ঢাকা ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ৩ মাসের মধ্যে প্রতিবেদন চায় ব্লাস্ট

আইনশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিধানের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)। গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এই দাবি উত্থাপন করে।

‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় জরুরি সংশোধনের মাধ্যমে কমিশনের স্বাধীনতা, কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে ব্লাস্ট। মানবাধিকার সুরক্ষা ও প্রতিষ্ঠায় সরকার নতুন আইন প্রণয়নের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাকে স্বাগত জানিয়েছে সংস্থাটি।

সংগঠনটি বলেছে, পূর্ববর্তী অধ্যাদেশের বেশ কিছু বিধান অন্তর্ভুক্ত করে বিদ্যমান জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯-এর তুলনায় কমিশনের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্লাস্টের মতে, মানবাধিকার বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পূর্ণকালীন পাঁচজন কমিশনার নিয়োগ এবং নির্বাচন কমিটিতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

ব্লাস্ট আরও বলেছে, ২০০৯ সালের কাঠামো পরিবর্তন করে বর্তমান কমিশনকে ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে আইনটি প্রণয়ন হলে কমিশনের কাজ শুধু সুপারিশে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের মতো প্রতিকার দেওয়ার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারবে। এছাড়া কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য করার বিধানকেও স্বাগত জানিয়েছে ব্লাস্ট।

তবে ব্লাস্ট উল্লেখ করেছে, কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও কার্যকারিতা নির্ভর করবে চূড়ান্ত আইনটি কতটা স্বতন্ত্র ও প্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠান গঠনে সক্ষম হয়, তার ওপর। একইসঙ্গে সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত ও প্রতিকারে কমিশনের প্রকৃত ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন।

এ প্রেক্ষাপটে সংগঠনটি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে কয়েকটি সুপারিশ পেশ করেছে। ব্লাস্ট কমিশনের গঠন ও নিয়োগপ্রক্রিয়া নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে অন্তত দুইজন নারী কমিশনার এবং অন্তত একজন সংখ্যালঘু বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি রাখার বিধান সংযোজনের প্রস্তাব করেছে। এছাড়া কমিশনার নিয়োগের সুপারিশকারী বাছাই কমিটিতে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক অন্তর্ভুক্ত করা এবং কমিশনকে নিজস্ব বিধিবিধান ও কার্যপদ্ধতি প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কোরবানির চামড়া অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে, হতাশ বিক্রেতারা

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ৩ মাসের মধ্যে প্রতিবেদন চায় ব্লাস্ট

আপডেট সময় : ০২:২৯:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

আইনশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিধানের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)। গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এই দাবি উত্থাপন করে।

‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় জরুরি সংশোধনের মাধ্যমে কমিশনের স্বাধীনতা, কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে ব্লাস্ট। মানবাধিকার সুরক্ষা ও প্রতিষ্ঠায় সরকার নতুন আইন প্রণয়নের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাকে স্বাগত জানিয়েছে সংস্থাটি।

সংগঠনটি বলেছে, পূর্ববর্তী অধ্যাদেশের বেশ কিছু বিধান অন্তর্ভুক্ত করে বিদ্যমান জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯-এর তুলনায় কমিশনের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্লাস্টের মতে, মানবাধিকার বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পূর্ণকালীন পাঁচজন কমিশনার নিয়োগ এবং নির্বাচন কমিটিতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

ব্লাস্ট আরও বলেছে, ২০০৯ সালের কাঠামো পরিবর্তন করে বর্তমান কমিশনকে ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে আইনটি প্রণয়ন হলে কমিশনের কাজ শুধু সুপারিশে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের মতো প্রতিকার দেওয়ার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারবে। এছাড়া কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য করার বিধানকেও স্বাগত জানিয়েছে ব্লাস্ট।

তবে ব্লাস্ট উল্লেখ করেছে, কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও কার্যকারিতা নির্ভর করবে চূড়ান্ত আইনটি কতটা স্বতন্ত্র ও প্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠান গঠনে সক্ষম হয়, তার ওপর। একইসঙ্গে সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত ও প্রতিকারে কমিশনের প্রকৃত ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন।

এ প্রেক্ষাপটে সংগঠনটি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে কয়েকটি সুপারিশ পেশ করেছে। ব্লাস্ট কমিশনের গঠন ও নিয়োগপ্রক্রিয়া নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে অন্তত দুইজন নারী কমিশনার এবং অন্তত একজন সংখ্যালঘু বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি রাখার বিধান সংযোজনের প্রস্তাব করেছে। এছাড়া কমিশনার নিয়োগের সুপারিশকারী বাছাই কমিটিতে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক অন্তর্ভুক্ত করা এবং কমিশনকে নিজস্ব বিধিবিধান ও কার্যপদ্ধতি প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে।