ঢাকা ০৮:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকায় ক্যাথলিক গির্জায় ককটেল হামলা: আওয়ামী লীগের এক সমর্থক গ্রেপ্তার

সম্প্রতি ঢাকার হলি রোজারি ক্যাথলিক চার্চের মূল ফটকে ককটেল হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের ক্যাথলিক নেতারা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সরকারের কাছে কড়া পদক্ষেপ দাবি করেছেন। গত ৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মোটরসাইকেলে আসা অজ্ঞাত হামলাকারীরা গির্জাটির প্রধান ফটকে দ্রুত পরপর দুটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ (ককটেল) বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে আশেপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে আরও দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনার জেরে গত শনিবার পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত ওই মুসলিম ব্যক্তি গত বছর ক্ষমতাচ্যুত হওয়া আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। গত বছরের ‘জুলাই বিপ্লবের’ পরে ছাত্র বিক্ষোভের মুখে আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ববাদী প্রধান শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান। এরপর সরকার সন্ত্রাস দমন আইনে আওয়ামী লীগের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। এরপর থেকেই বিভিন্ন ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলো ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায়ই আক্রমণ চালাচ্ছে।

হলি রোজারি ক্যাথলিক চার্চের প্যারিশ পুরোহিত জয়ন্ত এস. গোমেজ ‘ক্রাক্স’ পত্রিকাকে বলেন, “আমরা মনে করি এই ঘটনাটি আমাদের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কাছে একটি খারাপ বার্তা দিচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, সবার নিরাপদে ধর্ম পালনের অধিকার আছে এবং খ্রিস্টানরা, বিশেষ করে ক্যাথলিকরা, কোনো ধরনের ভয় ছাড়াই তাদের ধর্ম পালন করতে চায়।

ঘটনার পর বাংলাদেশ ক্যাথলিক বিশপস কনফারেন্সের প্রধান আর্চবিশপ বিজয় ক্রুজ একটি বিবৃতিতে দ্রুত ও সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তির এবং সাম্প্রদায়িক সহিংসতা উসকে দেওয়ার ভয় রয়েছে, যার ফলে খ্রিস্টান সংখ্যালঘুরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে পারেন।

হামলার পরপরই পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ৯ অক্টোবর সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। তিনি নিশ্চিত করেন, এ ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে মামলা হয়েছে এবং জড়িতদের খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে, তিনি আশ্বাস দেন যে ঢাকার সব খ্রিস্টান প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এই সর্বশেষ হামলায় আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তির গ্রেপ্তারের ঘটনাটি বাংলাদেশের মতো ঐতিহ্যগতভাবে সহনশীল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে রাজনৈতিক সংঘাত এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন ও উদ্বেগজনক মাত্রা যোগ করেছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে অনুমোদনহীন এলপিজি পাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: দগ্ধ ১৫, পুড়লো অর্ধশতাধিক ঘর ও ১৫ গাড়ি

ঢাকায় ক্যাথলিক গির্জায় ককটেল হামলা: আওয়ামী লীগের এক সমর্থক গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৪:০২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫

সম্প্রতি ঢাকার হলি রোজারি ক্যাথলিক চার্চের মূল ফটকে ককটেল হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের ক্যাথলিক নেতারা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সরকারের কাছে কড়া পদক্ষেপ দাবি করেছেন। গত ৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মোটরসাইকেলে আসা অজ্ঞাত হামলাকারীরা গির্জাটির প্রধান ফটকে দ্রুত পরপর দুটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ (ককটেল) বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে আশেপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে আরও দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনার জেরে গত শনিবার পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত ওই মুসলিম ব্যক্তি গত বছর ক্ষমতাচ্যুত হওয়া আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। গত বছরের ‘জুলাই বিপ্লবের’ পরে ছাত্র বিক্ষোভের মুখে আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ববাদী প্রধান শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান। এরপর সরকার সন্ত্রাস দমন আইনে আওয়ামী লীগের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। এরপর থেকেই বিভিন্ন ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলো ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায়ই আক্রমণ চালাচ্ছে।

হলি রোজারি ক্যাথলিক চার্চের প্যারিশ পুরোহিত জয়ন্ত এস. গোমেজ ‘ক্রাক্স’ পত্রিকাকে বলেন, “আমরা মনে করি এই ঘটনাটি আমাদের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কাছে একটি খারাপ বার্তা দিচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, সবার নিরাপদে ধর্ম পালনের অধিকার আছে এবং খ্রিস্টানরা, বিশেষ করে ক্যাথলিকরা, কোনো ধরনের ভয় ছাড়াই তাদের ধর্ম পালন করতে চায়।

ঘটনার পর বাংলাদেশ ক্যাথলিক বিশপস কনফারেন্সের প্রধান আর্চবিশপ বিজয় ক্রুজ একটি বিবৃতিতে দ্রুত ও সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তির এবং সাম্প্রদায়িক সহিংসতা উসকে দেওয়ার ভয় রয়েছে, যার ফলে খ্রিস্টান সংখ্যালঘুরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে পারেন।

হামলার পরপরই পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ৯ অক্টোবর সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। তিনি নিশ্চিত করেন, এ ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে মামলা হয়েছে এবং জড়িতদের খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে, তিনি আশ্বাস দেন যে ঢাকার সব খ্রিস্টান প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এই সর্বশেষ হামলায় আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তির গ্রেপ্তারের ঘটনাটি বাংলাদেশের মতো ঐতিহ্যগতভাবে সহনশীল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে রাজনৈতিক সংঘাত এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন ও উদ্বেগজনক মাত্রা যোগ করেছে।