ঢাকা ০৯:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

প্রাক-বাজেট সংলাপে উঠে এলো অর্থনীতির কঠিন বাস্তবতা: উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও রাজস্ব ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ

দেশের অর্থনীতি বর্তমানে এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব ঘাটতি, ঋণের চাপ ও দুর্বল বিনিয়োগ পরিস্থিতি; অন্যদিকে নতুন সরকারের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চাপ। এমন বাস্তবতায় জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ কেমন হতে যাচ্ছে, সেই প্রশ্নকে সামনে রেখে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো একটি নাগরিক প্ল্যাটফর্মের প্রাক-বাজেট সংলাপ—‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা।

সংলাপে অর্থনীতিবিদ, গবেষক, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের সদস্য, উন্নয়নকর্মী ও বিভিন্ন খাতের অংশীজনরা অংশ নেন। আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে বাংলাদেশের বাজেট ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা, রাজস্ব সংগ্রহের সীমাবদ্ধতা, ভর্তুকির চাপ, ঋণঝুঁকি, কর অব্যাহতির বিস্তার এবং রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়।

আলোচনায় উঠে আসে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকার প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে যাচ্ছে, যা অর্জনে প্রবৃদ্ধি দরকার হবে অন্তত ৪২ শতাংশ। কিন্তু চলতি অর্থবছরেই রাজস্ব ঘাটতি প্রায় ১ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গবেষণাপত্রে বলা হয়, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখন মাত্র ৬ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের চেয়েও কম। একইসঙ্গে কর অব্যাহতি ও কর ছাড়ের মাধ্যমে সরকার যে রাজস্ব হারাচ্ছে, তার পরিমাণ প্রায় আদায়কৃত রাজস্বের সমান। বিশ্লেষকরা বলেন, সরকার যদি কর অব্যাহতির সংস্কার না করে, তাহলে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানো বা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ—কোনোটিই টেকসইভাবে সম্ভব হবে না।

সংলাপে খাদ্য, বিদ্যুৎ, এলএনজি, কৃষি ও রেমিট্যান্স খাতে ভর্তুকির চাপ বাড়ার আশঙ্কার কথাও উঠে আসে। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় আগামী অর্থবছরে সরকারের ভর্তুকি ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও এলএনজি খাতে সরকারকে বড় ধরনের আর্থিক চাপ মোকাবিলা করতে হতে পারে। একইসঙ্গে কৃষি ভর্তুকি এবং প্রবাসী আয়ে নগদ প্রণোদনা বাবদও সরকারকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদাবাজি বন্ধে মানুষের এক-তৃতীয়াংশ শান্তি ফিরবে: জামায়াত আমির

প্রাক-বাজেট সংলাপে উঠে এলো অর্থনীতির কঠিন বাস্তবতা: উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও রাজস্ব ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় : ০৩:২৬:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

দেশের অর্থনীতি বর্তমানে এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব ঘাটতি, ঋণের চাপ ও দুর্বল বিনিয়োগ পরিস্থিতি; অন্যদিকে নতুন সরকারের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চাপ। এমন বাস্তবতায় জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ কেমন হতে যাচ্ছে, সেই প্রশ্নকে সামনে রেখে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো একটি নাগরিক প্ল্যাটফর্মের প্রাক-বাজেট সংলাপ—‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা।

সংলাপে অর্থনীতিবিদ, গবেষক, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের সদস্য, উন্নয়নকর্মী ও বিভিন্ন খাতের অংশীজনরা অংশ নেন। আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে বাংলাদেশের বাজেট ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা, রাজস্ব সংগ্রহের সীমাবদ্ধতা, ভর্তুকির চাপ, ঋণঝুঁকি, কর অব্যাহতির বিস্তার এবং রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়।

আলোচনায় উঠে আসে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকার প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে যাচ্ছে, যা অর্জনে প্রবৃদ্ধি দরকার হবে অন্তত ৪২ শতাংশ। কিন্তু চলতি অর্থবছরেই রাজস্ব ঘাটতি প্রায় ১ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গবেষণাপত্রে বলা হয়, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখন মাত্র ৬ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের চেয়েও কম। একইসঙ্গে কর অব্যাহতি ও কর ছাড়ের মাধ্যমে সরকার যে রাজস্ব হারাচ্ছে, তার পরিমাণ প্রায় আদায়কৃত রাজস্বের সমান। বিশ্লেষকরা বলেন, সরকার যদি কর অব্যাহতির সংস্কার না করে, তাহলে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানো বা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ—কোনোটিই টেকসইভাবে সম্ভব হবে না।

সংলাপে খাদ্য, বিদ্যুৎ, এলএনজি, কৃষি ও রেমিট্যান্স খাতে ভর্তুকির চাপ বাড়ার আশঙ্কার কথাও উঠে আসে। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় আগামী অর্থবছরে সরকারের ভর্তুকি ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও এলএনজি খাতে সরকারকে বড় ধরনের আর্থিক চাপ মোকাবিলা করতে হতে পারে। একইসঙ্গে কৃষি ভর্তুকি এবং প্রবাসী আয়ে নগদ প্রণোদনা বাবদও সরকারকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে।