মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৩:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬

বরগুনার বামনায় বিষখালী নদীর ভয়াবহ ভাঙন: মানচিত্র পরিবর্তনের শঙ্কা, ঝুঁকিতে হাজারো পরিবার

বরগুনার উপকূলীয় উপজেলা বামনায় বিষখালী নদীর অব্যাহত ও ভয়াবহ ভাঙনে বদলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে উপজেলার মানচিত্র। নদীর প্রবল স্রোত ও করাল গ্রাসে তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামের হাজার হাজার পরিবার হারিয়ে ফেলছে তাদের শেষ সম্বল, ভূমিহীন হয়ে পড়ছে অনেকে।

তীব্র ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে নদীপাড়ের মানুষের। ইতিমধ্যে ভিটেমাটি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হারিয়ে অনেক পরিবার একবারে নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষখালী নদীতে অতি সম্প্রতি স্রোত অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার চেঁচাঁন, বেবাজিয়াখালী, অযোধ্যা, রামনা লঞ্চঘাট, দক্ষিণ রামনা এবং কলাগাছিয়া খাদ্যগুদাম সংলগ্ন আবাসন এলাকাসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে মারাত্মক ভাঙন দেখা দিয়েছে।

এতে খাদ্যগুদাম সংলগ্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পের আবাসন এবং দক্ষিণ রামনা-ফুলঝুড়ি সড়কের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ইতিমধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দ্রুত টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বরগুনা জেলা সদরের সঙ্গে বামনা উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার পাশাপাশি নদীর পানিতে তলিয়ে যেতে পারে আশপাশের অন্তত ৩০ গ্রাম।

দক্ষিণ রামনার স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন শরীফ জানান, রামনা লঞ্চঘাট ও দক্ষিণ রামনা এলাকাটি শুধু খেয়া পারাপারের স্থান ছিল না, এটি ছিল এই অঞ্চলের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এক বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র। এখানে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে পণ্যবাহী ট্রলার ও লঞ্চ ভিড়ত এবং কৃষিপণ্য ও মাছ বেচাকেনায় হাজার মানুষের সমাগম ঘটত। কিন্তু নদীর অব্যাহত ভাঙনে আজ সেই সমৃদ্ধ অতীত বিলীন হওয়ার পথে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সালাউদ্দিন হাওলাদার ও আবুল কালাম আজাদ রানা বলেন, দীর্ঘ চার দশক ধরে এলাকাটি ভাঙনের শিকার। এলাকার একমাত্র খাদ্যগুদাম, সংযোগ সড়ক এবং প্রায় ৭-৮ কিলোমিটার কৃষিজমি ও বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে চলে গেছে। প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৭০০ মানুষ এই সড়ক দিয়ে জেলা সদরে যাতায়াত করেন। তারা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত বিএনপি সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রাচীন এই জনপদ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ও জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানান।

ভাঙনের তীব্রতার বিষয়টি নিশ্চিত করে বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিকাত আরা জানান, বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পুনরায় বেশ কিছু এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের পরিবারগুলো চরম ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছে। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আদিয়ালা কারাগারে অসুস্থ ইমরান খান, স্বাস্থ্যগত কারণে পেতে পারেন রাজনৈতিক মুক্তি

বরগুনার বামনায় বিষখালী নদীর ভয়াবহ ভাঙন: মানচিত্র পরিবর্তনের শঙ্কা, ঝুঁকিতে হাজারো পরিবার

আপডেট সময় : ০১:৫৪:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

বরগুনার উপকূলীয় উপজেলা বামনায় বিষখালী নদীর অব্যাহত ও ভয়াবহ ভাঙনে বদলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে উপজেলার মানচিত্র। নদীর প্রবল স্রোত ও করাল গ্রাসে তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামের হাজার হাজার পরিবার হারিয়ে ফেলছে তাদের শেষ সম্বল, ভূমিহীন হয়ে পড়ছে অনেকে।

তীব্র ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে নদীপাড়ের মানুষের। ইতিমধ্যে ভিটেমাটি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হারিয়ে অনেক পরিবার একবারে নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষখালী নদীতে অতি সম্প্রতি স্রোত অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার চেঁচাঁন, বেবাজিয়াখালী, অযোধ্যা, রামনা লঞ্চঘাট, দক্ষিণ রামনা এবং কলাগাছিয়া খাদ্যগুদাম সংলগ্ন আবাসন এলাকাসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে মারাত্মক ভাঙন দেখা দিয়েছে।

এতে খাদ্যগুদাম সংলগ্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পের আবাসন এবং দক্ষিণ রামনা-ফুলঝুড়ি সড়কের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ইতিমধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দ্রুত টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বরগুনা জেলা সদরের সঙ্গে বামনা উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার পাশাপাশি নদীর পানিতে তলিয়ে যেতে পারে আশপাশের অন্তত ৩০ গ্রাম।

দক্ষিণ রামনার স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন শরীফ জানান, রামনা লঞ্চঘাট ও দক্ষিণ রামনা এলাকাটি শুধু খেয়া পারাপারের স্থান ছিল না, এটি ছিল এই অঞ্চলের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এক বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র। এখানে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে পণ্যবাহী ট্রলার ও লঞ্চ ভিড়ত এবং কৃষিপণ্য ও মাছ বেচাকেনায় হাজার মানুষের সমাগম ঘটত। কিন্তু নদীর অব্যাহত ভাঙনে আজ সেই সমৃদ্ধ অতীত বিলীন হওয়ার পথে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সালাউদ্দিন হাওলাদার ও আবুল কালাম আজাদ রানা বলেন, দীর্ঘ চার দশক ধরে এলাকাটি ভাঙনের শিকার। এলাকার একমাত্র খাদ্যগুদাম, সংযোগ সড়ক এবং প্রায় ৭-৮ কিলোমিটার কৃষিজমি ও বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে চলে গেছে। প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৭০০ মানুষ এই সড়ক দিয়ে জেলা সদরে যাতায়াত করেন। তারা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত বিএনপি সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রাচীন এই জনপদ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ও জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানান।

ভাঙনের তীব্রতার বিষয়টি নিশ্চিত করে বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিকাত আরা জানান, বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পুনরায় বেশ কিছু এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের পরিবারগুলো চরম ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছে। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।