ঢাকা ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

স্কুল মাঠ ছেড়ে পশুর হাটে দ্বিগুণ হাসিল আদায়: উলিপুরে অভিযোগ

বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর কুড়িগ্রামের উলিপুরের দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে কোরবানির পশুর হাট সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) হাটবারে স্কুল মাঠে কোনো পশুর হাট বসেনি, বরং সেটি বাজারের আলী কালি মার্কেটের পাশের মাঠে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে, নতুন এই মাঠে সরকার নির্ধারিত হাসিলের দ্বিগুণ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিন দুর্গাপুর হাটে গিয়ে দেখা গেছে, এর আগে গত শুক্রবারসহ দুটি হাটবার স্কুল মাঠে পশুর হাট বসানো হয়েছিল। প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকার এবং হাট ইজারাদার আবেদ আলী সরদারের যোগসাজশে স্কুল মাঠে এই হাট বসানো শুরু হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন, ইজারাদার ও স্কুল কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে এবং অবশেষে স্কুল মাঠ থেকে হাট সরিয়ে পাশের আলী কালি মার্কেট সংলগ্ন মাঠে নেওয়া হয়।

আজকের হাটে গরু বাবদ এক হাজার টাকা এবং ছাগল বাবদ ৫০০ টাকা হাসিল আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইজারাদারের প্রতিনিধিরা ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছে ‘কেনাইয়ার (ক্রেতার) ৭০০ আর বেচাইয়ার (বিক্রেতার) ৩০০’ টাকা হাসিল দাবি করছেন। একজন গরু বিক্রেতা জানান, ৮০ হাজার টাকায় একটি গরু বিক্রি করে তার কাছ থেকে ৩০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, একজন ক্রেতা অভিযোগ করেন, হাসিল ৫০০ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও তার কাছ থেকে ৭০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। বাধ্য হয়েই তারা এই অতিরিক্ত অর্থ দিচ্ছেন বলে জানান। ছাগল বিক্রেতারাও একই অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে হাট ইজারাদার আবেদ আলী সরদার বলেন, ‘প্রশাসন বলায় স্কুল মাঠ থেকে হাট সরানো হয়েছে। তবে, হাসিল বেশি আদায়ের বিষয়টি সঠিক নয়। আজ হাট একটু এলোমেলো। দুই-একজন এমন করে থাকলে সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে, কেউ এমন অভিযোগ করে থাকলে সেটা মিথ্যা কথা। বেশি নেওয়া হচ্ছে না।’ উলিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এ টি এম আরিফ বলেন, ‘স্কুল মাঠে হাট বসানোর খবর জানার পরপরই সেটি স্থানান্তরিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কোরবানির চামড়া অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে, হতাশ বিক্রেতারা

স্কুল মাঠ ছেড়ে পশুর হাটে দ্বিগুণ হাসিল আদায়: উলিপুরে অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:০২:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর কুড়িগ্রামের উলিপুরের দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে কোরবানির পশুর হাট সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) হাটবারে স্কুল মাঠে কোনো পশুর হাট বসেনি, বরং সেটি বাজারের আলী কালি মার্কেটের পাশের মাঠে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে, নতুন এই মাঠে সরকার নির্ধারিত হাসিলের দ্বিগুণ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিন দুর্গাপুর হাটে গিয়ে দেখা গেছে, এর আগে গত শুক্রবারসহ দুটি হাটবার স্কুল মাঠে পশুর হাট বসানো হয়েছিল। প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকার এবং হাট ইজারাদার আবেদ আলী সরদারের যোগসাজশে স্কুল মাঠে এই হাট বসানো শুরু হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন, ইজারাদার ও স্কুল কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে এবং অবশেষে স্কুল মাঠ থেকে হাট সরিয়ে পাশের আলী কালি মার্কেট সংলগ্ন মাঠে নেওয়া হয়।

আজকের হাটে গরু বাবদ এক হাজার টাকা এবং ছাগল বাবদ ৫০০ টাকা হাসিল আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইজারাদারের প্রতিনিধিরা ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছে ‘কেনাইয়ার (ক্রেতার) ৭০০ আর বেচাইয়ার (বিক্রেতার) ৩০০’ টাকা হাসিল দাবি করছেন। একজন গরু বিক্রেতা জানান, ৮০ হাজার টাকায় একটি গরু বিক্রি করে তার কাছ থেকে ৩০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, একজন ক্রেতা অভিযোগ করেন, হাসিল ৫০০ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও তার কাছ থেকে ৭০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। বাধ্য হয়েই তারা এই অতিরিক্ত অর্থ দিচ্ছেন বলে জানান। ছাগল বিক্রেতারাও একই অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে হাট ইজারাদার আবেদ আলী সরদার বলেন, ‘প্রশাসন বলায় স্কুল মাঠ থেকে হাট সরানো হয়েছে। তবে, হাসিল বেশি আদায়ের বিষয়টি সঠিক নয়। আজ হাট একটু এলোমেলো। দুই-একজন এমন করে থাকলে সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে, কেউ এমন অভিযোগ করে থাকলে সেটা মিথ্যা কথা। বেশি নেওয়া হচ্ছে না।’ উলিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এ টি এম আরিফ বলেন, ‘স্কুল মাঠে হাট বসানোর খবর জানার পরপরই সেটি স্থানান্তরিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো।’