রাজধানীর মোহাম্মদপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে বিএনপির এক স্থানীয় নেতাকে। শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে সাতমসজিদ হাউজিং এলাকার ৪ নম্বর সড়কে এ হামলার ঘটনা ঘটে। জুমার নামাজের পর নিজ বাসার নিচে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেলে আসা একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় মোহাম্মদ নূর ইসলাম (৫৫) নামের ওই নেতাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মোহাম্মদপুর এলাকার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। দিনের আলোয় জনবহুল আবাসিক এলাকায় এমন হামলার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার কারণ ও জড়িতদের পরিচয় জানতে তদন্ত শুরু করেছে।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জুমার নামাজ শেষে নূর ইসলাম তার বাসার নিচে অবস্থান করছিলেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে এসে হঠাৎ হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীদের হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল। হামলার একপর্যায়ে নূর ইসলামের মুখমণ্ডল, কাঁধ ও হাতে একাধিক গভীর আঘাত লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
আহতের ভাতিজা ইয়াসিন জানান, স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় নূর ইসলামকে প্রথমে কাছাকাছি একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি জরুরি বিভাগের অধীনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নূর ইসলামের গ্রামের বাড়ি ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার মহিষখালী এলাকায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুরে বসবাস করছেন এবং স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক জানিয়েছেন, আহত ব্যক্তির শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর জখমের চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে মুখের বাম পাশ, কাঁধ এবং হাতে গুরুতর আঘাত লেগেছে। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন।
এই ঘটনার পর মোহাম্মদপুর এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে বলছেন, জনবহুল আবাসিক এলাকায় দিনের বেলায় এমন হামলার ঘটনা নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। হামলার পেছনে রাজনৈতিক বিরোধ, ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে – তা এখনো স্পষ্ট নয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















