ঢাকা ০২:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

প্রবীণ রাজনীতিক হারুন-আল-রশিদের প্রয়াণ: বিএনপি হারালো অভিভাবক, বললেন রিজভী

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট হারুন-আল-রশিদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, তার প্রয়াণে বিএনপি একজন অভিভাবকতূল্য নেতাকে হারালো। শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মরহুমের দ্বিতীয় জানাজা শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী জানান, হারুন-আল-রশিদ জাতীয় পর্যায়ে একজন সুপরিচিত ও প্রজ্ঞাবান রাজনীতিবিদ ছিলেন। তিনি জাতীয় সংসদের হুইপ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান এবং প্রতিমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন। একজন আইনজীবী হিসেবেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রশংসিত ও সফল।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক সংকটময় সময়ে হারুন-আল-রশিদের মতো অভিজ্ঞ ও নীতিবান নেতার বেঁচে থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। রাজনীতিতে ন্যায্যতা ও আপসহীনতার যে আদর্শ তিনি ধারণ করেছিলেন, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তা অটুট রেখেছেন।

রিজভী বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই হারুন-আল-রশিদ জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, হারুন-আল-রশিদ তার জীবনের মাধ্যমে প্রমাণ করে গেছেন কীভাবে নীতির প্রশ্নে আপসহীন থেকে দীর্ঘকাল রাজনীতি করা যায়। তিনি শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নেতা ছিলেন না, জাতীয় পর্যায়েও অর্পিত দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন।

রিজভী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। উল্লেখ্য, অ্যাডভোকেট হারুন-আল-রশিদ বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। জানাজায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ ছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অ্যাডভোকেট হারুন-আল-রশিদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং বিএনপির একজন প্রবীণ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে পাঁচবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাজ্যে মপেড নিয়ে হাসনাতের গাড়ি আটকান সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, আইনি জটিলতায় এমপি

প্রবীণ রাজনীতিক হারুন-আল-রশিদের প্রয়াণ: বিএনপি হারালো অভিভাবক, বললেন রিজভী

আপডেট সময় : ০৮:৪৩:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট হারুন-আল-রশিদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, তার প্রয়াণে বিএনপি একজন অভিভাবকতূল্য নেতাকে হারালো। শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মরহুমের দ্বিতীয় জানাজা শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী জানান, হারুন-আল-রশিদ জাতীয় পর্যায়ে একজন সুপরিচিত ও প্রজ্ঞাবান রাজনীতিবিদ ছিলেন। তিনি জাতীয় সংসদের হুইপ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান এবং প্রতিমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন। একজন আইনজীবী হিসেবেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রশংসিত ও সফল।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক সংকটময় সময়ে হারুন-আল-রশিদের মতো অভিজ্ঞ ও নীতিবান নেতার বেঁচে থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। রাজনীতিতে ন্যায্যতা ও আপসহীনতার যে আদর্শ তিনি ধারণ করেছিলেন, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তা অটুট রেখেছেন।

রিজভী বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই হারুন-আল-রশিদ জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, হারুন-আল-রশিদ তার জীবনের মাধ্যমে প্রমাণ করে গেছেন কীভাবে নীতির প্রশ্নে আপসহীন থেকে দীর্ঘকাল রাজনীতি করা যায়। তিনি শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নেতা ছিলেন না, জাতীয় পর্যায়েও অর্পিত দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন।

রিজভী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। উল্লেখ্য, অ্যাডভোকেট হারুন-আল-রশিদ বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। জানাজায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ ছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অ্যাডভোকেট হারুন-আল-রশিদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং বিএনপির একজন প্রবীণ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে পাঁচবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন।