তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রকল্পটি দ্রুত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
শুক্রবার লালমনিরহাটে তিস্তা নদী পরিদর্শন এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু এমপি এবং পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
প্রতিমন্ত্রী আজাদ বলেন, “সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রয়োজন হলে তিস্তা মহাপরিকল্পনাও নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের সক্ষমতা সরকারের রয়েছে।”
মতবিনিময় সভায় পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এমপি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত অনুমোদনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিস্তা অববাহিকার জনগণ যাতে সর্বোচ্চ সুফল পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
পানিসম্পদ মন্ত্রী আরও বলেন, “বর্তমান সরকার জনগণের সরকার। জনকল্যাণে কাজ করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। দেশের স্বার্থ ও জনগণের সর্বোচ্চ উপকার নিশ্চিত করেই সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করতে চায়। এজন্য প্রয়োজনীয় সকল কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত বিষয় গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।”
তিনি উল্লেখ করেন, “তিস্তা অববাহিকার লাখো মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন, বন্যা, শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং কৃষি উৎপাদন সংশ্লিষ্ট নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এসব সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব হবে এবং এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে।”
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “বর্তমান সরকার শুধু কথায় নয়, কাজে বিশ্বাস করে। ইতোমধ্যে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচিকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে।” এদিন মন্ত্রী ও সফরসঙ্গীরা নীলফামারী জেলার চাঁদেরহাট, কচুকাটা, টেংগন নদী, জলঢাকা ও দেওনাই এলাকা এবং লালমনিরহাট জেলার চাড়ালকাটা নদী, রাজারহাট, ধানজাই ও তিস্তা প্রধান সেচ খাল পরিদর্শন করেন।
রিপোর্টারের নাম 























