ঢাকা ০৬:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা ফেরত ও সুশাসন প্রতিষ্ঠাসহ সাত দাবি গ্রাহক ফোরামের

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, ব্যাংকটির মালিকানা ‘প্রকৃত মালিকদের’ কাছে হস্তান্তর এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠাসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুরনবী মানিক এসব দাবি তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক কেবল একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি দেশের কোটি কোটি গ্রাহকের আস্থা এবং জাতীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রেমিট্যান্স প্রবাহ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন এবং সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের একটি বড় অংশ এই ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশিদ আলমের নিয়োগ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে অপসারণের পর থেকে ব্যাংকটির সুশাসন ও স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গত ২৪ মে থেকে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন গ্রাহকরা।

ফোরামের নেতারা দাবি করেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কবির আহমদ ও ড. ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে বৈঠকে তারা ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন। সেখানে একটি গ্রহণযোগ্য ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, চেয়ারম্যান পরিবর্তন এবং তারল্য সহায়তা দেওয়ার বাইরে এখনো ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে গ্রাহকদের আস্থা পুরোপুরি ফিরে আসেনি। এ সময় ব্যাংকটির মালিকানা নিয়ে ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বিএবি ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সংগঠন এবিবির বিভিন্ন মতামতও তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা পুরো ব্যাংকিং খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে অর্থনীতিবিদদের উদ্বেগের কথাও উল্লেখ করা হয়।

গ্রাহক ফোরামের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে: সৎ, যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন, ব্যাংকের মালিকানা আগের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া, ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা, ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিতর্কিত ধারা সংশোধন এবং ইসলামী ব্যাংক বিষয়ে দেওয়া ‘অসত্য বক্তব্য’ প্রত্যাহার। নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করতে গিয়ে অধ্যাপক নুরনবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংক কোন…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তা মহাপরিকল্পনায় বদলে যাবে উত্তরবঙ্গের ভাগ্য, স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস পানি সম্পদ মন্ত্রীর

ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা ফেরত ও সুশাসন প্রতিষ্ঠাসহ সাত দাবি গ্রাহক ফোরামের

আপডেট সময় : ০৫:১৭:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, ব্যাংকটির মালিকানা ‘প্রকৃত মালিকদের’ কাছে হস্তান্তর এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠাসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুরনবী মানিক এসব দাবি তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক কেবল একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি দেশের কোটি কোটি গ্রাহকের আস্থা এবং জাতীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রেমিট্যান্স প্রবাহ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন এবং সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের একটি বড় অংশ এই ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশিদ আলমের নিয়োগ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে অপসারণের পর থেকে ব্যাংকটির সুশাসন ও স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গত ২৪ মে থেকে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন গ্রাহকরা।

ফোরামের নেতারা দাবি করেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কবির আহমদ ও ড. ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে বৈঠকে তারা ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন। সেখানে একটি গ্রহণযোগ্য ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, চেয়ারম্যান পরিবর্তন এবং তারল্য সহায়তা দেওয়ার বাইরে এখনো ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে গ্রাহকদের আস্থা পুরোপুরি ফিরে আসেনি। এ সময় ব্যাংকটির মালিকানা নিয়ে ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বিএবি ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সংগঠন এবিবির বিভিন্ন মতামতও তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা পুরো ব্যাংকিং খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে অর্থনীতিবিদদের উদ্বেগের কথাও উল্লেখ করা হয়।

গ্রাহক ফোরামের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে: সৎ, যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন, ব্যাংকের মালিকানা আগের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া, ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা, ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিতর্কিত ধারা সংশোধন এবং ইসলামী ব্যাংক বিষয়ে দেওয়া ‘অসত্য বক্তব্য’ প্রত্যাহার। নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করতে গিয়ে অধ্যাপক নুরনবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংক কোন…