ঢাকা ০৫:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

জীবননগরে উপজেলা আইসিটি অফিসারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার: পারিবারিক কলহের সন্দেহ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে উপজেলা আইসিটি অফিসার (সহকারী প্রোগ্রামার) এবং মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মাহমুদুর রহমানের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১০টার দিকে জীবননগর আশতলাপাড়ার ভাড়া বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জের ধরে এই ঘটনা ঘটেছে।

মাহমুদুর রহমান ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার ঝিটকীপোতা গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে। তিনি স্ত্রী নাসরিন আক্তার ও এক সন্তানকে নিয়ে জীবননগর পৌর এলাকার আশতলাপাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মাহমুদুর রহমানের স্ত্রী নাসরিন আক্তার তাদের সন্তানকে নিয়ে বাসার বাইরে চলে যান। পরে মাহমুদুর রহমান নিজ কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। খবর পেয়ে জীবননগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মাহমুদুর রহমান জীবননগর উপজেলার একজন অত্যন্ত ভালো এবং হাস্যোজ্জ্বল কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে পারিবারিকভাবে কিছু সমস্যা ছিল বলে জানা গেছে। সম্প্রতি মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী নাসরিন আক্তার ও তার বড় ভাই জাহাঙ্গীর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তবে বিষয়টি মীমাংসা হওয়ায় তারা আবার একসঙ্গে থাকতে শুরু করেছিলেন।

বেলা ১টার দিকে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মাহমুদুর রহমানের লাশ জীবননগর থানা থেকে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গায় পাঠানোর আগ পর্যন্ত মাহমুদুর রহমানের স্ত্রী বা তার পরিবারের কাউকে থানায় দেখা যায়নি।

মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার উজ্জল হোসেন এবং সচিব শাহিন মোল্লা জানান, মাহমুদুর রহমান খুবই ভালো মানুষ ছিলেন এবং কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করতেন না। তবে তার স্ত্রী মানসিকভাবে তাকে অত্যাচার করতেন বলে তারা শুনেছেন।

জীবননগর উপজেলা আইসিটি টেকনিশিয়ান মো. জাহিদ জানান, মাহমুদুর রহমান তাকে প্রায় বলতেন যে তিনি যদি কোনো দিন মারা যান, তবে যেন তার স্ত্রীকে জেলে পুরে তারপর তার লাশ মাটি দেওয়া হয়।

জানা গেছে, নাসরিন আক্তার বিবাহের পর থেকে শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে আলাদাভাবে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন, যা মাহমুদুর রহমান মেনে নিতে পারতেন না। এ নিয়ে তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল বলে জানা গেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণতান্ত্রিক অধিকার ও জনগণের রায়কে সম্মান জানানোর আহ্বান জামায়াত আমিরের

জীবননগরে উপজেলা আইসিটি অফিসারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার: পারিবারিক কলহের সন্দেহ

আপডেট সময় : ০৩:০৬:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে উপজেলা আইসিটি অফিসার (সহকারী প্রোগ্রামার) এবং মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মাহমুদুর রহমানের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১০টার দিকে জীবননগর আশতলাপাড়ার ভাড়া বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জের ধরে এই ঘটনা ঘটেছে।

মাহমুদুর রহমান ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার ঝিটকীপোতা গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে। তিনি স্ত্রী নাসরিন আক্তার ও এক সন্তানকে নিয়ে জীবননগর পৌর এলাকার আশতলাপাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মাহমুদুর রহমানের স্ত্রী নাসরিন আক্তার তাদের সন্তানকে নিয়ে বাসার বাইরে চলে যান। পরে মাহমুদুর রহমান নিজ কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। খবর পেয়ে জীবননগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মাহমুদুর রহমান জীবননগর উপজেলার একজন অত্যন্ত ভালো এবং হাস্যোজ্জ্বল কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে পারিবারিকভাবে কিছু সমস্যা ছিল বলে জানা গেছে। সম্প্রতি মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী নাসরিন আক্তার ও তার বড় ভাই জাহাঙ্গীর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তবে বিষয়টি মীমাংসা হওয়ায় তারা আবার একসঙ্গে থাকতে শুরু করেছিলেন।

বেলা ১টার দিকে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মাহমুদুর রহমানের লাশ জীবননগর থানা থেকে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গায় পাঠানোর আগ পর্যন্ত মাহমুদুর রহমানের স্ত্রী বা তার পরিবারের কাউকে থানায় দেখা যায়নি।

মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার উজ্জল হোসেন এবং সচিব শাহিন মোল্লা জানান, মাহমুদুর রহমান খুবই ভালো মানুষ ছিলেন এবং কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করতেন না। তবে তার স্ত্রী মানসিকভাবে তাকে অত্যাচার করতেন বলে তারা শুনেছেন।

জীবননগর উপজেলা আইসিটি টেকনিশিয়ান মো. জাহিদ জানান, মাহমুদুর রহমান তাকে প্রায় বলতেন যে তিনি যদি কোনো দিন মারা যান, তবে যেন তার স্ত্রীকে জেলে পুরে তারপর তার লাশ মাটি দেওয়া হয়।

জানা গেছে, নাসরিন আক্তার বিবাহের পর থেকে শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে আলাদাভাবে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন, যা মাহমুদুর রহমান মেনে নিতে পারতেন না। এ নিয়ে তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল বলে জানা গেছে।