবী (সা.)-এর কাছে এলে ঘটনা শুনে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, “তোমাদের এই সঙ্গী আবু বকর আগে কল্যাণ লাভ করেছে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৬৪০)।

ভুল স্বীকার করাকে মানুষের দুর্বলতা হিসেবে দেখা উচিত নয়, বরং এটি নৈতিক শক্তির প্রমাণ। ইসলামের দৃষ্টিতে, ভুলের ওপর জেদ করে অটল থাকা নিন্দনীয়। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, “প্রত্যেক মানুষ ভুল করে, সর্বোত্তম ভুলকারী সেই, যে অনুতপ্ত হয় (এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে)।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৪৯৯)।

ভুল স্বীকার করার সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলো, এর মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তা রাব্বুল আলামিনের ক্ষমা লাভ করা সহজ হয়ে যায়। মহান আল্লাহ কোরআনে বলেছেন, “কিছু লোক আছে, যারা তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে। তারা তাদের কর্মে ভালো ও মন্দ মিশ্রিত করেছে। অবশ্যই আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতিক্ষমাশীল ও দয়াবান।” (সুরা: তাওবা, আয়াত: ১০২)।

নবীদের জীবন থেকেও এই শিক্ষা পাওয়া যায়। শয়তানের প্ররোচনায় আল্লাহর আদেশ অমান্য করে নিষিদ্ধ ফল খাওয়ার পর আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.) অনুতপ্ত হন এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন, “হে আমাদের রব! আমরা আমাদের নিজেদের ওপর জুলুম করেছি। যদি আপনি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং দয়া না করেন, তাহলে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।” (সুরা: আরাফ, আয়াত: ২৩)। তাদের এই আকুতিভরা প্রার্থনা আল্লাহ কবুল করেন এবং তাদের ক্ষমা করে দেন। এর বিপরীতে, ইবলিস অহংকারবশত নিজের ভুল স্বীকার করেনি; বরং বিতর্কে লিপ্ত হয়, ফলে সে চিরদিনের জন্য অভিশপ্ত ও বিতাড়িত হয়। সুতরাং, ভুল স্বীকার করা নবীদের গুণ, আর নিজ ভুলের ওপর অটল থাকা শয়তানের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহর নবী ইউনুস (আ.)-ও আল্লাহর নির্দেশের অপেক্ষা না করে কর্মস্থল ত্যাগ করার ভুলের জন্য মাছের পেটে বন্দি হন। অনুতপ্ত হৃদয়ে ক্ষমা চেয়ে তিনি দোয়া করেন— “(হে আল্লাহ!) তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তুমি পবিত্র। আর নিশ্চয়ই আমি সীমা লঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত।” (সুরা: আম্বিয়া, আয়াত: ৮৭)। তাঁর এই অকপট স্বীকারোক্তি আল্লাহ কবুল করেন এবং তাঁকে সেই বিপদ থেকে মুক্ত করেন।

সাহাবাদের জীবন থেকেও এর মহান দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। মহানবী (সা.)-এর খাদেম রাবিআহ আল-আসলামি (রা.) এবং আবু বকর (রা.)-এর মধ্যে জমির সীমানা নিয়ে একবার বিতর্ক শুরু হয়। বিতর্কের এক পর্যায়ে আবু বকর (রা.) রাবিআহ (রা.)-কে এমন এক কথা বলেন যা তাঁর জন্য পীড়াদায়ক ছিল। কিন্তু কথাটি বলার সঙ্গে সঙ্গেই আবু বকর (রা.) অনুতপ্ত হন এবং রাবিআহ (রা.)-কে অনুরোধ করেন যেন তিনি একই কথা বলে প্রতিশোধ নেন। কিন্তু রাবিআহ (রা.) তা করতে অস্বীকার করেন। আবু বকর (রা.) তখন বলেন, হয় তুমি প্রতিশোধ নাও, না হয় আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে নালিশ করব। রাবিআহ (রা.) তখন রাসুল (সা.)-এর কাছে যাওয়ার পথে তাঁর গোত্রের লোকেদের আবু বকরের বিরুদ্ধে সাহায্য করতে নিষেধ করেন এবং বলেন, “তোমরা কি জানো তিনি কে? তিনি আবু বকর সিদ্দিক। তাঁর ক্রোধের কারণে রাসুল (সা.) ক্রোধান্বিত হবেন, আর তাঁদের দুজনের ক্রোধের কারণে আল্লাহ ক্রোধান্বিত হবেন, ফলে আমি ধ্বংস হয়ে যাব।” শেষে তাঁরা দুজনেই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে পৌঁছালে সব শুনে আল্লাহর রাসুল (সা.) রাবিআহ (রা.)-কে বলেন, “না, তুমি তাঁর কথার জবাবে কটু কথা বলবে না; বরং তুমি বলো, হে আবু বকর! আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে দিন।” রাসুল (সা.)-এর এই মহৎ শিক্ষা শুনে আবু বকর (রা.) কাঁদতে কাঁদতে ফিরে যান। (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস: ১৬৬২৭)।

অন্যদিকে, যে ব্যক্তি ভুল স্বীকার করে না, তার একটি ভুল তাকে আরেকটি ভুলের দিকে নিয়ে যায়। সে তার ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারে না বলে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকে এবং তার ব্যক্তিগত বিকাশ ও অগ্রগতি থেমে যায়। ক্রমাগত ভুল অস্বীকার করার ফলে ব্যক্তির মধ্যে এক ধরনের মিথ্যা অহংকার তৈরি হয়, যা তাকে নির্ভুল ভাবতে শেখায় এবং এই মানসিকতা শেষ পর্যন্ত তার জীবনে ধ্বংস ডেকে আনে। পরিশেষে, ভুল স্বীকার করা দুর্বলতা নয়, বরং এটি এক ধরনের নৈতিক শক্তি, যা মানুষকে বলীয়ান করে তোলে। যে ব্যক্তি ভুল স্বীকারকে দুর্বলতা হিসেবে না দেখে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগায়, সেই ব্যক্তি ইহকাল ও পরকালে এগিয়ে যায়।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবাননে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় ১১ ইসরাইলি সেনা আহত, আশঙ্কাজনক ৩

সততার শক্তি: ভুল স্বীকারের মধ্যেই নিহিত মানুষের প্রকৃত মর্যাদা ও কল্যাণ

আপডেট সময় : ১১:২৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

মানুষ স্বভাবগতভাবেই ভুল করে। জেনে বা না জেনে, ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় ভুল হওয়াটা মানুষের জীবনের একটি স্বাভাবিক অংশ। তবে সেই ভুলের ওপর জেদ করে অটল থাকা এবং ভুল স্বীকার করতে না পারাটা অহংকারের প্রকাশ, যা চূড়ান্ত ধ্বংস ডেকে আনে। এর বিপরীতে, নিজের ভুল অকপটে স্বীকার করে অনুতপ্ত হওয়া একটি মহৎ গুণ। এই গুণই মানুষকে নৈতিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যায়।

একজন ব্যক্তি যখন সাহসের সঙ্গে নিজের ভুল স্বীকার করে এবং আন্তরিকভাবে ক্ষমা চায়, তখন অন্যের মনে তার প্রতি সম্মান বহুগুণ বেড়ে যায়। যদিও একটি অকপট স্বীকারোক্তি সাময়িকভাবে কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, কিন্তু এর সুদূরপ্রসারী ফলাফল সব সময় ইতিবাচক হয়।

ভুল স্বীকারকারী ব্যক্তি সব সময় অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকেন। সাহাবি আবু দারদা (রা.)-এর বর্ণনায় রয়েছে, একবার আবু বকর (রা.) এবং ওমর (রা.)-এর মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি হলে আবু বকর (রা.) ওমর (রা.)-কে রাগিয়ে দেন। ওমর (রা.) তখন রাগান্বিত অবস্থায় চলে যান এবং আবু বকর (রা.) তাঁর কাছে ক্ষমা চাইতে চাইতে পিছু নেন। কিন্তু ওমর (রা.) তাঁকে ক্ষমা না করে বরং দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর আবু বকর (রা.) মহানবী (সা.)-এর কাছে এলে ঘটনা শুনে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, “তোমাদের এই সঙ্গী আবু বকর আগে কল্যাণ লাভ করেছে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৬৪০)।

ভুল স্বীকার করাকে মানুষের দুর্বলতা হিসেবে দেখা উচিত নয়, বরং এটি নৈতিক শক্তির প্রমাণ। ইসলামের দৃষ্টিতে, ভুলের ওপর জেদ করে অটল থাকা নিন্দনীয়। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, “প্রত্যেক মানুষ ভুল করে, সর্বোত্তম ভুলকারী সেই, যে অনুতপ্ত হয় (এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে)।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৪৯৯)।

ভুল স্বীকার করার সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলো, এর মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তা রাব্বুল আলামিনের ক্ষমা লাভ করা সহজ হয়ে যায়। মহান আল্লাহ কোরআনে বলেছেন, “কিছু লোক আছে, যারা তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে। তারা তাদের কর্মে ভালো ও মন্দ মিশ্রিত করেছে। অবশ্যই আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতিক্ষমাশীল ও দয়াবান।” (সুরা: তাওবা, আয়াত: ১০২)।

নবীদের জীবন থেকেও এই শিক্ষা পাওয়া যায়। শয়তানের প্ররোচনায় আল্লাহর আদেশ অমান্য করে নিষিদ্ধ ফল খাওয়ার পর আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.) অনুতপ্ত হন এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন, “হে আমাদের রব! আমরা আমাদের নিজেদের ওপর জুলুম করেছি। যদি আপনি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং দয়া না করেন, তাহলে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।” (সুরা: আরাফ, আয়াত: ২৩)। তাদের এই আকুতিভরা প্রার্থনা আল্লাহ কবুল করেন এবং তাদের ক্ষমা করে দেন। এর বিপরীতে, ইবলিস অহংকারবশত নিজের ভুল স্বীকার করেনি; বরং বিতর্কে লিপ্ত হয়, ফলে সে চিরদিনের জন্য অভিশপ্ত ও বিতাড়িত হয়। সুতরাং, ভুল স্বীকার করা নবীদের গুণ, আর নিজ ভুলের ওপর অটল থাকা শয়তানের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহর নবী ইউনুস (আ.)-ও আল্লাহর নির্দেশের অপেক্ষা না করে কর্মস্থল ত্যাগ করার ভুলের জন্য মাছের পেটে বন্দি হন। অনুতপ্ত হৃদয়ে ক্ষমা চেয়ে তিনি দোয়া করেন— “(হে আল্লাহ!) তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তুমি পবিত্র। আর নিশ্চয়ই আমি সীমা লঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত।” (সুরা: আম্বিয়া, আয়াত: ৮৭)। তাঁর এই অকপট স্বীকারোক্তি আল্লাহ কবুল করেন এবং তাঁকে সেই বিপদ থেকে মুক্ত করেন।

সাহাবাদের জীবন থেকেও এর মহান দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। মহানবী (সা.)-এর খাদেম রাবিআহ আল-আসলামি (রা.) এবং আবু বকর (রা.)-এর মধ্যে জমির সীমানা নিয়ে একবার বিতর্ক শুরু হয়। বিতর্কের এক পর্যায়ে আবু বকর (রা.) রাবিআহ (রা.)-কে এমন এক কথা বলেন যা তাঁর জন্য পীড়াদায়ক ছিল। কিন্তু কথাটি বলার সঙ্গে সঙ্গেই আবু বকর (রা.) অনুতপ্ত হন এবং রাবিআহ (রা.)-কে অনুরোধ করেন যেন তিনি একই কথা বলে প্রতিশোধ নেন। কিন্তু রাবিআহ (রা.) তা করতে অস্বীকার করেন। আবু বকর (রা.) তখন বলেন, হয় তুমি প্রতিশোধ নাও, না হয় আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে নালিশ করব। রাবিআহ (রা.) তখন রাসুল (সা.)-এর কাছে যাওয়ার পথে তাঁর গোত্রের লোকেদের আবু বকরের বিরুদ্ধে সাহায্য করতে নিষেধ করেন এবং বলেন, “তোমরা কি জানো তিনি কে? তিনি আবু বকর সিদ্দিক। তাঁর ক্রোধের কারণে রাসুল (সা.) ক্রোধান্বিত হবেন, আর তাঁদের দুজনের ক্রোধের কারণে আল্লাহ ক্রোধান্বিত হবেন, ফলে আমি ধ্বংস হয়ে যাব।” শেষে তাঁরা দুজনেই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে পৌঁছালে সব শুনে আল্লাহর রাসুল (সা.) রাবিআহ (রা.)-কে বলেন, “না, তুমি তাঁর কথার জবাবে কটু কথা বলবে না; বরং তুমি বলো, হে আবু বকর! আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে দিন।” রাসুল (সা.)-এর এই মহৎ শিক্ষা শুনে আবু বকর (রা.) কাঁদতে কাঁদতে ফিরে যান। (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস: ১৬৬২৭)।

অন্যদিকে, যে ব্যক্তি ভুল স্বীকার করে না, তার একটি ভুল তাকে আরেকটি ভুলের দিকে নিয়ে যায়। সে তার ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারে না বলে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকে এবং তার ব্যক্তিগত বিকাশ ও অগ্রগতি থেমে যায়। ক্রমাগত ভুল অস্বীকার করার ফলে ব্যক্তির মধ্যে এক ধরনের মিথ্যা অহংকার তৈরি হয়, যা তাকে নির্ভুল ভাবতে শেখায় এবং এই মানসিকতা শেষ পর্যন্ত তার জীবনে ধ্বংস ডেকে আনে। পরিশেষে, ভুল স্বীকার করা দুর্বলতা নয়, বরং এটি এক ধরনের নৈতিক শক্তি, যা মানুষকে বলীয়ান করে তোলে। যে ব্যক্তি ভুল স্বীকারকে দুর্বলতা হিসেবে না দেখে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগায়, সেই ব্যক্তি ইহকাল ও পরকালে এগিয়ে যায়।