ঢাকা ০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকায় আগুন: সিলেটে দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর উড়াল দিল আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটগুলো

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০০:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫
  • ৪৭ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুন লাগার ঘটনার পর সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান চলাচল বিঘ্নিত হয়। সেদিন বিকেল ৩টার পর এই বিমানবন্দর থেকে কোনো ফ্লাইট আর গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়নি। তবে এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ বিমানের একটি এবং ইউএস-বাংলার দুটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ওসমানী বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। অবশেষে প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা পর রাত ৯টা ২২ মিনিটে এই বিমানবন্দর থেকে আবার বিমান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অবশেষে রাত প্রায় ২টার দিকে এয়ার অ্যাস্ট্রার একটি ফ্লাইট ঢাকার উদ্দেশ্যে সিলেট ছেড়ে যায়। রাত ২টায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্তও বাংলাদেশ বিমানের অভ্যন্তরীণ রুটের একটি ফ্লাইটের যাত্রীরা তখনো বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ ছিলেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

ওসমানী বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদ জানান, রাত ৯টা ২২ মিনিটে প্রথম নভোএয়ারের একটি ফ্লাইট ঢাকার উদ্দেশ্যে সিলেট বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

এরপর আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোও একে একে উড়াল দেয়। সিঙ্গাপুর থেকে জরুরি অবতরণ করা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি রাত ১০টা ১ মিনিটে এবং রিয়াদ থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এছাড়া, মালদ্বীপ থেকে আসা ইউএস-বাংলার অন্য ফ্লাইটটি রাত সাড়ে ১০টা ৪০ মিনিটে ওসমানী বিমানবন্দর ছাড়ে।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের পর অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইটগুলোও ঢাকার উদ্দেশ্যে উড়াল দেয়। সিলেট এয়ারলাইন্স ক্লাবের সভাপতি সৈয়দ বেলায়েত হোসেন লিমন জানান, রাত ১১টা ১৭ মিনিটে অভ্যন্তরীণ রুটে ইউএস-বাংলার সর্বশেষ ফ্লাইটটি ওসমানী বিমানবন্দর ছেড়ে যায়। মালদ্বীপ ও সিঙ্গাপুর থেকে আসা ইউএস-বাংলার যাত্রীদের তারা বিমানবন্দরে খাবার সরবরাহ করেন।

জানা যায়, সেদিন বিকেল ৩টা ৩১ মিনিটে রিয়াদ থেকে ঢাকাগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৭৭ বিজি-৩৪০ ফ্লাইটটি ৩৯৬ জন যাত্রী নিয়ে সিলেটে অবতরণ করে। এছাড়াও সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকাগামী ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইট ১৫৩ জন যাত্রী নিয়ে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামে। এই ঘটনার কারণে সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা তিনটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটও দেরিতে ছাড়ায় ঢাকাগামী যাত্রীরা বেশ ভোগান্তিতে পড়েন। যদিও রিয়াদ থেকে আসা ফ্লাইটের ১২ জন যাত্রীর গন্তব্য সিলেট হওয়ায় তাদের বোর্ডিং পাস দেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যায় এই বিমানবন্দরে মালদ্বীপ থেকে ঢাকাগামী ইউএস-বাংলার আরও একটি ফ্লাইট অবতরণ করে। বিমান সূত্র জানিয়েছে, রাতে সবগুলো ফ্লাইটই বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

এয়ার অ্যাস্ট্রার যাত্রী এবং এনবিআর-এর কর গোয়েন্দা সেলের প্রধান আব্দুর রকিব জানান, তাদের বহনকারী বিমানটি শনিবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটে সিলেট থেকে ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কার্গো ভিলেজে আগুন লাগার কারণে ঢাকা থেকে এয়ার অ্যাস্ট্রার ফ্লাইটটি টেইক অফ করে রাত ১টায়। এরপর রাত পৌনে ২টায় তাদের বিমানে তোলা হয় এবং এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি ছেড়ে যায়। এই কর কর্মকর্তা আরও জানান, ফ্লাইটের জন্য তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছিল।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সমীকরণ: চীন থেকে অত্যাধুনিক সুপারসনিক মিসাইল কিনছে ইরান

ঢাকায় আগুন: সিলেটে দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর উড়াল দিল আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটগুলো

আপডেট সময় : ১১:০০:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুন লাগার ঘটনার পর সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান চলাচল বিঘ্নিত হয়। সেদিন বিকেল ৩টার পর এই বিমানবন্দর থেকে কোনো ফ্লাইট আর গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়নি। তবে এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ বিমানের একটি এবং ইউএস-বাংলার দুটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ওসমানী বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। অবশেষে প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা পর রাত ৯টা ২২ মিনিটে এই বিমানবন্দর থেকে আবার বিমান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অবশেষে রাত প্রায় ২টার দিকে এয়ার অ্যাস্ট্রার একটি ফ্লাইট ঢাকার উদ্দেশ্যে সিলেট ছেড়ে যায়। রাত ২টায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্তও বাংলাদেশ বিমানের অভ্যন্তরীণ রুটের একটি ফ্লাইটের যাত্রীরা তখনো বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ ছিলেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

ওসমানী বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদ জানান, রাত ৯টা ২২ মিনিটে প্রথম নভোএয়ারের একটি ফ্লাইট ঢাকার উদ্দেশ্যে সিলেট বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

এরপর আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোও একে একে উড়াল দেয়। সিঙ্গাপুর থেকে জরুরি অবতরণ করা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি রাত ১০টা ১ মিনিটে এবং রিয়াদ থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এছাড়া, মালদ্বীপ থেকে আসা ইউএস-বাংলার অন্য ফ্লাইটটি রাত সাড়ে ১০টা ৪০ মিনিটে ওসমানী বিমানবন্দর ছাড়ে।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের পর অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইটগুলোও ঢাকার উদ্দেশ্যে উড়াল দেয়। সিলেট এয়ারলাইন্স ক্লাবের সভাপতি সৈয়দ বেলায়েত হোসেন লিমন জানান, রাত ১১টা ১৭ মিনিটে অভ্যন্তরীণ রুটে ইউএস-বাংলার সর্বশেষ ফ্লাইটটি ওসমানী বিমানবন্দর ছেড়ে যায়। মালদ্বীপ ও সিঙ্গাপুর থেকে আসা ইউএস-বাংলার যাত্রীদের তারা বিমানবন্দরে খাবার সরবরাহ করেন।

জানা যায়, সেদিন বিকেল ৩টা ৩১ মিনিটে রিয়াদ থেকে ঢাকাগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৭৭ বিজি-৩৪০ ফ্লাইটটি ৩৯৬ জন যাত্রী নিয়ে সিলেটে অবতরণ করে। এছাড়াও সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকাগামী ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইট ১৫৩ জন যাত্রী নিয়ে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামে। এই ঘটনার কারণে সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা তিনটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটও দেরিতে ছাড়ায় ঢাকাগামী যাত্রীরা বেশ ভোগান্তিতে পড়েন। যদিও রিয়াদ থেকে আসা ফ্লাইটের ১২ জন যাত্রীর গন্তব্য সিলেট হওয়ায় তাদের বোর্ডিং পাস দেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যায় এই বিমানবন্দরে মালদ্বীপ থেকে ঢাকাগামী ইউএস-বাংলার আরও একটি ফ্লাইট অবতরণ করে। বিমান সূত্র জানিয়েছে, রাতে সবগুলো ফ্লাইটই বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

এয়ার অ্যাস্ট্রার যাত্রী এবং এনবিআর-এর কর গোয়েন্দা সেলের প্রধান আব্দুর রকিব জানান, তাদের বহনকারী বিমানটি শনিবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটে সিলেট থেকে ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কার্গো ভিলেজে আগুন লাগার কারণে ঢাকা থেকে এয়ার অ্যাস্ট্রার ফ্লাইটটি টেইক অফ করে রাত ১টায়। এরপর রাত পৌনে ২টায় তাদের বিমানে তোলা হয় এবং এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি ছেড়ে যায়। এই কর কর্মকর্তা আরও জানান, ফ্লাইটের জন্য তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছিল।