তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, যে সমাজে সুস্থ অনুভূতি বিনিময়ের মাধ্যম থাকে না, সামাজিকতা বা সামাজিক প্রতিষ্ঠান থাকে না; কেবল ক্ষমতা দখলের দলাদলি আর হিংস্র প্রতিযোগিতা চলে, তা কখনো সভ্যতার মানদণ্ড হতে পারে না। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘ফল উৎসব’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি ও ধর্মের উদাহরণ টেনে তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সব সমাজেই মৌসুমী ফল ও প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের রীতি রয়েছে। আমাদের মাটির প্রতি পরম করুণাময়ের রহমত ও আশীর্বাদ আছে বলেই প্রকৃতি এত চমৎকার বৈচিত্র্যময় ফলমূল উপহার দেয়।
তথ্যমন্ত্রী প্রেস ক্লাবের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, এটি শুধু একটি ছোটখাটো উৎসব নয়, এর পেছনে একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দর্শন রয়েছে। পারস্পরিক হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে এই মৌসুমে একসঙ্গে ফল বিনিময় ও আহারের গুরুত্ব অপরিসীম। ফল উপভোগ করার মধ্য দিয়ে মূলত প্রকৃতি ও সৃষ্টিকর্তার প্রতি এক ধরনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পায়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রেস ক্লাবের মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠান যখন এই সুন্দর সংস্কৃতিকে ধরে রাখে এবং চর্চা করে, তখন গণমাধ্যমের কল্যাণে তা দেশব্যাপী ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই সুস্থ মনোজগতকে জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারলে তা একটি সুস্থ ও মানবিক জাতি গঠনে বড় অবদান রাখবে।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের থিম সং ‘প্রেস ক্লাব আমাদের সেকেন্ড হোম’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। আম, জাম্বুরা, কলা, কামরাঙ্গা, আমলকি, আমড়া, ডেউয়া, জামরুল, তাল, লিচুসহ প্রায় ৪২ ধরনের বৈচিত্র্যময় দেশি ফলের সম্ভার এবং দেশাত্মবোধক গানের আয়োজন ছিল এই উৎসবে। শিল্পীরা দেশাত্মবোধক ও লোকজ গান পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্য এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা এই ফল উৎসব ও সঙ্গীতানুষ্ঠান উপভোগ করেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এবং বিশেষ অনুষ্ঠান ও আপ্যায়ন উপ-কমিটির আহ্বায়ক কাদের গনি চৌধুরী।
রিপোর্টারের নাম 

























