ঢাকা ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

অলস পড়ে থাকা এসপিএমের লোকসান ও চোরাচালান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১৩:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

সাফল্যের বদলে অলস পড়ে থাকা এই প্রকল্পের জন্য সরকারকে প্রতি মাসে ৬৬ কোটি টাকা গচ্চা দিতে হচ্ছে। গত বছর জুলাই মাসে মহেশখালীতে গভীর সমুদ্রের নিচ দিয়ে জ্বালানি তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে চট্টগ্রামে খালাসের জন্য ‘সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং’ বা এসপিএম প্রকল্পটি চালু করা হয়, কিন্তু এক বছরেও এর সুফল মেলেনি।

এই প্রকল্পটির আওতায় প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২২০ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি পাইপলাইন বসানো হয়। আগে আমদানি করা জ্বালানি তেল বড় জাহাজ থেকে ভাড়া করা লাইটার জাহাজে করে ইস্টার্ন রিফাইনারি ট্যাংকে আনতে ১১ থেকে ১২ দিন সময় লাগত। এই প্রকল্পটি চালু হলে সমপরিমাণ তেল পরিবহনে সময় লাগত মাত্র দুই দিন, যা বছরে সরকারের ৮০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করত।

তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার জানান, পাইপলাইন দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহনে দক্ষ স্থানীয় কোম্পানি নেই এবং বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানকেও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে এসপিএম প্রকল্পের সাফল্য মিলছে না।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নির্মাণকাজের সময় সঠিক পরিকল্পনার অভাব ছিল। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আমিন উল আহসান জানান, এই সুযোগে জ্বালানি তেলের চোরাই সিন্ডিকেটের সদস্যরা বহির্নোঙর থেকে অপরিশোধিত ক্রুড, ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল গোপনে বিক্রি করছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা থেকেও বছরের পর বছর ধরে চোরাই পথে সরকারি তেল লোপাট হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

জিয়াউর রহমানের আদর্শ নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে: রাষ্ট্রপতি

অলস পড়ে থাকা এসপিএমের লোকসান ও চোরাচালান

আপডেট সময় : ০৪:১৩:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

সাফল্যের বদলে অলস পড়ে থাকা এই প্রকল্পের জন্য সরকারকে প্রতি মাসে ৬৬ কোটি টাকা গচ্চা দিতে হচ্ছে। গত বছর জুলাই মাসে মহেশখালীতে গভীর সমুদ্রের নিচ দিয়ে জ্বালানি তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে চট্টগ্রামে খালাসের জন্য ‘সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং’ বা এসপিএম প্রকল্পটি চালু করা হয়, কিন্তু এক বছরেও এর সুফল মেলেনি।

এই প্রকল্পটির আওতায় প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২২০ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি পাইপলাইন বসানো হয়। আগে আমদানি করা জ্বালানি তেল বড় জাহাজ থেকে ভাড়া করা লাইটার জাহাজে করে ইস্টার্ন রিফাইনারি ট্যাংকে আনতে ১১ থেকে ১২ দিন সময় লাগত। এই প্রকল্পটি চালু হলে সমপরিমাণ তেল পরিবহনে সময় লাগত মাত্র দুই দিন, যা বছরে সরকারের ৮০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করত।

তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার জানান, পাইপলাইন দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহনে দক্ষ স্থানীয় কোম্পানি নেই এবং বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানকেও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে এসপিএম প্রকল্পের সাফল্য মিলছে না।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নির্মাণকাজের সময় সঠিক পরিকল্পনার অভাব ছিল। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আমিন উল আহসান জানান, এই সুযোগে জ্বালানি তেলের চোরাই সিন্ডিকেটের সদস্যরা বহির্নোঙর থেকে অপরিশোধিত ক্রুড, ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল গোপনে বিক্রি করছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা থেকেও বছরের পর বছর ধরে চোরাই পথে সরকারি তেল লোপাট হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।