ঢাকার ধামরাইয়ে ‘জুলাইয়ের বিপ্লবে শহীদ সাদ’ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মামলার আসামিদের মধ্যে আওয়ামী লীগের চার প্রভাবশালী নেতার পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ। এর প্রতিবাদে এবং নিরপেক্ষ পুনঃতদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি’র কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আসাদুল ইসলাম (মুকুল) অভিযোগ করেন, মামলার তদন্তে প্রকৃত সত্য উদঘাটন না করে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী চার আসামিকে দায়মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। পুলিশের এমন ভূমিকায় ভুক্তভোগী পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, মামলার বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং ঘটনার প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত হওয়া উচিত ছিল। শুধুমাত্র এই চার নেতার পক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি, জানতে চান কোন স্বার্থে এবং কার নির্দেশে এমন প্রভাবশালী আসামিদের নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতারা হলেন: ধামরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সানোড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খালেদ মাসুদ খান লাল্টু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আওলাদ হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মাসুম খান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আহমদ আল জামান।
বর্তমান তদন্ত প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান ওসি, তদন্ত কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সার্কেল এসপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। বক্তারা বলেন, তাদের অধীনে নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। এ সময় পাঁচটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়: বর্তমান ওসি, তদন্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সার্কেল এসপিকে মামলার দায়িত্ব থেকে অপসারণ; নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের সংস্থার মাধ্যমে পুনঃতদন্ত; বাদ পড়া আসামিদের পুনরায় তদন্তের আওতায় আনা; রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপমুক্ত তদন্ত নিশ্চিত করা; এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা। জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যরা সাফ জানিয়ে দেন, শহীদ সাদের পরিবার ও ধামরাইবাসী কোনো প্রহসনের বিচার মেনে নেবে না।
রিপোর্টারের নাম 























