বিদেশে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, ফটোগ্রাফার, ড্রোন অপারেটর এবং ট্রাভেল ট্যুর পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক সতর্কবার্তায় দাবি করা হয়েছে, ভুয়া পরিচয়ে যোগাযোগ করে বাংলাদেশিদের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সংবেদনশীল এলাকা, সীমান্ত অঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ছবি, ভিডিও এবং ড্রোন ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করছে একটি বিদেশি গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক।
সতর্কবার্তায় বিশেষভাবে পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, চীন, ভিয়েতনাম ও নেপালে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ভ্রমণ, ফটোগ্রাফি ও ড্রোন পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, চক্রটি প্রথমে নিজেদের স্থানীয় নাগরিক, ট্যুর অপারেটর বা পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেয়। তারা মূলত এমন বাংলাদেশিদের খুঁজে বের করে, যারা নিয়মিত ভ্রমণ করেন, ছবি তোলেন, ড্রোন ব্যবহার করেন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পর্যটন স্থানের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন।
প্রথম ধাপে তাদের কাছে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রের ছবি বা ভিডিও সংগ্রহের অনুরোধ জানানো হয়। বিনিময়ে বাজারদরের তুলনায় বেশি অর্থ প্রদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে কাজ শুরুর আগেই অগ্রিম অর্থও পাঠানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে অনেকেই বিষয়টিকে বৈধ পেশাগত কাজ মনে করে আস্থা অর্জন করেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত উদ্দেশ্য শুরু হয় পরবর্তী ধাপে। তখন ওই ব্যক্তিদের কাছে সীমান্ত এলাকা, সামরিক স্থাপনা সংলগ্ন অঞ্চল, বন্দর, নির্মাণাধীন অবকাঠামো, রেলস্টেশন কিংবা সংরক্ষিত সরকারি এলাকার ছবি ও ভিডিও সংগ্রহের অনুরোধ আসে। অনেক ক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহার করে ফুটেজ ধারণের কথাও বলা হয়।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অধিকাংশ দেশে এসব স্থানের ছবি বা ভিডিও ধারণ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। অনুমতি ছাড়া এমন কাজ করলে সংশ্লিষ্ট দেশের নিরাপত্তা আইনের আওতায় গ্রেপ্তার বা বিচারের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত সতর্কবার্তায় আরও দাবি করা হয়েছে, সম্প্রতি কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিক বিদেশে এ ধরনের ঘটনায় আটক হয়েছেন। এর মধ্যে চীনের একটি সীমান্ত এলাকায় ছবি ও ড্রোন ফুটেজ ধারণের সময় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আটক হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারি কোনো বক্তব্য বা স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া যেকোনো আর্থিক প্রস্তাব সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে কেউ যদি সংবেদনশীল বা সীমাবদ্ধ এলাকায় ছবি, ভিডিও কিংবা ড্রোন ফুটেজ সংগ্রহের অনুরোধ জানায়, তবে তার পরিচয় ও উদ্দেশ্য যাচাই ছাড়া কোনো কাজ করা উচিত নয়।
তারা আরও বলেন, বিদেশে অবস্থানকালে স্থানীয় আইন সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা রাখা জরুরি। কারণ অনেক দেশে সীমান্ত, সামরিক এলাকা, বন্দর কিংবা কৌশলগত স্থাপনার ছবি ধারণ গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিক্ষা, চিকিৎসা, পর্যটন ও ব্যবসার কারণে বিভিন্ন এশীয় দেশে বাংলাদেশিদের যাতায়াত উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সন্দেহজনক যোগাযোগের বিষয়ে দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের লোভনীয় আর্থিক প্রস্তাবে সাড়া দেওয়ার আগে অবশ্যই তার সত্যতা যাচাই করতে হবে। অন্যথায় অনিচ্ছাকৃতভাবেই কেউ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত জটিলতা বা আইনি ঝুঁকির মধ্যে জড়িয়ে পড়তে পারেন।
রিপোর্টারের নাম 



















