একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য কবি আল মুজাহিদী আর আমাদের মাঝে নেই। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা ও অসুস্থতার সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে তিনি শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের সার্জিক্যাল আইসিইউতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।
এর আগে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি সমস্যাসহ মাল্টি অর্গান ফেইলিয়রের কারণে তিনি বেশ কিছুদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বাসায় ফিরে কিছুটা সুস্থ হলেও পুনরায় শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ১৬ জুন তাঁকে পুনরায় আইসিইউতে নেওয়া হয়। এক বছর আগে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে তিনি অনেকটাই শয্যাশায়ী ছিলেন।
সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় সমান বিচরণকারী আল মুজাহিদী একসময় দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রজীবনে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধেও তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে অসংখ্য কালজয়ী কবিতা, উপন্যাস, অনুবাদ ও শিশুতোষ রচনা। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে ‘হেমলকের পেয়ালা’, ‘ধ্রুপদ ও টেরাকোটা’, ‘যুদ্ধ নাস্তি’ এবং ‘মৃত্তিকা অতি-মৃত্তিকা’ উল্লেখযোগ্য। ‘প্রথম প্রেম’, ‘চাঁদ ও চিরকুট’, ‘প্রপঞ্চের পাখি’ তাঁর রচিত উপন্যাস ও গল্পের মধ্যে অন্যতম।
সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক ছাড়াও জীবনানন্দ দাশ একাডেমি পুরস্কার, কবি জসীমউদ্দীন একাডেমি পুরস্কারসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে সাহিত্য অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















