ঢাকা ০৩:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

চলতি বর্ষায় চট্টগ্রামে বড় জলাবদ্ধতা হবে না: সিডিএ চেয়ারম্যান

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন আশ্বস্ত করেছেন যে, চলতি বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীকে আর বড় ধরনের জলাবদ্ধতার শিকার হতে হবে না। তিনি জানান, নিচু এলাকার কোথাও পানি উঠলেও তা দ্রুত সরে যাবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই শুষ্ক মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের বাকি কাজ শেষ হবে এবং একই মাসে প্রধানমন্ত্রী তিনটি প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।

তবে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, যদি আমরা অসচেতনভাবে বারবার খালে বর্জ্য ফেলি, তাহলে কোনো সুফলই আসবে না। দিন শেষে আমাদেরকেই ভুগতে হবে এবং তখন সিডিএ বা সিটি কর্পোরেশনকে দোষ দিয়ে কোনো লাভ হবে না।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিডিএর বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দুর্নীতি, অবৈধ দখল ও দীর্ঘদিনের স্থবিরতা থেকে সিডিএ’কে মুক্ত করে একটি গতিশীল সংস্থায় রূপান্তর এবং নান্দনিক, পরিকল্পিত উন্নয়নের শহর গড়ে তোলাই তার মূল লক্ষ্য। তিনি স্বীকার করেন, সিডিএতে দীর্ঘদিন ধরে স্থবিরতা বিরাজ করছে, অনেক প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। অত্যাধুনিক মার্কেট তৈরি হলেও সেগুলো চালু করা হয়নি এবং বড় বড় মার্কেট থেকে কোনো ভাড়া আসছে না। এমনকি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করেও অনেকে টোল দেন না, যার মধ্যে সরকারি কর্মকর্তারাও রয়েছেন। অতীতে বিভিন্ন প্রকল্পে অনেক দুর্নীতিও হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সবকিছু মিলিয়ে সিডিএ’কে জনবান্ধব করতে তিনি ‘যুদ্ধ’ শুরু করেছেন এবং এ যুদ্ধে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি জানান, ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টি খালের কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে এবং বাকি ৬টি খালের কাজ ৬৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজ এখনো চলমান থাকলেও অনেকে গাড়ি চালিয়েও টোল দেন না বলে তিনি অভিযোগ করেন। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রকল্পটি লাভজনক করতে যানবাহন চলাচল যেমন বাড়াতে হবে, তেমনি সবাইকে টোল দিতে হবে।

অপরদিকে, নগরের কালুরঘাট থেকে চাক্তাই সংযোগ সড়কের কাজও শেষ পর্যায়ে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সড়কটি যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনে ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এই সড়কের কারণে খাতুনগঞ্জকে ঘিরে সৃষ্ট যানজটের অবসান হবে এবং সহজে বিভিন্ন উপজেলায় পণ্য আনা-নেওয়ার ব্যবস্থা হবে, যা সময় ও অর্থ উভয়ই বাঁচাবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরাকে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ইরানের নতুন গোপন সেল গঠন

চলতি বর্ষায় চট্টগ্রামে বড় জলাবদ্ধতা হবে না: সিডিএ চেয়ারম্যান

আপডেট সময় : ০৭:২১:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন আশ্বস্ত করেছেন যে, চলতি বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীকে আর বড় ধরনের জলাবদ্ধতার শিকার হতে হবে না। তিনি জানান, নিচু এলাকার কোথাও পানি উঠলেও তা দ্রুত সরে যাবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই শুষ্ক মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের বাকি কাজ শেষ হবে এবং একই মাসে প্রধানমন্ত্রী তিনটি প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।

তবে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, যদি আমরা অসচেতনভাবে বারবার খালে বর্জ্য ফেলি, তাহলে কোনো সুফলই আসবে না। দিন শেষে আমাদেরকেই ভুগতে হবে এবং তখন সিডিএ বা সিটি কর্পোরেশনকে দোষ দিয়ে কোনো লাভ হবে না।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিডিএর বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দুর্নীতি, অবৈধ দখল ও দীর্ঘদিনের স্থবিরতা থেকে সিডিএ’কে মুক্ত করে একটি গতিশীল সংস্থায় রূপান্তর এবং নান্দনিক, পরিকল্পিত উন্নয়নের শহর গড়ে তোলাই তার মূল লক্ষ্য। তিনি স্বীকার করেন, সিডিএতে দীর্ঘদিন ধরে স্থবিরতা বিরাজ করছে, অনেক প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। অত্যাধুনিক মার্কেট তৈরি হলেও সেগুলো চালু করা হয়নি এবং বড় বড় মার্কেট থেকে কোনো ভাড়া আসছে না। এমনকি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করেও অনেকে টোল দেন না, যার মধ্যে সরকারি কর্মকর্তারাও রয়েছেন। অতীতে বিভিন্ন প্রকল্পে অনেক দুর্নীতিও হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সবকিছু মিলিয়ে সিডিএ’কে জনবান্ধব করতে তিনি ‘যুদ্ধ’ শুরু করেছেন এবং এ যুদ্ধে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি জানান, ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টি খালের কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে এবং বাকি ৬টি খালের কাজ ৬৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজ এখনো চলমান থাকলেও অনেকে গাড়ি চালিয়েও টোল দেন না বলে তিনি অভিযোগ করেন। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রকল্পটি লাভজনক করতে যানবাহন চলাচল যেমন বাড়াতে হবে, তেমনি সবাইকে টোল দিতে হবে।

অপরদিকে, নগরের কালুরঘাট থেকে চাক্তাই সংযোগ সড়কের কাজও শেষ পর্যায়ে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সড়কটি যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনে ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এই সড়কের কারণে খাতুনগঞ্জকে ঘিরে সৃষ্ট যানজটের অবসান হবে এবং সহজে বিভিন্ন উপজেলায় পণ্য আনা-নেওয়ার ব্যবস্থা হবে, যা সময় ও অর্থ উভয়ই বাঁচাবে।