ঢাকা ০৩:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

কৃষকদের বদলে ব্যবসায়ীদের হাতে খাদ্যগুদাম, দুর্নীতির অভিযোগ পাবনার ভাঙ্গুড়ায়

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সরকারি খাদ্যগুদামে কৃষকদের পরিবর্তে ব্যবসায়ীরা ধান বিক্রি করছেন এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ মতে, স্থানীয় বাজার থেকে কম দামে ধান কিনে কর্মকর্তাদের যোগসাজশে খাদ্যগুদামে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে, তেমনি প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলা খাদ্যগুদামে কৃষকদের কাছ থেকে ৭৭৫ মেট্রিক টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, কৃষি অফিসের মাধ্যমে নিবন্ধিত প্রত্যেক কৃষক এক মণ থেকে তিন মেট্রিক টন পর্যন্ত ধান সরকারি খাদ্যগুদামে বিক্রি করতে পারেন। এই উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার ৭০০ কৃষকের কৃষি কার্ড রয়েছে এবং তাদের নামে ব্যাংকে অ্যাকাউন্টও খোলা আছে। নিয়ম অনুযায়ী, খাদ্যগুদামে ধান বিক্রির পর কৃষকদের কৃষি অ্যাকাউন্টে টাকা পরিশোধ করার কথা।

তবে কৃষকদের অভিযোগ, খাদ্যগুদাম কর্মকর্তারা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান বিক্রির নির্দেশনা মানছেন না। কৃষকরা ধান বিক্রি করতে গেলে নানা অজুহাতে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, স্থানীয় ধান-চাল ব্যবসায়ীরা হাট-বাজার থেকে প্রতি মণ ধান ১১০০ থেকে ১২০০ টাকায় কিনে ১৪৪০ টাকা মণ দরে খাদ্যগুদামে বিক্রি করছেন। এতে প্রতি মেট্রিক টন ধানে প্রায় তিন হাজার টাকা লাভ করছেন ব্যবসায়ীরা। এই লাভের একটি অংশ খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের পকেটে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার দিলপাশার গ্রামের কৃষক আবু সাইদ জানান, তিনি খাদ্যগুদামে ধান দিতে গেলে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানানো হয় যে ধান নেওয়া শেষ। পরে তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তিনি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন বলে আশ্বাস দেন। বড়পুকুরিয়া গ্রামের মেহেদী হাসানও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে খাদ্যগুদামের উপ-পরিদর্শক নিরঞ্জন কুমার ঘোষ অবশ্য জানিয়েছেন, ধান সরাসরি কৃষকের কাছ থেকেই কেনা হয় এবং টাকাও তাদের অ্যাকাউন্টে পরিশোধ করা হয়। এখানে কোনো অনিয়ম হয় না বলে তিনি দাবি করেন। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান অভিযোগের প্রেক্ষিতে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তাদের ডেকে এনেছেন এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছেন বলে জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরাকে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ইরানের নতুন গোপন সেল গঠন

কৃষকদের বদলে ব্যবসায়ীদের হাতে খাদ্যগুদাম, দুর্নীতির অভিযোগ পাবনার ভাঙ্গুড়ায়

আপডেট সময় : ০৬:২৪:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সরকারি খাদ্যগুদামে কৃষকদের পরিবর্তে ব্যবসায়ীরা ধান বিক্রি করছেন এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ মতে, স্থানীয় বাজার থেকে কম দামে ধান কিনে কর্মকর্তাদের যোগসাজশে খাদ্যগুদামে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে, তেমনি প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলা খাদ্যগুদামে কৃষকদের কাছ থেকে ৭৭৫ মেট্রিক টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, কৃষি অফিসের মাধ্যমে নিবন্ধিত প্রত্যেক কৃষক এক মণ থেকে তিন মেট্রিক টন পর্যন্ত ধান সরকারি খাদ্যগুদামে বিক্রি করতে পারেন। এই উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার ৭০০ কৃষকের কৃষি কার্ড রয়েছে এবং তাদের নামে ব্যাংকে অ্যাকাউন্টও খোলা আছে। নিয়ম অনুযায়ী, খাদ্যগুদামে ধান বিক্রির পর কৃষকদের কৃষি অ্যাকাউন্টে টাকা পরিশোধ করার কথা।

তবে কৃষকদের অভিযোগ, খাদ্যগুদাম কর্মকর্তারা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান বিক্রির নির্দেশনা মানছেন না। কৃষকরা ধান বিক্রি করতে গেলে নানা অজুহাতে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, স্থানীয় ধান-চাল ব্যবসায়ীরা হাট-বাজার থেকে প্রতি মণ ধান ১১০০ থেকে ১২০০ টাকায় কিনে ১৪৪০ টাকা মণ দরে খাদ্যগুদামে বিক্রি করছেন। এতে প্রতি মেট্রিক টন ধানে প্রায় তিন হাজার টাকা লাভ করছেন ব্যবসায়ীরা। এই লাভের একটি অংশ খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের পকেটে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার দিলপাশার গ্রামের কৃষক আবু সাইদ জানান, তিনি খাদ্যগুদামে ধান দিতে গেলে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানানো হয় যে ধান নেওয়া শেষ। পরে তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তিনি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন বলে আশ্বাস দেন। বড়পুকুরিয়া গ্রামের মেহেদী হাসানও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে খাদ্যগুদামের উপ-পরিদর্শক নিরঞ্জন কুমার ঘোষ অবশ্য জানিয়েছেন, ধান সরাসরি কৃষকের কাছ থেকেই কেনা হয় এবং টাকাও তাদের অ্যাকাউন্টে পরিশোধ করা হয়। এখানে কোনো অনিয়ম হয় না বলে তিনি দাবি করেন। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান অভিযোগের প্রেক্ষিতে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তাদের ডেকে এনেছেন এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছেন বলে জানিয়েছেন।