ঢাকা ০২:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে অপহরণচেষ্টা: গণপিটুনির শিকার ৪ ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার, মামলা দায়ের

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক যুবককে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতার গণপিটুনির শিকার হন ওই পুলিশ সদস্যরা। ভুক্তভোগী যুবকের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত পুলিশ সদস্যসহ মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—ঢাকা মহানগর ডিবি (দক্ষিণ) ইউনিটে কর্মরত এসআই মামুন মাতুব্বর, এএসআই আমান উল্লাহ, কনস্টেবল কবির ও কনস্টেবল আকাশ আহাম্মেদ। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার রূপগঞ্জের গাউছিয়া ও আড়াইহাজারের শান্তিনগর বাজার এলাকায়।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম ভুক্তভোগীর বরাত দিয়ে জানান, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সোনারগাঁওয়ের বারদী এলাকা থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় কর্মরত অমিত হাসান তার এক আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে রূপগঞ্জের গাউছিয়া এলাকায় আসেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের সিআইডি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে জোরপূর্বক একটি প্রাইভেটকারে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে।

ভুক্তভোগী চিৎকার করলে স্থানীয়রা ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে করে প্রাইভেটকারটি আটকায়। এ সময় এসআই মামুন, এএসআই আমান উল্লাহ ও কনস্টেবল কবিরকে আটক করে গণধোলাই দেওয়া হয়। প্রাইভেটকারে থাকা আরও তিনজন পালিয়ে যায়। পরে উত্তেজিত জনতা আটক তিনজনকে একটি পিকআপে করে আড়াইহাজারের শান্তিনগর বাজারে নিয়ে গিয়ে আবারও গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত অপর কনস্টেবল আকাশ আহাম্মেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত পুলিশ সদস্যরা এর আগেও অপহরণের নাটক সাজিয়ে অমিত হাসানের দূরসম্পর্কের মামা জয়নাল এবং সোনারগাঁওয়ের জাকির হোসেনকে অপহরণ করে কেরানীগঞ্জে নিয়ে গিয়ে মুক্তিপণ আদায় করেছিলেন। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে এবং অনুমতি ছাড়াই এক জেলা থেকে অন্য জেলায় গিয়ে এ ধরনের কার্যক্রম চালাতেন বলেও জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঠিক তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাউজানে যুবদল নেতা মাকসুদ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বাঘাইছড়িতে গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জে অপহরণচেষ্টা: গণপিটুনির শিকার ৪ ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার, মামলা দায়ের

আপডেট সময় : ০৮:৩৮:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক যুবককে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতার গণপিটুনির শিকার হন ওই পুলিশ সদস্যরা। ভুক্তভোগী যুবকের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত পুলিশ সদস্যসহ মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—ঢাকা মহানগর ডিবি (দক্ষিণ) ইউনিটে কর্মরত এসআই মামুন মাতুব্বর, এএসআই আমান উল্লাহ, কনস্টেবল কবির ও কনস্টেবল আকাশ আহাম্মেদ। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার রূপগঞ্জের গাউছিয়া ও আড়াইহাজারের শান্তিনগর বাজার এলাকায়।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম ভুক্তভোগীর বরাত দিয়ে জানান, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সোনারগাঁওয়ের বারদী এলাকা থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় কর্মরত অমিত হাসান তার এক আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে রূপগঞ্জের গাউছিয়া এলাকায় আসেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের সিআইডি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে জোরপূর্বক একটি প্রাইভেটকারে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে।

ভুক্তভোগী চিৎকার করলে স্থানীয়রা ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে করে প্রাইভেটকারটি আটকায়। এ সময় এসআই মামুন, এএসআই আমান উল্লাহ ও কনস্টেবল কবিরকে আটক করে গণধোলাই দেওয়া হয়। প্রাইভেটকারে থাকা আরও তিনজন পালিয়ে যায়। পরে উত্তেজিত জনতা আটক তিনজনকে একটি পিকআপে করে আড়াইহাজারের শান্তিনগর বাজারে নিয়ে গিয়ে আবারও গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত অপর কনস্টেবল আকাশ আহাম্মেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত পুলিশ সদস্যরা এর আগেও অপহরণের নাটক সাজিয়ে অমিত হাসানের দূরসম্পর্কের মামা জয়নাল এবং সোনারগাঁওয়ের জাকির হোসেনকে অপহরণ করে কেরানীগঞ্জে নিয়ে গিয়ে মুক্তিপণ আদায় করেছিলেন। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে এবং অনুমতি ছাড়াই এক জেলা থেকে অন্য জেলায় গিয়ে এ ধরনের কার্যক্রম চালাতেন বলেও জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঠিক তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।