নারী বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারানোর পর বাংলাদেশের মেয়েরা ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও অঘটনের স্বপ্ন দেখছিল। ১৭৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইংলিশদের ১০৩ রানে ৬ উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছিলেন নিগার সুলতানারা। তবে শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার কাছে হার মানতে হলো। অধিনায়ক হিদার নাইট সপ্তম উইকেটে গড়লেন অবিচ্ছিন্ন ৭৯ রানের জুটি, যা ম্যাচটির পার্থক্য গড়ে দেয়। শেষ হাসি হেসেছে ইংলিশ দল, বাংলাদেশকে তারা ৪ উইকেটে হারিয়েছে।
ম্যাচসেরা হিদার নাইট ১১১ বলে ৭৯ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। তার ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ১টি ছয়ের মার। সঙ্গী চার্লি ডিন ৫৬ বলে খেলেন ২৭ রানের অপরাজিত ইনিংস। এই জুটির কল্যাণেই ইংল্যান্ড ৪৬.১ ওভারে ম্যাচ জিতে নেয়।
বাংলাদেশের হয়ে এদিনও শুরুতে বল হাতে দাপট দেখান পেসার মারুফা আক্তার। তিনি ৫ ওভারে ২৮ রানে ২ উইকেট নেন। এরপর লেগ স্পিনার ফাহিমা খাতুন ১৬ রানে ৩টি উইকেট নিয়ে ম্যাচে বাংলাদেশের পক্ষে পরিস্থিতি তৈরি করেন। কিন্তু তাদের প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত নাইট ও ডিনের অভিজ্ঞতার কাছে হার মানে।
এর আগে গুয়াহাটিতে নারীদের ওয়ানডে বিশ্বকাপে প্রথমে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে ১৭৮ রানে রুখে দেয় ইংল্যান্ড। ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছিলেন সোবহানা মোস্তারি ও রাবেয়া খান। সোবহানা ধৈর্যশীল ৬০ রানের ইনিংস খেলেন, আর শেষ দিকে রাবেয়ার ঝোড়ো ৪৩ রানে ভর করে বাংলাদেশ লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারে। বাংলাদেশ ৪৯.৪ ওভারে অলআউট হয় ১৭৮ রানে।
মূলত ইংলিশ স্পিনারদের ঘূর্ণিজালে কাবু হয় বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। সোফি একলস্টোন তিনটি উইকেট শিকার করেন। উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দারুণ ভূমিকা রাখা লিনসে স্মিথ ৩৩ রানে নেন ২ উইকেট। অফস্পিনার চার্লি ডিন ও অ্যালিস ক্যাপসি প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন এবং কৃপণ বোলিং করেন। ক্যাপসির স্পেলে ৪৭তম ওভারে মোস্তারি ডাবল স্ট্রাইকে কাটা পড়েন। ফেরার আগে ১০৮ বলে তিনি নিজের প্রথম বিশ্বকাপ ফিফটি তুলে নেন।
প্রথম ছয় ওভারেই ২৫ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ওপেনিংয়ে সুযোগ পেয়ে রুবাইয়া হায়দার মাত্র ৯ রানে ফিরে যান। পরের ওভারেই মাত্র ২ বল খেলে সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। প্রথমে শারমিন ও পরে মোস্তারির সঙ্গে নিয়ে ব্যাটাররা ইনিংস গুছিয়ে তোলার চেষ্টা করলেও একলস্টোন সেই পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেন। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ।
রানখরার সেই সময়ে ন্যাট সিভার-ব্রান্টকে পরপর দুটি বাউন্ডারি মেরে চাপ কিছুটা কাটান মোস্তারি। এর মধ্যেই রিতু মনি ধীরগতির ৫ রান করে ডিনের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন। মোস্তারির ফিফটি আসে ডিপ পয়েন্ট দিয়ে একটি চমৎকার শটে। বাংলাদেশের হয়ে মাত্র তৃতীয় নারী ব্যাটার হিসেবে তিনি বিশ্বকাপে অর্ধশতক হাঁকান। একবার জীবন পেলেও শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড আবার রিভিউ নিয়ে মোস্তারিকে প্যাভিলিয়নে ফেরায়। তখন দলের স্কোর ছিল ৮ উইকেটে ১৫৬।
শেষদিকে রাবেয়া খান ছিলেন একমাত্র আশার আলো। ২৭ বলে ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ৪৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। শেষ ওভারে স্মিথকে ছয় মেরে ম্যাচের প্রথম ছক্কার স্বাদ নেন রাবেয়া। এরপর ফাইন লেগ দিয়ে মারেন চার। তবে সঙ্গী সানজিদা মেঘলা আর টিকতে পারেননি, সিভার ব্রান্টকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।
রিপোর্টারের নাম 

























