আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশজুড়ে পশুর হাট জমে উঠেছে। তবে কেবল আকার বা ওজন দেখে নয়, ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী কোরবানির পশুর নির্দিষ্ট বয়স পূর্ণ হওয়া আবশ্যক। তাই পশু কেনার আগে এর বয়স যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরু, ছাগল বা ভেড়ার বয়স নির্ধারণের একটি সহজ উপায় হলো তাদের দাঁত পর্যবেক্ষণ করা। এই বিষয়ে সঠিক জ্ঞান না থাকলে অনেক সময় ক্রেতারা প্রতারিত হতে পারেন।
ইসলামী বিধান অনুযায়ী, গরু ও মহিষের বয়স ন্যূনতম ২ বছর, ছাগল ও ভেড়ার বয়স ন্যূনতম ১ বছর এবং উটের বয়স ন্যূনতম ৫ বছর হতে হবে। তবে কিছু ক্ষেত্রে, শারীরিক গঠন ও স্বাস্থ্য ভালো থাকলে ৬ মাস বয়সের ভেড়াও কোরবানির জন্য উপযোগী বলে বিবেচিত হতে পারে।
পশু বিশেষজ্ঞরা জানান, পশুর নিচের চোয়ালের সামনের দাঁত দেখে বয়স সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। একটি দুই বছর বয়সী গরুর ক্ষেত্রে মাঝের দুটি দুধ দাঁত পড়ে স্থায়ী বড় দাঁত উঠতে শুরু করে। বয়স আড়াই থেকে তিন বছর হলে চারটি বড় দাঁত দেখা যায় এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে দাঁতগুলো আরও বড় ও সমান হতে থাকে। কোরবানির জন্য উপযুক্ত গরুর অন্তত দুটি স্থায়ী দাঁত থাকা বাঞ্ছনীয়। ছাগল বা ভেড়ার ক্ষেত্রে, এক বছর পূর্ণ হলে সাধারণত দুটি স্থায়ী দাঁত ওঠে। যদি সব দাঁত ছোট ও সমান থাকে, তবে সেটি কম বয়সী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
দাঁত ছাড়াও পশুর স্বাস্থ্য, চোখের ঔজ্জ্বল্য, চামড়ায় কোনো রোগ বা ক্ষত আছে কিনা, হাঁটাচলার ভঙ্গি এবং সার্বিক দুর্বলতা বা অসুস্থতার লক্ষণগুলোও খেয়াল রাখা উচিত। অনেক সময় বিক্রেতারা পশুর বয়স বেশি দেখানোর জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন, তাই অভিজ্ঞ কাউকে সঙ্গে নিয়ে পশু কেনা বুদ্ধিমানের কাজ। অনেক হাটে প্রাণিসম্পদ বিভাগের মেডিকেল টিমও পরামর্শ দিয়ে থাকে।
ধর্মীয় বিধান মেনে সঠিক বয়সের পশু কোরবানি দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোরবানির পশু কেনার সময় কেবল দাম বা আকার নয়, বয়স ও স্বাস্থ্য যাচাইয়েও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
রিপোর্টারের নাম 

























