ঢাকা ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সশস্ত্র বাহিনীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা বাড়ল ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪২:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৭ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন এবং এর ওপরের পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা আগামী ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

এই ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপনটি মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা হয়।

এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতার মেয়াদ দুই মাসের (৬০ দিন) জন্য বাড়ানো হয়েছিল, যা আজ মঙ্গলবার শেষ হচ্ছে।

মেয়াদ বাড়ানোর আদেশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও এর ওপরের সমপদমর্যাদার কমিশনড কর্মকর্তাদের (কোস্টগার্ড ও বিজিবিতে প্রেষণে নিয়োজিত সমপদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ) ‘দ্য কোড অব ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮’ এর ১২(১) ও ১৭ ধারা অনুযায়ী স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়া হলো।

এই ক্ষমতার মেয়াদ হবে ১২ নভেম্বর থেকে শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, তারা সারাদেশেই এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।

এতদিন ধরে সশস্ত্র বাহিনীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা সাধারণত ৬০ দিন বা দুই মাস করে বাড়ানো হচ্ছিল। তবে এবার একসঙ্গে ১০৯ দিন বা সাড়ে তিন মাসেরও বেশি সময় বৃদ্ধি করা হলো। এর ফলে নির্বাচনের সময়েও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়ে আসছে যে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ‘ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮’ এর ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫ (২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ ও ১৪২ ধারার অপরাধগুলো বিবেচনা করার সুযোগ পাবেন।

মূলত গত বছর ১৭ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর কমিশনড অফিসারদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিয়ে প্রথম প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপনটি সংশোধন করা হয় এবং বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর কমিশনড অফিসারদের (সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও এর ওপরের সমপদমর্যাদার কর্মকর্তা) এই ক্ষমতা দেওয়া হয়। এর অর্থ হলো, কেবল সেনাবাহিনী নয়, বিমান ও নৌবাহিনীর কমিশনড অফিসারদেরও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় ৬০ দিনের জন্য ক্ষমতা দেওয়া হলেও নভেম্বরের মাঝামাঝিতে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দফায় দফায় ৬০ দিন করে তা বাড়ানো হচ্ছিল।

কোটা সংস্কার আন্দোলন যখন চরম আকার ধারণ করেছিল, তখন গত ১৯ জুলাই সরকার কারফিউ জারি করে সেনাবাহিনী মোতায়েন করে। সেই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সাধারণ মানুষ ছাড়াও অনেক পুলিশ সদস্য হতাহত হন এবং কিছু স্থানে থানা পুড়িয়ে দেওয়া ও অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটে। ৫ আগস্টের পরে সারা দেশের পুলিশ থানা ছেড়ে কর্মবিরতিতে গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। এই প্রেক্ষাপটেই সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সমীকরণ: চীন থেকে অত্যাধুনিক সুপারসনিক মিসাইল কিনছে ইরান

সশস্ত্র বাহিনীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা বাড়ল ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত

আপডেট সময় : ০৩:৪২:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন এবং এর ওপরের পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা আগামী ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

এই ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপনটি মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা হয়।

এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতার মেয়াদ দুই মাসের (৬০ দিন) জন্য বাড়ানো হয়েছিল, যা আজ মঙ্গলবার শেষ হচ্ছে।

মেয়াদ বাড়ানোর আদেশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও এর ওপরের সমপদমর্যাদার কমিশনড কর্মকর্তাদের (কোস্টগার্ড ও বিজিবিতে প্রেষণে নিয়োজিত সমপদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ) ‘দ্য কোড অব ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮’ এর ১২(১) ও ১৭ ধারা অনুযায়ী স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়া হলো।

এই ক্ষমতার মেয়াদ হবে ১২ নভেম্বর থেকে শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, তারা সারাদেশেই এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।

এতদিন ধরে সশস্ত্র বাহিনীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা সাধারণত ৬০ দিন বা দুই মাস করে বাড়ানো হচ্ছিল। তবে এবার একসঙ্গে ১০৯ দিন বা সাড়ে তিন মাসেরও বেশি সময় বৃদ্ধি করা হলো। এর ফলে নির্বাচনের সময়েও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়ে আসছে যে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ‘ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮’ এর ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫ (২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ ও ১৪২ ধারার অপরাধগুলো বিবেচনা করার সুযোগ পাবেন।

মূলত গত বছর ১৭ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর কমিশনড অফিসারদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিয়ে প্রথম প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপনটি সংশোধন করা হয় এবং বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর কমিশনড অফিসারদের (সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও এর ওপরের সমপদমর্যাদার কর্মকর্তা) এই ক্ষমতা দেওয়া হয়। এর অর্থ হলো, কেবল সেনাবাহিনী নয়, বিমান ও নৌবাহিনীর কমিশনড অফিসারদেরও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় ৬০ দিনের জন্য ক্ষমতা দেওয়া হলেও নভেম্বরের মাঝামাঝিতে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দফায় দফায় ৬০ দিন করে তা বাড়ানো হচ্ছিল।

কোটা সংস্কার আন্দোলন যখন চরম আকার ধারণ করেছিল, তখন গত ১৯ জুলাই সরকার কারফিউ জারি করে সেনাবাহিনী মোতায়েন করে। সেই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সাধারণ মানুষ ছাড়াও অনেক পুলিশ সদস্য হতাহত হন এবং কিছু স্থানে থানা পুড়িয়ে দেওয়া ও অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটে। ৫ আগস্টের পরে সারা দেশের পুলিশ থানা ছেড়ে কর্মবিরতিতে গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। এই প্রেক্ষাপটেই সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।