রংপুরের তিস্তা পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন এবং জনগণের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
শুক্রবার বিকেলে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা ব্রিজ এলাকা পরিদর্শন শেষে এক জনসভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
আসাদুল হাবিব দুলু তার বক্তব্যে বলেন, “গত বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ আন্দোলনের সমাবেশে বিএনপির চেয়ারম্যান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিস্তাপাড়ের মানুষের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় আজ সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “বিএনপি কথা দিয়ে কথা রাখে। এ কারণেই আজ পানিসম্পদ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তিস্তা অঞ্চলে এসে বাস্তব পরিস্থিতি পরিদর্শন করছেন এবং মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।”
তিস্তা অববাহিকার অতীত সমৃদ্ধির কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, “একসময় রংপুর অঞ্চল ছিল রঙে-রসে ভরপুর। এ অঞ্চলের মানুষের গোলাভরা ধান ছিল, গোয়ালভরা গরু ছিল, পুকুরভরা মাছ ছিল। মানুষের মুখে ছিল ভাওয়াইয়া গান। তিস্তাপাড়ের মানুষ সুখে-শান্তিতে জীবনযাপন করত। তিস্তা ছিল এ অঞ্চলের মানুষের মায়ের মতো।”
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “কালের পরিক্রমায় তিস্তা আজ অনেকটাই প্রাণহীন হয়ে পড়েছে। নদীর বুকে পানি নেই, ভাঙনে অসংখ্য মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছে। অনেক পরিবার জীবিকার সন্ধানে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। তাই তিস্তার বুকে আবার প্রাণ ফিরিয়ে আনতে হবে, আর সেই প্রাণের নাম পানি।” জনসভায় বক্তারা তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বিশ্বাস করেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং তিস্তা অববাহিকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। এর আগে মন্ত্রী ও সফরসঙ্গীরা তিস্তা নদী, তিস্তা ব্যারেজসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।
রিপোর্টারের নাম 























