আইনি নোটিশ বা লিগ্যাল নোটিশ হলো একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত সতর্কবার্তা, যা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে পাঠানো হয়। এটি মূলত একটি শেষ সুযোগ, যা আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার আগে প্রতিপক্ষকে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তি তার বক্তব্য বা দাবির বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপর কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সরকারের কাছে তুলে ধরতে পারেন।
আইনি নোটিশ সাধারণত বিভিন্ন উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়ে থাকে। যেমন— কোনো দাবি বা অভিযোগ জানানো, যার মধ্যে নিজের পাওনা টাকা ফেরত, জমি বা কোনো অধিকার আদায় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এছাড়া, কাউকে সতর্ক করার জন্যও নোটিশ দেওয়া হয়, যেমন— কোনো চুক্তি ভঙ্গ হলে বা কেউ বেআইনি কাজ করলে তাকে সতর্ক করা। বিবাদ মেটানোর ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহৃত হয়, যেখানে আদালতের বাইরে আলোচনা বা সমঝোতার মাধ্যমে আইনি জটিলতা নিরসনের চেষ্টা করা হয়। কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে, যেমন— চেক ডিজঅনার বা বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত ঝামেলায়, মামলা করার আগে আইনত বাধ্যতামূলকভাবে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো প্রয়োজন হয়।
আইনি নোটিশের মাধ্যমে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। এটি আদালত পর্যন্ত না গিয়ে নোটিশের উত্তর বা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে সাহায্য করে, যা সময় ও অর্থ সাশ্রয় করে। মামলার দীর্ঘসূত্রতা, আদালতের উকিল খরচ এবং আইনি জটিলতাপূর্ণ বিষয়ে মানসিক চাপ থেকেও বাঁচা যায়। ছোটখাটো বিবাদ নোটিশের মাধ্যমে সমাধান হলে আদালতের ওপর মামলার চাপ কমে। সর্বোপরি, প্রতিপক্ষ নোটিশ পাওয়ার পরও যদি কোনো পদক্ষেপ না নেয় বা জবাব না দেয়, তবে আদালতে প্রমাণ করা সহজ হয় যে, তাকে আগে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
সাধারণত একজন আইনজীবী তার মক্কেলের পক্ষে আইনি নোটিশ ড্রাফট করেন এবং নিজের প্যাডে স্বাক্ষর করে তা পাঠিয়ে থাকেন। নোটিশে অভিযোগের বিবরণ, দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ (যদি প্রযোজ্য হয়) এবং জবাব বা পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা (যেমন— ১৫ বা ৩০ দিন) উল্লেখ করা থাকে।
আইনি নোটিশ পেলে ভয় না পেয়ে একজন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লিখিত জবাব দেওয়া অথবা নোটিশ প্রদানকারী ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিবাদের বিষয়টি নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করা যেতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 
























