মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত হলেও এর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আগামী বহু বছর বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে বজায় থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মাসব্যাপী এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, লেবানন, ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলো মিলিয়ে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, যার মধ্যে ইরানের ৩ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি নাগরিক রয়েছেন।
এই সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে মারাত্মকভাবে অস্থিতিশীল করে তুলেছে এবং হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ অবরোধ করে রেখেছিল। এর ফলস্বরূপ এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে জ্বালানি রেশনিং করতে হয়েছে এবং সেমিকন্ডাক্টর থেকে শুরু করে সার পর্যন্ত সবকিছুর সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ২০২৬ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ২.৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছে, যা করোনা মহামারির পর সর্বনিম্ন।
মুডিস অ্যানালিটিক্স-এর হিসাব অনুযায়ী, এই যুদ্ধ মার্কিন ভোক্তা ও করদাতাদের প্রায় ১৩ হাজার ২০০ কোটি ডলারের ক্ষতির মুখে ফেলেছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৫৬ ডলারে পৌঁছেছিল, যা মার্কিন চালকদের প্রতিদিন অতিরিক্ত ৫০ কোটি ডলারের বেশি খরচ করতে বাধ্য করেছে। ডিজেল ও জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায় বিমান টিকিটের দাম গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সারের দাম ৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় কৃষিখাতে সংকট তৈরি হয়েছে। এছাড়া, যুদ্ধের অনিশ্চয়তার কারণে দেশটিতে বন্ধকী ঋণের (মর্টগেজ) সুদের হার গড়ে ৬ দশমিক ৫২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
যুদ্ধের ধাক্কায় মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জিডিপি প্রবৃদ্ধি গত বছরের ৪ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমে এ বছর মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ হবে। তবে, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মতে, কাতারের অর্থনীতি সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে, কারণ ইরানি হামলায় দেশটির এলএনজি রপ্তানি ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় গত মে মাসে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদন দৈনিক ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেলের বেশি হ্রাস পেয়েছিল।
রিপোর্টারের নাম 






















