সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার উত্তরকুল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করার পর থেকে ডিপজল আহমদ (২৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ঘটনার তিন দিন পার হলেও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এই বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে আড়াই ঘণ্টাব্যাপী এক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, কিন্তু তাতেও কোনো সুরাহা মেলেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে জকিগঞ্জ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের দিগালিগ্রামের বাসিন্দা ডিপজল আহমদ তার কয়েকজন বন্ধুসহ ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। ফেরার পথে বিএসএফ সদস্যদের ধাওয়া খেয়ে বাকিরা বাংলাদেশে ফিরে আসতে সক্ষম হলেও ডিপজল নিখোঁজ হয়ে যান। ডিপজলের সঙ্গে থাকা যুবকদের দাবি, বিএসএফের গুলিতেই সে নিহত হয়েছে। তবে বিএসএফ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার উত্তেজিত স্থানীয়রা ভারতের এক নাগরিককে ধরে নিয়ে আসে। পরে বুধবার তাকে বিজিবির মাধ্যমে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ার জানান, ডিপজলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বিএসএফের সঙ্গে কয়েক দফা পতাকা বৈঠক হয়েছে। সর্বশেষ বৈঠকে বিএসএফ জানিয়েছে, সীমান্তের ওপারে কোনো গুলির ঘটনা বা ডিপজলের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে ডিপজলের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য জানতে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং বিএসএফও বিষয়টি অনুসন্ধান করবে বলে জানিয়েছে।
বারঠাকুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন মর্তুজা চৌধুরী বলেন, ‘বিএসএফ প্রথমে লাশ হস্তান্তরের কথা বললেও, তাদের নাগরিককে ফেরত দেওয়ার পর তারা সেই কথা অস্বীকার করছে। বৈঠকে তারা কোনো হদিস দিতে পারেনি, যা সন্ধ্যায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করে। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে পরিস্থিতি শান্ত হয়।’
রিপোর্টারের নাম 





















