ঢাকা ০৩:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সংস্কৃতি-শিক্ষা ছাড়া রাজনীতি হয় না, আসুন সত্যিকারের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ি: মঈন খান

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, “সংস্কৃতি, শিক্ষা এবং সমাজকে বাদ দিয়ে কোনো দেশের রাজনীতি চলতে পারে না। আসুন, আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশকে এমন একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক দেশে পরিণত করি, যেখানে মানুষের অধিকার, ভোটের অধিকার, মৌলিক অধিকার এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। আর সবশেষে, এই দেশের কোটি কোটি দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক অধিকারও প্রতিষ্ঠিত হবে।”

তিনি এই কথাগুলো বলেন সোমবার সকালে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে। সেখানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর একটি প্রকাশনা অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা চলছিল।

মঈন খান বলেন, “বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষ গত ১৬-১৭ বছর ধরে যে আত্মত্যাগ করেছে, আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, ৫ই আগস্ট তারই ফল। এটা আমার গভীর বিশ্বাস।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের এই গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তখন শুধু বিএনপিই ছিল না, বিএনপির সাথে আরও অনেক গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল ছিল। সব মিলিয়ে প্রায় ৪৩টি দল আমরা একসাথেই রাজপথে ছিলাম। এই সবকিছুর ফলে দেশে একটা বিস্ফোরন্মুখ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।” তিনি বলেন, “সেই পরিস্থিতিতেই ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনটি শুরু হয়। এই একই আন্দোলন পাঁচ বছর আগেও একবার হয়েছিল, কিন্তু সরকার তখন অত্যাচার, নির্যাতন আর জুলুম চালিয়ে সেটাকে দমন করে দিয়েছিল। সেটাই আবার নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।” মঈন খান বিষয়টিকে এভাবে ব্যাখ্যা করেন, “সেই বিস্ফোরন্মুখ পরিস্থিতিতে দেশলাইয়ের কাঠি ঘষা দিলে যেমন আগুনের ফুলকি জ্বলে ওঠে, ঠিক তেমনি ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনটি একটা আগুনের ফুলকির মতো কাজ করে। আর তার ফলেই একটা বিস্ফোরণ ঘটে। সেই বিস্ফোরণটিই হচ্ছে ৫ই আগস্ট। যার পরিণতিতে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার কাপুরুষের মতো দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিল। এটাই হলো রক্তাক্ত ৩৬শে জুলাইয়ের আসল ইতিহাস।”

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, “আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার দূর থেকে এই পুরো আন্দোলনটিতে আমাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাকে অনুসরণ করে এবং তার দিকনির্দেশনাতেই, আমি বলবো, আমরা এই আন্দোলনে যুক্ত হয়েছি এবং এক অর্থে সফলও হয়েছি।” তিনি যোগ করেন, “হ্যাঁ, এটা সত্যি যে ৫ই আগস্টে ছাত্ররাই সামনে ছিল। আমি একটা খুব সাধারণ উদাহরণ দিই, ফুটবল খেলে ১১ জন, কিন্তু গোল তো হয়তো একজনই করে। তার মানে এই নয় যে, বাকি ১০ জন সেই খেলায় অংশ নেয়নি, এটা ভাবা ঠিক না। কাজেই, কেউ যদি এই পুরো আন্দোলনকে শুধু ছাত্রদের কৃতিত্ব হিসেবে দেখাতে চান, আমি তাতে বাধা দেবো না। কিন্তু আমি বিনীতভাবে বলবো, সেটা হয়তো সঠিক বিশ্লেষণ হবে না।”

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিকিমে উৎপত্তি: ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু ভূমিকম্প

সংস্কৃতি-শিক্ষা ছাড়া রাজনীতি হয় না, আসুন সত্যিকারের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ি: মঈন খান

আপডেট সময় : ০৪:১৮:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, “সংস্কৃতি, শিক্ষা এবং সমাজকে বাদ দিয়ে কোনো দেশের রাজনীতি চলতে পারে না। আসুন, আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশকে এমন একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক দেশে পরিণত করি, যেখানে মানুষের অধিকার, ভোটের অধিকার, মৌলিক অধিকার এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। আর সবশেষে, এই দেশের কোটি কোটি দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক অধিকারও প্রতিষ্ঠিত হবে।”

তিনি এই কথাগুলো বলেন সোমবার সকালে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে। সেখানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর একটি প্রকাশনা অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা চলছিল।

মঈন খান বলেন, “বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষ গত ১৬-১৭ বছর ধরে যে আত্মত্যাগ করেছে, আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, ৫ই আগস্ট তারই ফল। এটা আমার গভীর বিশ্বাস।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের এই গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তখন শুধু বিএনপিই ছিল না, বিএনপির সাথে আরও অনেক গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল ছিল। সব মিলিয়ে প্রায় ৪৩টি দল আমরা একসাথেই রাজপথে ছিলাম। এই সবকিছুর ফলে দেশে একটা বিস্ফোরন্মুখ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।” তিনি বলেন, “সেই পরিস্থিতিতেই ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনটি শুরু হয়। এই একই আন্দোলন পাঁচ বছর আগেও একবার হয়েছিল, কিন্তু সরকার তখন অত্যাচার, নির্যাতন আর জুলুম চালিয়ে সেটাকে দমন করে দিয়েছিল। সেটাই আবার নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।” মঈন খান বিষয়টিকে এভাবে ব্যাখ্যা করেন, “সেই বিস্ফোরন্মুখ পরিস্থিতিতে দেশলাইয়ের কাঠি ঘষা দিলে যেমন আগুনের ফুলকি জ্বলে ওঠে, ঠিক তেমনি ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনটি একটা আগুনের ফুলকির মতো কাজ করে। আর তার ফলেই একটা বিস্ফোরণ ঘটে। সেই বিস্ফোরণটিই হচ্ছে ৫ই আগস্ট। যার পরিণতিতে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার কাপুরুষের মতো দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিল। এটাই হলো রক্তাক্ত ৩৬শে জুলাইয়ের আসল ইতিহাস।”

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, “আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার দূর থেকে এই পুরো আন্দোলনটিতে আমাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাকে অনুসরণ করে এবং তার দিকনির্দেশনাতেই, আমি বলবো, আমরা এই আন্দোলনে যুক্ত হয়েছি এবং এক অর্থে সফলও হয়েছি।” তিনি যোগ করেন, “হ্যাঁ, এটা সত্যি যে ৫ই আগস্টে ছাত্ররাই সামনে ছিল। আমি একটা খুব সাধারণ উদাহরণ দিই, ফুটবল খেলে ১১ জন, কিন্তু গোল তো হয়তো একজনই করে। তার মানে এই নয় যে, বাকি ১০ জন সেই খেলায় অংশ নেয়নি, এটা ভাবা ঠিক না। কাজেই, কেউ যদি এই পুরো আন্দোলনকে শুধু ছাত্রদের কৃতিত্ব হিসেবে দেখাতে চান, আমি তাতে বাধা দেবো না। কিন্তু আমি বিনীতভাবে বলবো, সেটা হয়তো সঠিক বিশ্লেষণ হবে না।”