মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১১:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই বিপ্লবে দৃষ্টি হারানো ৫৩৭ জনের জীবনে বিভীষিকা: শেখ হাসিনার আমলের বর্বরতার সাক্ষী

জুলাই বিপ্লবের উত্তাল সময়ে, যখন রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হচ্ছিল, তখন এক বিভীষিকাময় অধ্যায় রচিত হচ্ছিল প্রতিবাদী তরুণ প্রজন্মের জীবন ঘিরে। শেখ হাসিনার পুলিশবাহিনীর নির্বিচার গুলিতে শত শত স্বপ্নাতুর চোখ অকালে নিভে গিয়েছিল। গত ১৭ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত মাত্র ২০ দিনে গুলিতে অন্তত ৫৩৭ জন তাদের দৃষ্টিশক্তি হারান। এদের মধ্যে ৪৪ জন দুচোখেরই আলো হারিয়েছেন, আর ৪৯৩ জন হারিয়েছেন এক চোখের দৃষ্টি।

জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন এবং জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, দুই চোখের দৃষ্টি হারানো ৪৪ জনের মধ্যে ছিলেন ১৩ জন শিক্ষার্থী, পাঁচজন ব্যবসায়ী, চারজন গাড়িচালক, চারজন চাকরিজীবী, দুজন শ্রমিক, একজন গৃহিণী এবং ১৫ জনের পেশাগত পরিচয় জানা যায়নি। তাদের অনেকের মাথায় এখনো গুলি রয়ে গেছে। কাউকে আবার লাশ ভেবে ফেলে রাখা হয়েছিল, যা সেই সময়ের বর্বরতার এক মর্মান্তিক চিত্র তুলে ধরে।

চোখে আঘাত পাওয়া এসব ব্যক্তির অনেকেই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। বর্তমানে তাদের অধিকাংশই অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। সরকারি ভাতায় কোনোমতে জীবনযাপন করলেও অনেকের দাবি, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাদের অভিযোগ, পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ক্ষেত্রেও এখনো উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে, যা তাদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

গত বছরের আগস্টে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্য দেন জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালের রেটিনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাকিয়া সুলতানা নীলা। তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান, আন্দোলনের সময় চোখে গুলিবিদ্ধ ৮৬৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৪৯৩ জন স্থায়ীভাবে এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান, যা ছিল এক ভয়াবহ বাস্তবতা।

প্রথম দিনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, অপারেশন থিয়েটারে থাকার সময় জরুরি বিভাগে রোগীর চাপের খবর পান। সেখানে গিয়ে দেখেন শতাধিক আহত ব্যক্তি রক্তাক্ত অবস্থায় চিকিৎসার অপেক্ষায় রয়েছেন। অধিকাংশের বয়স ছিল ১৪ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। কেউ এক চোখ ধরে বসে আছেন, কেউ দুই চোখ। গুলিতে চোখ ছিদ্র হয়ে রক্ত ঝরছিল। অনেকের কর্নিয়া, স্কলেরা ছিদ্র এবং চোখের অন্যান্য অংশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যা ছিল এক অকল্পনীয় দৃশ্য।

তিনি আরো জানান, সব আহতের তালিকা করা সম্ভব হয়নি। অনেকেই হয়রানির আশঙ্কায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল নাম ও ফোন নম্বর দিয়েছিলেন, যা সেই সময়ের ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশকে নির্দেশ করে।

সাব্বির আহমাদ, জুলাই বিপ্লবে শেখ হাসিনার সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় চোখের দৃষ্টি হারালেও দেশের প্রতি নিজের অঙ্গীকার থেকে সরে যাননি। চব্বিশের ৪ আগস্ট কার… (বাকী অংশ অসম্পূর্ণ)

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চলতি মাসে ২টি লঘুচাপ ও স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা

জুলাই বিপ্লবে দৃষ্টি হারানো ৫৩৭ জনের জীবনে বিভীষিকা: শেখ হাসিনার আমলের বর্বরতার সাক্ষী

আপডেট সময় : ০৯:২৪:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই বিপ্লবের উত্তাল সময়ে, যখন রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হচ্ছিল, তখন এক বিভীষিকাময় অধ্যায় রচিত হচ্ছিল প্রতিবাদী তরুণ প্রজন্মের জীবন ঘিরে। শেখ হাসিনার পুলিশবাহিনীর নির্বিচার গুলিতে শত শত স্বপ্নাতুর চোখ অকালে নিভে গিয়েছিল। গত ১৭ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত মাত্র ২০ দিনে গুলিতে অন্তত ৫৩৭ জন তাদের দৃষ্টিশক্তি হারান। এদের মধ্যে ৪৪ জন দুচোখেরই আলো হারিয়েছেন, আর ৪৯৩ জন হারিয়েছেন এক চোখের দৃষ্টি।

জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন এবং জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, দুই চোখের দৃষ্টি হারানো ৪৪ জনের মধ্যে ছিলেন ১৩ জন শিক্ষার্থী, পাঁচজন ব্যবসায়ী, চারজন গাড়িচালক, চারজন চাকরিজীবী, দুজন শ্রমিক, একজন গৃহিণী এবং ১৫ জনের পেশাগত পরিচয় জানা যায়নি। তাদের অনেকের মাথায় এখনো গুলি রয়ে গেছে। কাউকে আবার লাশ ভেবে ফেলে রাখা হয়েছিল, যা সেই সময়ের বর্বরতার এক মর্মান্তিক চিত্র তুলে ধরে।

চোখে আঘাত পাওয়া এসব ব্যক্তির অনেকেই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। বর্তমানে তাদের অধিকাংশই অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। সরকারি ভাতায় কোনোমতে জীবনযাপন করলেও অনেকের দাবি, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাদের অভিযোগ, পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ক্ষেত্রেও এখনো উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে, যা তাদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

গত বছরের আগস্টে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্য দেন জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালের রেটিনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাকিয়া সুলতানা নীলা। তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান, আন্দোলনের সময় চোখে গুলিবিদ্ধ ৮৬৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৪৯৩ জন স্থায়ীভাবে এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান, যা ছিল এক ভয়াবহ বাস্তবতা।

প্রথম দিনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, অপারেশন থিয়েটারে থাকার সময় জরুরি বিভাগে রোগীর চাপের খবর পান। সেখানে গিয়ে দেখেন শতাধিক আহত ব্যক্তি রক্তাক্ত অবস্থায় চিকিৎসার অপেক্ষায় রয়েছেন। অধিকাংশের বয়স ছিল ১৪ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। কেউ এক চোখ ধরে বসে আছেন, কেউ দুই চোখ। গুলিতে চোখ ছিদ্র হয়ে রক্ত ঝরছিল। অনেকের কর্নিয়া, স্কলেরা ছিদ্র এবং চোখের অন্যান্য অংশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যা ছিল এক অকল্পনীয় দৃশ্য।

তিনি আরো জানান, সব আহতের তালিকা করা সম্ভব হয়নি। অনেকেই হয়রানির আশঙ্কায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল নাম ও ফোন নম্বর দিয়েছিলেন, যা সেই সময়ের ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশকে নির্দেশ করে।

সাব্বির আহমাদ, জুলাই বিপ্লবে শেখ হাসিনার সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় চোখের দৃষ্টি হারালেও দেশের প্রতি নিজের অঙ্গীকার থেকে সরে যাননি। চব্বিশের ৪ আগস্ট কার… (বাকী অংশ অসম্পূর্ণ)