ঢাকা ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ট্রাম্পের ‘অভ্যুত্থান দমন’ আইনের হুমকি: মার্কিন শহরগুলোতে সেনা মোতায়েন নিয়ে চরম উদ্বেগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের বিভিন্ন শহরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করছেন। তার সাম্প্রতিক নির্দেশ মেনে মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) শিকাগোর বাইরে একটি সামরিক ঘাঁটিতে শত শত ন্যাশনাল গার্ড জড়ো হন। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেই ট্রাম্প শহরটিতে আরও সেনা পাঠানোর এবং পুরোনো ও বিতর্কিত ‘ইনসারেকশন অ্যাক্ট’ (অভ্যুত্থান দমন আইন) প্রয়োগের হুমকি দেন। তিনি দাবি করেন, এই আইন ব্যবহার করে আদালতের বাধা উপেক্ষা করেই সেনা পাঠানো সম্ভব। যদিও স্থানীয় এবং অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটরা, প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপের কঠোর বিরোধিতা করছে। সাধারণত ফেডারেল আইনে বেসামরিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী মোতায়েন নিষিদ্ধ, কিন্তু ইনসারেকশন অ্যাক্ট সেই নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে সেনাবাহিনীকে সরাসরি আইন প্রয়োগ এবং গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেয়। ন্যাশনাল গার্ড সাধারণত গভর্নরের অধীনে থাকলেও, ট্রাম্পের নির্দেশে তাদের ভূমিকা এখন ফেডারেল সম্পদ রক্ষা ও অস্থায়ী আটক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।

ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে ন্যাশনাল গার্ড পাঠানোর সিদ্ধান্ত একজন ফেডারেল বিচারক সাময়িকভাবে স্থগিত করলেও, আরেকজন বিচারক শিকাগোতে সেনা মোতায়েন অব্যাহত রাখার অনুমতি দিয়েছেন। সেখানে ফেডারেল কর্মকর্তারা অবৈধ অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান চালাচ্ছেন। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন যে এই আইন আগেও ব্যবহার হয়েছে। তিনি শিকাগোর উচ্চ অপরাধ হারের কথা উল্লেখ করে সতর্ক করেছেন, যদি গভর্নর পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ হন, তবে ফেডারেল সরকারই দায়িত্ব নেবে। এই আইন প্রেসিডেন্টকে জরুরি অবস্থায় সেনা মোতায়েনের ক্ষমতা দেয়, তবে এটি সাধারণত গভর্নরদের অনুরোধেই ব্যবহার করা হয়। শেষবার ১৯৯২ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ.ডব্লিউ. বুশ লস অ্যাঞ্জেলেসের দাঙ্গা দমনে এই আইন প্রয়োগ করেছিলেন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে ক্ষমতা প্রদর্শনের আরেকটি নজির। সম্প্রতি সেনা কর্মকর্তাদের কাছে এক বক্তৃতায় তিনি মার্কিন শহরগুলোকে ‘সামরিক প্রশিক্ষণ ক্ষেত্র’ হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব দেন, যা ডেমোক্র্যাট এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প লস অ্যাঞ্জেলেস, ওয়াশিংটন ডিসি, পোর্টল্যান্ড এবং শিকাগোতে গার্ড পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু ডেমোক্র্যাট গভর্নর ও মেয়ররা বলছেন, ট্রাম্পের এই দাবি বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।

মঙ্গলবার শিকাগো থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে এলউড শহরে সেনাদের একত্রিত হতে দেখা গেছে। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, ট্রাম্প যে ‘যুদ্ধক্ষেত্র’-এর কথা বলছেন, বাস্তবে সেরকম কোনো পরিস্থিতি নেই। শিকাগোতে সহিংস অপরাধের হার সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কমেছে এবং শহরের জীবনযাত্রা মোটামুটি স্বাভাবিক। তবে শহরতলির ব্রডভিউর একটি অভিবাসন কেন্দ্রে ফেডারেল বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে, যেখানে টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করা হয় এবং সাংবাদিকসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইলিনয়ের গভর্নর জে বি প্রিটজকার অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প “আমাদের সেনাদের রাজনৈতিক গুটি হিসেবে ব্যবহার করছেন” এবং “অবৈধভাবে শহরগুলোকে সামরিকীকরণের চেষ্টা করছেন।” ইলিনয় ও শিকাগো প্রশাসন ইতিমধ্যে ট্রাম্প সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, যাতে ইলিনয়ের ৩০০ ও টেক্সাসের ৪০০ সেনা ফেডারেল নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন বন্ধ করা যায়। ফেডারেল বিচারক এপ্রিল পেরি আপাতত মোতায়েন চালু রাখার অনুমতি দিলেও বুধবারের মধ্যে সরকারের ব্যাখ্যা চেয়েছেন। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প যদি সত্যিই ইনসারেকশন অ্যাক্ট কার্যকর করেন, তবে তাকে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। যদিও সর্বোচ্চ আদালত একাধিকবার বলেছে, আইন প্রয়োগের শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, তা প্রেসিডেন্ট নিজেই নির্ধারণ করতে পারেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষকদের অন্য পেশায় যুক্ত হতে কর্তৃপক্ষের অনুমতি আবশ্যক: শিক্ষামন্ত্রী

ট্রাম্পের ‘অভ্যুত্থান দমন’ আইনের হুমকি: মার্কিন শহরগুলোতে সেনা মোতায়েন নিয়ে চরম উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০৯:৫৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের বিভিন্ন শহরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করছেন। তার সাম্প্রতিক নির্দেশ মেনে মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) শিকাগোর বাইরে একটি সামরিক ঘাঁটিতে শত শত ন্যাশনাল গার্ড জড়ো হন। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেই ট্রাম্প শহরটিতে আরও সেনা পাঠানোর এবং পুরোনো ও বিতর্কিত ‘ইনসারেকশন অ্যাক্ট’ (অভ্যুত্থান দমন আইন) প্রয়োগের হুমকি দেন। তিনি দাবি করেন, এই আইন ব্যবহার করে আদালতের বাধা উপেক্ষা করেই সেনা পাঠানো সম্ভব। যদিও স্থানীয় এবং অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটরা, প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপের কঠোর বিরোধিতা করছে। সাধারণত ফেডারেল আইনে বেসামরিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী মোতায়েন নিষিদ্ধ, কিন্তু ইনসারেকশন অ্যাক্ট সেই নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে সেনাবাহিনীকে সরাসরি আইন প্রয়োগ এবং গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেয়। ন্যাশনাল গার্ড সাধারণত গভর্নরের অধীনে থাকলেও, ট্রাম্পের নির্দেশে তাদের ভূমিকা এখন ফেডারেল সম্পদ রক্ষা ও অস্থায়ী আটক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।

ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে ন্যাশনাল গার্ড পাঠানোর সিদ্ধান্ত একজন ফেডারেল বিচারক সাময়িকভাবে স্থগিত করলেও, আরেকজন বিচারক শিকাগোতে সেনা মোতায়েন অব্যাহত রাখার অনুমতি দিয়েছেন। সেখানে ফেডারেল কর্মকর্তারা অবৈধ অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান চালাচ্ছেন। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন যে এই আইন আগেও ব্যবহার হয়েছে। তিনি শিকাগোর উচ্চ অপরাধ হারের কথা উল্লেখ করে সতর্ক করেছেন, যদি গভর্নর পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ হন, তবে ফেডারেল সরকারই দায়িত্ব নেবে। এই আইন প্রেসিডেন্টকে জরুরি অবস্থায় সেনা মোতায়েনের ক্ষমতা দেয়, তবে এটি সাধারণত গভর্নরদের অনুরোধেই ব্যবহার করা হয়। শেষবার ১৯৯২ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ.ডব্লিউ. বুশ লস অ্যাঞ্জেলেসের দাঙ্গা দমনে এই আইন প্রয়োগ করেছিলেন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে ক্ষমতা প্রদর্শনের আরেকটি নজির। সম্প্রতি সেনা কর্মকর্তাদের কাছে এক বক্তৃতায় তিনি মার্কিন শহরগুলোকে ‘সামরিক প্রশিক্ষণ ক্ষেত্র’ হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব দেন, যা ডেমোক্র্যাট এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প লস অ্যাঞ্জেলেস, ওয়াশিংটন ডিসি, পোর্টল্যান্ড এবং শিকাগোতে গার্ড পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু ডেমোক্র্যাট গভর্নর ও মেয়ররা বলছেন, ট্রাম্পের এই দাবি বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।

মঙ্গলবার শিকাগো থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে এলউড শহরে সেনাদের একত্রিত হতে দেখা গেছে। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, ট্রাম্প যে ‘যুদ্ধক্ষেত্র’-এর কথা বলছেন, বাস্তবে সেরকম কোনো পরিস্থিতি নেই। শিকাগোতে সহিংস অপরাধের হার সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কমেছে এবং শহরের জীবনযাত্রা মোটামুটি স্বাভাবিক। তবে শহরতলির ব্রডভিউর একটি অভিবাসন কেন্দ্রে ফেডারেল বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে, যেখানে টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করা হয় এবং সাংবাদিকসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইলিনয়ের গভর্নর জে বি প্রিটজকার অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প “আমাদের সেনাদের রাজনৈতিক গুটি হিসেবে ব্যবহার করছেন” এবং “অবৈধভাবে শহরগুলোকে সামরিকীকরণের চেষ্টা করছেন।” ইলিনয় ও শিকাগো প্রশাসন ইতিমধ্যে ট্রাম্প সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, যাতে ইলিনয়ের ৩০০ ও টেক্সাসের ৪০০ সেনা ফেডারেল নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন বন্ধ করা যায়। ফেডারেল বিচারক এপ্রিল পেরি আপাতত মোতায়েন চালু রাখার অনুমতি দিলেও বুধবারের মধ্যে সরকারের ব্যাখ্যা চেয়েছেন। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প যদি সত্যিই ইনসারেকশন অ্যাক্ট কার্যকর করেন, তবে তাকে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। যদিও সর্বোচ্চ আদালত একাধিকবার বলেছে, আইন প্রয়োগের শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, তা প্রেসিডেন্ট নিজেই নির্ধারণ করতে পারেন।