মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৫:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬

ভবিষ্যতের রোবটিক্স প্রযুক্তিতে কৃত্রিম সিন্যাপস

মানুষের মস্তিষ্ক যেভাবে চোখ, কান, ত্বক ও নাকের মাধ্যমে পাওয়া বিভিন্ন সংকেত সমন্বিতভাবে বিশ্লেষণ করতে পারে, সেই ক্ষমতা অর্জনে বিজ্ঞানীরা তৈরি করছেন ‘বহুমাত্রিক কৃত্রিম সিন্যাপস’। প্রচলিত প্রযুক্তি যেখানে নির্দিষ্ট সংকেতে সীমাবদ্ধ, সেখানে এই কৃত্রিম সিন্যাপসগুলো আলো, শব্দ, তাপমাত্রা ও গ্যাসীয় উদ্দীপনার প্রতি মানুষের মতো প্রতিক্রিয়া দেখাতে সক্ষম। এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে উচ্চতর বুদ্ধিমান রোবট তৈরিতে বিপ্লব ঘটাতে পারে।

এই প্রযুক্তির অন্যতম ভিত্তি হলো ‘সিন্যাপটিক প্লাস্টিসিটি’, যা উদ্দীপনা পাওয়ার পর ডিভাইসের বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে এবং উদ্দীপনা বন্ধ হওয়ার পরও সেই প্রভাব ধরে রাখে। এটি অনেকটা মানুষের স্মৃতি ধরে রাখার প্রক্রিয়ার মতো। অসংখ্য কৃত্রিম সিন্যাপসকে যুক্ত করে তৈরি করা হচ্ছে ‘নিউরোমরফিক নেটওয়ার্ক’, যেখানে তথ্য সংরক্ষণ ও গণনা একই কাঠামোর ভেতর সম্পন্ন হয়। এতে প্রচলিত কম্পিউটারের মতো মেমরি ও প্রসেসরের মধ্যে তথ্য স্থানান্তরের প্রয়োজন ফুরোবে, যা বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করবে।

এই গবেষণায় ‘মেমরিস্টর’ নামক উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মেমরিস্টরের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়ার সময় এর রোধ পরিবর্তিত হয় এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার পরও সেই পরিবর্তন বজায় থাকে, যা একে একটি আদর্শ স্মৃতিশীল বৈদ্যুতিক উপাদানে পরিণত করেছে। এই প্রক্রিয়ায় আয়নের স্থানান্তর বা ধাতব ফিলামেন্ট তৈরির মাধ্যমে ডিভাইসটি নিম্ন ও উচ্চ রোধের অবস্থার মধ্যে পরিবর্তিত হয়। ক্ষুদ্রাকৃতির এই মেমরিস্টর প্রযুক্তি ক্রসবার কাঠামোয় সাজিয়ে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ও সাশ্রয়ী কম্পিউটিং সিস্টেম তৈরি করা সম্ভব হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে পিকআপের ধাক্কায় অটোরিকশাচালক নিহত

ভবিষ্যতের রোবটিক্স প্রযুক্তিতে কৃত্রিম সিন্যাপস

আপডেট সময় : ০৪:০৬:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

মানুষের মস্তিষ্ক যেভাবে চোখ, কান, ত্বক ও নাকের মাধ্যমে পাওয়া বিভিন্ন সংকেত সমন্বিতভাবে বিশ্লেষণ করতে পারে, সেই ক্ষমতা অর্জনে বিজ্ঞানীরা তৈরি করছেন ‘বহুমাত্রিক কৃত্রিম সিন্যাপস’। প্রচলিত প্রযুক্তি যেখানে নির্দিষ্ট সংকেতে সীমাবদ্ধ, সেখানে এই কৃত্রিম সিন্যাপসগুলো আলো, শব্দ, তাপমাত্রা ও গ্যাসীয় উদ্দীপনার প্রতি মানুষের মতো প্রতিক্রিয়া দেখাতে সক্ষম। এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে উচ্চতর বুদ্ধিমান রোবট তৈরিতে বিপ্লব ঘটাতে পারে।

এই প্রযুক্তির অন্যতম ভিত্তি হলো ‘সিন্যাপটিক প্লাস্টিসিটি’, যা উদ্দীপনা পাওয়ার পর ডিভাইসের বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে এবং উদ্দীপনা বন্ধ হওয়ার পরও সেই প্রভাব ধরে রাখে। এটি অনেকটা মানুষের স্মৃতি ধরে রাখার প্রক্রিয়ার মতো। অসংখ্য কৃত্রিম সিন্যাপসকে যুক্ত করে তৈরি করা হচ্ছে ‘নিউরোমরফিক নেটওয়ার্ক’, যেখানে তথ্য সংরক্ষণ ও গণনা একই কাঠামোর ভেতর সম্পন্ন হয়। এতে প্রচলিত কম্পিউটারের মতো মেমরি ও প্রসেসরের মধ্যে তথ্য স্থানান্তরের প্রয়োজন ফুরোবে, যা বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করবে।

এই গবেষণায় ‘মেমরিস্টর’ নামক উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মেমরিস্টরের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়ার সময় এর রোধ পরিবর্তিত হয় এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার পরও সেই পরিবর্তন বজায় থাকে, যা একে একটি আদর্শ স্মৃতিশীল বৈদ্যুতিক উপাদানে পরিণত করেছে। এই প্রক্রিয়ায় আয়নের স্থানান্তর বা ধাতব ফিলামেন্ট তৈরির মাধ্যমে ডিভাইসটি নিম্ন ও উচ্চ রোধের অবস্থার মধ্যে পরিবর্তিত হয়। ক্ষুদ্রাকৃতির এই মেমরিস্টর প্রযুক্তি ক্রসবার কাঠামোয় সাজিয়ে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ও সাশ্রয়ী কম্পিউটিং সিস্টেম তৈরি করা সম্ভব হবে।