ঢাকা ০৬:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

রেস্তোরাঁ খাতে বৈষম্য দূরীকরণ ও কর হার সমন্বয়সহ ৭ দফা প্রস্তাব

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে রেস্তোরাঁ খাতে ৫ শতাংশ এবং ক্যাটারিং সেবায় ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের ফলে ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় অসাম্য সৃষ্টি হচ্ছে এবং কর প্রশাসন জটিল হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। এ প্রেক্ষিতে, ভ্যাট ও ট্যাক্সের হার সকল ধরনের রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং সার্ভিসের জন্য ৫ শতাংশে সমন্বয় করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে, স্ট্রিট ফুডসহ সকল প্রকার রেস্তোরাঁকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনার দাবিও উত্থাপন করা হয়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর বিজয়নগরে সমিতির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাব ও দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা শুল্ককর কমানোসহ মোট সাত দফা দাবি উপস্থাপন করেন। সংগঠনের মহাসচিব ইমরান হাসান লিখিত বক্তব্যে বলেন, এলপিজি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে রেস্তোরাঁ খাতের পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে, যা এই খাতকে গভীর সংকটে ফেলেছে। তবে, এই সংকট উত্তরণে বাজেটে এই খাতকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাজেটে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা, আগের মতো প্রতি মাসে ভ্যাট আদায়, রেস্তোরাঁ ব্যবসা পরিচালনায় ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ দ্রুত বাস্তবায়ন, রেস্তোরাঁ খাতের জন্য সুনির্দিষ্ট শিল্প নীতি ঘোষণা এবং সমিতির সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও তারা জানান। এছাড়াও, রেস্তোরাঁ খাতে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা প্রদান এবং রেস্তোরাঁ শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করার ব্যাপারেও তারা প্রস্তাব রাখেন। ইমরান হাসান আরও বলেন, বিভিন্ন শ্রেণির রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং সেবার ওপর ভিন্ন ভিন্ন হারে ভ্যাট ও কর আরোপের ফলে সৃষ্ট বৈষম্য দূর করতে হবে এবং সকল প্রতিষ্ঠানের জন্য সমানভাবে ৫ শতাংশ কর নির্ধারণ করা উচিত। এর ফলে চলমান অসম প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। তিনি সরকারের পক্ষ থেকে ঢাকার বাইরে রেস্তোরাঁ ও পর্যটন খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে নতুন রেস্তোরাঁর স্থাপনা ও যন্ত্রপাতির ওপর কর রেয়াত দেওয়ার প্রস্তাবকে স্বাগত জানান এবং স্বল্প সুদে ঋণ নিশ্চিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তা মহাপরিকল্পনায় বদলে যাবে উত্তরবঙ্গের ভাগ্য, স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস পানি সম্পদ মন্ত্রীর

রেস্তোরাঁ খাতে বৈষম্য দূরীকরণ ও কর হার সমন্বয়সহ ৭ দফা প্রস্তাব

আপডেট সময় : ০৫:১৫:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে রেস্তোরাঁ খাতে ৫ শতাংশ এবং ক্যাটারিং সেবায় ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের ফলে ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় অসাম্য সৃষ্টি হচ্ছে এবং কর প্রশাসন জটিল হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। এ প্রেক্ষিতে, ভ্যাট ও ট্যাক্সের হার সকল ধরনের রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং সার্ভিসের জন্য ৫ শতাংশে সমন্বয় করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে, স্ট্রিট ফুডসহ সকল প্রকার রেস্তোরাঁকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনার দাবিও উত্থাপন করা হয়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর বিজয়নগরে সমিতির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাব ও দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা শুল্ককর কমানোসহ মোট সাত দফা দাবি উপস্থাপন করেন। সংগঠনের মহাসচিব ইমরান হাসান লিখিত বক্তব্যে বলেন, এলপিজি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে রেস্তোরাঁ খাতের পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে, যা এই খাতকে গভীর সংকটে ফেলেছে। তবে, এই সংকট উত্তরণে বাজেটে এই খাতকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাজেটে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা, আগের মতো প্রতি মাসে ভ্যাট আদায়, রেস্তোরাঁ ব্যবসা পরিচালনায় ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ দ্রুত বাস্তবায়ন, রেস্তোরাঁ খাতের জন্য সুনির্দিষ্ট শিল্প নীতি ঘোষণা এবং সমিতির সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও তারা জানান। এছাড়াও, রেস্তোরাঁ খাতে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা প্রদান এবং রেস্তোরাঁ শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করার ব্যাপারেও তারা প্রস্তাব রাখেন। ইমরান হাসান আরও বলেন, বিভিন্ন শ্রেণির রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং সেবার ওপর ভিন্ন ভিন্ন হারে ভ্যাট ও কর আরোপের ফলে সৃষ্ট বৈষম্য দূর করতে হবে এবং সকল প্রতিষ্ঠানের জন্য সমানভাবে ৫ শতাংশ কর নির্ধারণ করা উচিত। এর ফলে চলমান অসম প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। তিনি সরকারের পক্ষ থেকে ঢাকার বাইরে রেস্তোরাঁ ও পর্যটন খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে নতুন রেস্তোরাঁর স্থাপনা ও যন্ত্রপাতির ওপর কর রেয়াত দেওয়ার প্রস্তাবকে স্বাগত জানান এবং স্বল্প সুদে ঋণ নিশ্চিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ করেন।